কাজু বাদাম খাওয়ার ২০ টি উপকারিতা অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

আনারস খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনারা কি কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা জানতে চাচ্ছেন? যদি আপনারা কাজুবাদাম খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতাএবং কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

কাজু বাদাম খাওয়ার ২০ টি উপকারিতা অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

এই আর্টিকেল টিতে আমরা আরো আলোচনা করব কাজুবাদাম কখন খেতে হবে? কাজুবাদাম খেলে কি ওজন বাড়বে? গর্ভাবস্থায় কাজুবাদাম খাওয়া নিরাপদ নাকি ক্ষতিকর এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।

পোস্ট সূচীপত্র

কাজু বাদাম খেলে কি ওজন বাড়ে

আপনার কি ওজন অনেক কম? আপনার রোগা পাতলা চেহারা শরীর নিয়ে কি সবায় মজা করে? আপনি কি চিন্তা করছেন যে কিভাবে আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি করবেন? আপনি কি আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি করার জন্য বেশি বেশি খাবার খাচ্ছেন?  তাহলে আপনার জন্য রয়েছে একটি সুখবর যে কিভাবে আপনি আপনার শরীর ওজন বৃদ্ধি করবেন।

ওজন বৃদ্ধি করার জন্য আপনারা এত চিন্তা বাদ দিয়ে খুব সহজ উপায়ে শরীর ওজন বৃদ্ধি করুন। শরীরের ওজন বৃদ্ধি করার জন্য আপনার খাদ্য তালিকায় আজই কাজুবাদাম যুক্ত করুন। হ্যাঁ বন্ধুরা কাজু বাদাম খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। পুষ্টিবিদ্যা জানিয়েছেন যে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিদিন ৭ টা করে কাজু বাদাম খাওয়া খুব উপকারী।

কাজুবাদাম খেলে শরীরের ওজন বাড়ে কারণ কাজু বাদামে রয়েছে অধিক পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, ফসফরাস, ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন এ , ভিটামিন বি ইত্যাদি আরো প্রয়োজনীয় উপাদান। কাজু বাদামে অধিক পরিমাণ প্রোটিন ও  ক্যালরি বিদ্যামান।

তাই রোগা পাতলা শরীর থেকে মুক্তি পেতে এবং সুন্দর স্বাস্থ্যবান জীবন যাপন করতে প্রতিদিন অন্তত ৭টি কাজু বাদাম খেতে হবে। কারণ কাজু বাদামে রয়েছে পরিমাণ পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন যেগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ওজন বৃদ্ধি করে।

সকালে খালি পেটে কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৫টি কাজু বাদাম খেলে মস্তিষ্ক এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • প্রতিদিন সকালে কাজুবাদাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে।
  • খালি পেটে কাজুবাদাম খেলে কাজুবাদামে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাজু বাদাম খেলে চুলের গোড়ার শক্ত হয় এবং চুল পড়া দূর হয়।
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাজু বাদাম খেলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায় যার ফলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। 
  • প্রতিদিন সকালে কাজু বাদাম খেলে আমাদের হার্ট সুস্থ থাকে।
  • কাজুবাদামের উপস্থিতি গুড ফ্যাট কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধ করে।
  • প্রতিদিন সকালে কাজু বাদাম খেলে কাজু  বাদামে উপস্থিত প্রো অ্যান্থোসায়ানিডিন টিউমার সৃষ্টিকারী কোষ কে ধ্বংস করে। 
  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাজুবাদাম খেলে আমাদের শরীর খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমতে থাকে এবং শরীরের প্রচুর পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করে।
  • কাজু বাদামে উপস্থিত কপার এবং  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

