প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত-গর্ভবতী মায়ের কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

কিসমিস খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত গর্ভবতী মায়ের কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি এ সকল বিষয় নিয়ে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে কারণ আজকের আর্টিকেলে আমি কিসমিস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত -গর্ভবতী মায়ের কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার নিয়ম ভিজিয়ে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা শুকনো কিসমিস খেলে কি উপকার হয় এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

 প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

কিসমিস হল সুস্বাদু এবং মুখরোচক একটি খাবার যেটি আমরা শুকনো খাবার হিসেবেই খেয়ে থাকি। কিসমিস রান্নার কাজেও ব্যবহৃত হয় যেমন পায়েশ ক্ষীর সেমাই রান্নাতে মেশালা বেটির খাবারের মান এবং স্বাদ বৃদ্ধি করে। এই কিসমিসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কপার লোহ , ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপাদান।

আরও পড়ুনঃ আখের গুড়ের শরবত খেলে কি কি উপকার হয় জেনে নিন

এখন অনেকেরই মনে এই প্রশ্ন জাগে যে প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খেলে আমাদের শরীরের জন্য এটি ভালো হবে? পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন যে, কিসমিসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ফাইবার যেগুলো আমাদের খাবার হজম করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে পাশাপাশি পেটকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও কিসমিসের রয়েছে অধিক পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট যেগুলো পাকস্থলীর বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

তাই আমরা যদি আমাদের পাকস্থলের ব্যাকটেরিয়া গুলোকে কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট এর মাধ্যমে ধংস করতে চায় তাহলে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস উত্তম। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন যে তার শরীর অনেক দুর্বল তবে সে তার শরীরের দুর্বলতা কমানোর জন্য এবং দ্রুত শরীরে এনার্জি ফিরে আনার জন্য ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম কিসমিস খেতে পারেন।

এছাড়া পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস খাওয়ার কারণে আমাদের হার্ট  সুস্থ থাকে। কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে যার কারণে স্ট্রোক হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ব্লক জনিত সকল জটিল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

তাহলে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে প্রতিদিন যদি 40 থেকে 50 গ্রাম কিসমিস খায় তবেই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তাই আপনার নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় কিসমিস যুক্ত করুন।

সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার নিয়ম

কিসমিস হল অধিক পরিমাণ ফাইবার এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি  করে যেমন পায়েশ বিভিন্ন রকমের ক্ষীর সেমাই রান্না করতে ব্যবহৃত হয় ঠিক তেমনি এটি যদি প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া যায় তবে অনেক উপকার পাওয়া যায়। কিসমিস খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ায় অধিক উত্তম। প্রতিদিন কিসমিস 

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে কিসমিসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও যাদের  কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তা যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কিসমিস খায় তবে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার জন্য আগের দিন রাতে ৪ থেকে ৬টি কিসমিস ভালো করে পরিষ্কার করে একটা বাটিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা
প্রায় ৬ ঘন্টা কিসমিস ভিজে রাখার কারণ কিসমিস গুলো পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে যেগুলো আমাদের শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দুর্বলতা দূর করে। কিসমিস লিভার কেউ সুস্থ রাখে। এছাড়াও কিসমিস ভিজিয়ে রাখা পানি গুলো খেলে লিভারে যদি কোন রকমের সমস্যা বা দাগ হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।

সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

আপনি কি এর আগে কখনো খালি পেটে কিসমিস খাননি? তাহলে অবশ্যই এখন থেকে সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো জানলে অবাক হয়ে যাবেন তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি,
  •   রক্তস্বল্পতা দূর করতেঃ উপস্থিত আয়রন এবং অধিক পরিমাণ লৌহ শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতেঃ রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় তখন শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় কিন্তু যদি প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়া হয় তবে কিসমিসে উপস্থিত  লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ অধিক পরিমাণ ফাইবার তো রয়েছে কিন্তু সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার কারণে এটি প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে যেতে পাকস্থলীতে গিয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন বি ভিটামিন সি রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের প্রকোপ থেকে রক্ষা করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের উচ্চ চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  হার্ট সুস্থ রাখতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে যার কারণে হার্টের সঠিক মত রক্ত সরবরাহ হয় যার কারণে হার্ট সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক থাকে।
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেঃ কিসমিস উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকের নিয়ন্ত্রণে রাখে যার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে যার কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • শরীরে লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেঃ আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে যে ধরনের তরকারি রান্না করে খায় তার মাধ্যমে আমাদের শরীরে অধিক পরিমাণ সোডিয়াম জমা হয় কিন্তু কিসমিস আমাদের শরীরের সোডিয়ামকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরকে শক্তি যোগাতেঃ শরীরের শক্তি বা এনার্জি যোগাতে কিশমিশে উপস্থিত ক্যালসিয়াম শর্করা গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ খুব উপকারী।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কিসমিস উপস্থিত এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • কোলেস্টেরল কমাতেঃ কিসমিসের দ্রবণীয় ফাইবার লিভারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায়।
  • চোখের সমস্যা দূর করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট চোখের সানি পড়া চোখে ঝাপসা দেখা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • অনিদ্রা দূর করতেঃ ভেজানো কিসমিসে উপস্থিত ব্রণ অনিদ্রা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • ত্বকের যত্নেঃ কিস মিসে উপস্থিত ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিংক ক্যারোটিয়ান ত্বককে পুষ্টি যোগায় যার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং রোদে পরা ভাব থেকে মুক্ত থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ কিসমিস ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
কিসমিস খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরের উপরোক্ত উপকার হয়। নিয়মিত প্রতিদিন কিসমিস খেলে উপরে বর্ণিত উপকারগুলো ছাড়াও অনেক উপকার হয় যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না তাই আপনারাও নিয়মিত কিসমিস খান এবং সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপন কাটান।

দুধ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা 

কিসমিস এবং দুধ এক সাথে খাওয়ার কারণে এটির স্বাস্থ্যের অনেক উপকার করে। দুধে উপস্থিত ল্যাকটেক অ্যাসিড এবং কিসমিসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের মরে যাওয়া কোষ গুলোকে সতেজ করে তোলে। দুধ এবং কিসমিস একসাথে মিশ্রিত করে খেলে হার্ট এবং পাকস্থলী জীবাণুমুক্ত থাকে।

আমাদের খাদ্যের সাথে আমরা প্রতিদিন অধিক পরিমাণ সোডিয়াম লবণ হিসেবে খেয়ে থাকি কিন্তু এটি শরীরে অধিক পরিমাণ জমা হলে বিভিন্ন রকমের ক্ষতি হয় কিন্তু কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম এবং দুধের  ল্যাক্টিক অ্যাসিড শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম কে প্রশমিত করে।


আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের শরীরের ওজন অনেক কম যাদেরকে দেখতে রোগা লাগে তারা তাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধির জন্য অনেক চিন্তিত থাকে। তাই তারা যদি তাদের শরীরের ওজন প্রাকৃতিকভাবে কোনো রকমের ওষুধ সেবনের মাধ্যমে বৃদ্ধি না করতে চাই তাহলে প্রতিদিন দুধের মধ্যে কিসমিস মিশিয়ে খেলে তার শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাবে।


শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে যেমন কিসমিস উপকারী ঠিক তেমন শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতেও কিসমিস খুব উপকারী। এছাড়াও যে সকল পুরুষ মানুষের শুক্রাণুর পরিমাণ কম তারা যদি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস এবং দুধ খায় তবে তাদের শুক্রাণুর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও কিসমিসের সাথে দুধ এবং মধু মিশ্রিত খেলে যৌন শক্তি ও বৃদ্ধি পায়। কিসমিস ও ও দুধে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট লিভারকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়াও শরীরের দুর্বলতা ক্লান্তিবোধ দূর করতে দুধ এবং কিসমিসের উপকারিতা অতুলনীয়।


দুধ এবং কিসমিসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম হাড়ের ভঙ্গরতা দূর করে পাশাপাশি হাড় ক্ষয় হয়ে যায় সেই সকল হারকে পুষ্টি সরবরাহ করে হারকে সুস্থ ও মজবুত করে তোলে। দুধ এবং কিসমিস একসাথে মিশ্রিত করে খাওয়ালে রক্তশূন্যতা দূর হবে পাশাপাশি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। আবার প্রতিদিন রাতে যদি দুধ এবং কিসমিস খাওয়া হয় তবে স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে।