গর্ভাবস্থায় কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম

  • গর্ভবতী অবস্থায় কাজুবাদাম খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে এলার্জি পরীক্ষা করে নিতে হবে। কাজুবাদাম খাওয়ার পরে যদি এলার্জি জনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাহলে মা এবং শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকের সম্ভাবনা থাকে। তাই কাজুবাদাম খাওয়ার আগে অবশ্যই এলার্জি পরীক্ষা করে নিকটস্থ ডাক্তারের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
  • গর্ভবতী অবস্থায় কাজু বাদাম খাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে কাজুবাদামটি সতেজ এবং পুষ্টিকর। গর্ভবতী অবস্থায় কোনমতেই খারাপ বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কাজুবাদাম খাওয়া উচিত নয়। 
  • কাজুবাদাম খাওয়ার সময় অবশ্যই লবণ এবং চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করবেন তাছাড়া অধিক পরিমাণ লবণ খাওয়ার কারণে গর্ভবতী অবস্থায় প্রেসার বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • গর্ভবতী মাকে কাঁচা কাজুবাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে নয়তো এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিবে।
  • গর্ভবতী মাকে কাঁচা বাদামের পরিবর্তে কাজুবাদাম ভেজে দিতে হবে।
গর্ভবতী মা কে কাজু বাদাম খাওয়ানোর সময় অবশ্যই উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে এবং উপরেও নিয়ম মেনেই খাওয়াতে হবে। আপনি যদি উপরে বর্ণিত নিয়ম মেনে পরবর্তী মাকে কাজুবাদাম খাওয়ান তাহলে মা এবং বাচ্চার দুজনেই সুস্থ এবং পুষ্টিকর হবে। 

গর্ভাবস্থায় কাজুবাদাম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় কাজুবাদাম খাওয়ার উপকারিতা গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো,

  • শক্তি সরবরাহ করতেঃ গর্ভবতী অবস্থায় শরীরে ক্লান্তি বোধ বেশি হয় হাঁটাচলা করা যায় না এমতাবস্তায় প্রয়োজন শরীরে অধিক পরিমাণ শক্তির সরবরাহ। কাজুবাদামে রয়েছে অধিক পরিমাণ ক্যালরি এবং ভিটামিন যা শরীরের শক্তি সরবরাহ করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেঃ কাজুবাদামে উপস্থিত ভিটামিন সি ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  গর্ভবতী মা এবং গর্ভে অবস্থিত শিশু দুজনেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • হাড়কে সুস্থ রাখতেঃ কাজু বাদামে রয়েছে ফসফরাস,কপার, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার,ক্যালসিয়াম যেগুলো হাড়ের দুর্বলতা এবং ভঙ্গুরতা দূর করে। গর্ভবতী অবস্থায় গর্ভবতী মায়ের হাড়ের সমস্যা প্রতিরোধ করতে দ্রুত সাহায্য করে কাজুবাদাম।
  • রক্তশূন্যতা দূর করতেঃ গর্ভবতী অবস্থায় মা এবং শিশুর দুজনেরই রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এমতাবস্থায় যদি গর্ভবতী মাকে কাজুবাদাম খাওয়ানো হয় তাহলে কাজু বাদামে উপস্থিত আয়রন রক্তের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • আয়রনের মাত্রা বজায় রাখতেঃ কাজুবাদাম মা এবং গর্ভ শিশুর দুজনের শরীরে আয়রনের মাত্রা বজায় রাখে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ কাজুবাদামে উপস্থিত ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে গর্ভবতী মায়ের। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা ও দূর হয়।
  • শিশুর বিকাশে সহায়তাঃ কাজু বাদামে উপস্থিত ভিটামিন কে ভিটামিন ই ভিটামিন সি ভিটামিন এ ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান শিশুর মানসিক এবং দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • প্রোটিনের সরবরাহ করতেঃ গর্ভবতী অবস্থায় শিশুর অধিক পরিমাণ প্রোটিন। কাজুবাদাম হল প্রোটিনের উদ্ভিজ্জ উৎস যেটি মা এবং শিশুর শরীরে প্রোটিন সরবরাহ করে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেঃ কাজুবাদামে উপস্থিত চর্বি উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় যার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে থাকে। 

কাজু বাদাম ও কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম

কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম দুটি হচ্ছে অধিক পরিমাণ ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ড্রাই ফ্রূট। কাজুবাদাম আমরা বিভিন্নভাবে খেতে পারি শুকনোও খেতে পারি জলে ভিজিয়েও খেতে  পারি। রান্নার কাজে কাজুবাদাম এবং কাঠ বাদাম খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে। আবার অনেকে কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম একসাথে ম্যাশ করেও খেতে পারেন।

আপনি চাইলে কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালেও খেতে পারবেন। ভিজিয়ে রাখা কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম খেলে দ্রুত হজম হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকেও উপশম পাওয়া যায়।

কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম যেহেতু উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন একটি খাবার তাইয়ের সাথে অধিক পরিমাণ চিনি বা মধু যুক্ত না করাই ভালো। কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম আপনি চাইলে নাস্তার সাথেও খেতে পারেন।

কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম একসাথে মিশিয়ে ও খাওয়া যায়। কাজুবাদাম এবং কাঠ বাদাম দিয়ে পায়েস রান্না করে খেলে খুব সুস্বাদু হয়। এছাড়াও আপনি চাইলে কাজুবাদাম এবং কাঠবাদাম শুকনো খেতে পারেন। শুকনো কাজুবাদাম এবং কাঠ বাদাম খাওয়ার কারণে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

প্রতিদিন কয়টা কাজু বাদাম খাওয়াউচিত

ওজন নিয়ে আমরা সকলেই চিন্তিত কিভাবে ওজন কমাবো? কোন খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে? শরীরে মেদ চর্বির পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে কিভাবে কমাবো? রক্তশূন্যতায় ভুগছেন কিভাবে রক্ত শোনা থেকে উপশম পাবেন? এই সকল সমস্যা নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তা করে এবং এই রোগ থেকে উপশম পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ওষুধ সেবন করি।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা কত কিছুই না করে থাকি যেমন জিম করি, হাঁটাচলা করার অভ্যাস গড়ে তোল্‌ আমাদের পছন্দের খাবারগুলো আমরা একসময় খাওয়া ছেড়ে দিই আমরাই সব কিছুই করি শুধুমাত্র আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য।

সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন যে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কাজুবাদাম খুব উপকারী। কাজু বাদামে রয়েছে অধিক পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফলিক এসিড যেটি শরীরের অতিরিক্ত মেয়ের চর্বি কমিয়ে দেয় পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাহলে অবশ্যই এখন প্রশ্ন জাগছে যে এই কাজুবাদামে কি এমন উপাদান রয়েছে যেটা আমাদের এতগুলো সমস্যার সমাধান করছে?

কাজো বাদামের রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম , জিংক, কপার, লোহ, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ভিটামিন বি ১২ ,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি উপাদান। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে পাশাপাশি শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে।

তাই আপনি যদি আমার মত এই সকল সমস্যাতে জর্জরিত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার খাদ্য তালিকায় কাজুবাদাম যুক্ত করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখো। এখন আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন যে প্রতিদিন কয়েকটা কাজু বাদাম খেলে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

হ্যাঁ বন্ধুরা এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব যে প্রতিদিন ৭ -৮ টি কাজু বাদাম খেলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে হ্যাঁ অধিক পরিমাণ কাজুবাদাম খেতে যাবেন না কারণ কাজুবাদাম যেহেতু অধিক পরিমাণ ক্যালরি সম্পন্ন একটি খাবার তাই ওজন বেড়ে যেতেও পারে।

কাজুবাদাম যে শুধু অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে সেটা নয় বরং রোগা শরীর বা ওজন কম এরকম শরীরের মাত্রা সঠিক রাখতেও কাজুবাদাম উপকারী। কাজ বাদামে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলে এবং ওজন সঠিক মাত্রায় নিয়ে আসে।

কাজুবাদামে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের পাকস্থলীতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টা বিদ্যমান  থাকে যার কারণে ক্ষুধা কম লাগে ফলে ফাস্ট ফুড, স্ট্রিট ফুড ,এগুলো খাওয়া থেকে আমরা বিরত থাকতে পারি। আমরা অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকলে  আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

কাজু বাদাম কি ভেজে খেতে হয়

কাজুবাদাম আমরা সকলেই খেয়ে থাকি এবং আমরা জানি যে কাজ বাদাম খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে অতিরিক্ত মেদ চর্বি কমে যায়। কাজুবাদাম খাওয়ার কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের ক্লান্তি বোধ দূর হয়।

কিন্তু প্রশ্ন আসে যে কাজু বাদাম কে ভেজে খাওয়া উচিত নাকি কাঁচা খাওয়া উচিত? এক্ষেত্রে বলবো যে ভেজে খাওয়া এবং কাঁচা খাওয়া যেভাবেই হোক না কেন পুষ্টি রয়েছে এই কাজু বাদামে। তবে কাজুবাদাম ভাজলে এর গুনাগুন কিছুটা নষ্ট হয় ঠিক তেমনি কাঁচা কাজু বাদাম খেলে অনেকের এলার্জি, পেট ফাঁপার সমস্যা হয়।

তাই যে সকল ব্যক্তির কাঁচা বাদাম খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় তারা ভেজে খেতে পারেন। তাই বলব যে কাজুবাদাম ভেজে অথবা কাঁচা যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন এটা আমাদের শরীরের অনেক অনেক অনেক উপকার করবে। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজুবাদাম খাওয়ার উপকারিতা অনেক এবং সেটা সঠিক নিয়মে খেতে হবে। 

কাজু বাদামের ক্ষতিকর দিক

শরীরকে সুস্থ এবং তাৎক্ষণিক এনার্জি প্রদানের জন্য আমরা কাজুবাদাম খেয়ে থাকি। এছাড়াও আমরা সন্ধ্যা বেলার নাস্তা এবং সকালের চায়ের সাথেও কাজুবাদাম খেয়ে থাকে। কাজুবাদাম খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্ত পরিষ্কার থাকে।

কাজ বাদাম খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরের এতগুল উপকার হয় কিন্তু অধিক পরিমাণ কাজুবাদাম খাওয়ার ফলে শরীরের ক্ষতিও হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক অধিক পরিমাণ কাজ বাদাম খেলে আমাদের শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে,
  • অধিক পরিমাণ কাজ বাদাম খাওয়ার কারণে শরীরের স্থূলতা বাড়ে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের অধিক পরিমাণ কাজুবাদাম খাওয়ার কারণে রক্তের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • কাজু বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। অধিক পরিমাণ কাজ বাদাম খাওয়ার কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । যদি কোন ব্যক্তি কিডনির পাথর জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  • অধিক পরিমান কাজু বাদাম খাওয়ার কারণে  ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হয়ে থাকে। কাজু বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। আর অধিক পরিমাণে কাজু বাদাম খাওয়ার কারণে শরীরের পানি কম টানে যার কারণে ফাইবার গুলোর দ্রবীভূত হয় না যার ফলে ডিহাইড্রেশন এর সমস্যা দেখা দেয়।
  • অধিক পরিমাণ কাজুবাদাম খাওয়ার কারণে শরীরে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে আয়রন গুলো ফুসফুসে জমা হয় যার কারণে ফুসফুসের সমস্যা দেখা দেয়। ফুসফুসের সমস্যার ফলে হাঁপানি বা অ্যাজমা জনিত সমস্যা হয়ে থাকে।
উপরে বর্ণিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো অতিরিক্ত কাজুবাদাম খাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। তাই কাজ বাদাম খাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যা আপনি কি পরিমাণ মত কাজ বাদাম খাচ্ছেন নাকি অধিক পরিমাণ খাচ্ছেন। কাজু বাদাম খাওয়ার বেশ অপকারিতা সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। 

শেষ কথা-কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ও কাজ বাদাম খাওয়ার  নিয়ম

আজকের এ আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে কাজ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা এবং কাজুবাদাম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য জানানোর চেষ্টা করেছি। আপনারা যদি আমার আর্টিকেল টি পড়ে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং নিয়মিত আমার  সাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url