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

কিসমিস হল উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার একটি ভিজেও খাওয়া হয় আবার শুকনো খাওয়া হয়। কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার কারণে এটি পাকস্থলীতে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট কে পরিষ্কার রাখে। পাশাপাশি কিসমিস ভিজিয়ে রাখা পানি গুলো খেলে লিভারের দাগ বা স্পট দূর হয়। মূল কথা হলো যে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিসমিস কে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তাহলে চলুন জেনে নেই ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো,
  • রক্তশূন্যতা দূর করতেঃ রাতে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস সকালে খাওয়ার কারণে কিসমিসে উপস্থিত আয়রন এবং অধিক পরিমাণ লৌহ শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতেঃ রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় তখন শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় কিন্তু যদি প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়া হয় তবে কিসমিসে উপস্থিত  লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ অধিক পরিমাণ ফাইবার তো রয়েছে কিন্তু সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার কারণে এটি প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে যেতে পাকস্থলীতে গিয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন বি ভিটামিন সি রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের প্রকোপ থেকে রক্ষা করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের উচ্চ চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  হার্ট সুস্থ রাখতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে যার কারণে হার্টের সঠিক মত রক্ত সরবরাহ হয় যার কারণে হার্ট সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক থাকে।
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেঃ কিসমিস উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকের নিয়ন্ত্রণে রাখে যার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে যার কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • শরীরে লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেঃ আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে যে ধরনের তরকারি রান্না করে খায় তার মাধ্যমে আমাদের শরীরে অধিক পরিমাণ সোডিয়াম জমা হয় কিন্তু কিসমিস আমাদের শরীরের সোডিয়ামকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরকে শক্তি যোগাতেঃ শরীরের শক্তি বা এনার্জি যোগাতে কিশমিশে উপস্থিত ক্যালসিয়াম শর্করা গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ খুব উপকারী।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কিসমিস উপস্থিত এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • কোলেস্টেরল কমাতেঃ কিসমিসের দ্রবণীয় ফাইবার লিভারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায়।
  • চোখের সমস্যা দূর করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট চোখের সানি পড়া চোখে ঝাপসা দেখা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • অনিদ্রা দূর করতেঃ ভেজানো কিসমিসে উপস্থিত ব্রণ অনিদ্রা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • ত্বকের যত্নেঃ কিস মিসে উপস্থিত ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিংক ক্যারোটিয়ান ত্বককে পুষ্টি যোগায় যার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং রোদে পরা ভাব থেকে মুক্ত থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ কিসমিস ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

গর্ভবতী মায়ের কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভবতী অবস্থায় মাকে সেই সব খাবার খাওয়াতে হবে যেগুলোর মাধ্যমে মা এবং বাচ্চা দুজনের শরীরের পুষ্টি সরবরাহ হয়। গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মাকে যদি নিয়মিত কিসমিস খাওয়ানো হয় তবে অনেক সুফল পাওয়া যায়। এমনিতেও গর্ভাবস্থায় পরবর্তী মহিলারা বমি করেন যার কারণে তারা শুকনো খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন তবে সেই শুকনো খাবারের মধ্যে কিসমিস যুক্ত করলে বাচ্চা এবং মা দুজনেই সুস্থ থাকবে।

  • রক্তের ঘাটতে দূর করতেঃ গর্ভবতী মা কে কিসমিস খাওয়ালে কিসমিসে উপস্থিত আয়রন বাচ্চা এবং গর্ভবতী মা দুজনের শরীরেই রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে আর ডেলিভারির সময় গর্ভবতী মায়ের রক্ত শূন্যতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই গর্ভবতী মা কে কিসমিস খাওয়ানো খুব খুব খুবই উপকারী।
  • গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেঃ গর্ভবতী মা কে সেই সকল খাবার খাওয়াতে হবে যেগুলো খাওয়ার ফলে তার পায়খানার কষা বা কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়। তার জন্য ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে আর কিসমিসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ফাইবার গর্ভাবস্থায় মাকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষিত রাখে।
  • গর্ভবতী মায়ের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ গর্ভাবস্থায় হজম শক্তি বা বদহজম যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে নয়তো অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মাকে সেই সকল খাবার খাওয়াতে হবে যেন তার হজমে কোন সমস্যা না হয়। কিসমিসে অধিক পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে গর্ভবতী মায়ের হজমে কোন সমস্যা হয় না।
  • পুষ্টির সরবরাহ করতেঃ গর্ভবতী অবস্থায় গর্ভবতী মাকে অধিক পরিমাণ পুষ্টি সম্পন্ন খাবার খাওয়াতে হবে কারণ মা যে সকল খাবার গ্রহণ করবে সেই সকল খাবার থেকে বাচ্চাও তার প্রয়োজন পরিমাণ পুষ্টি সোজন করে নেবে। তাই মাকে অধিক পরিমাণ পুষ্টি সম্পন্ন খাবার যেমন কিসমিস অ্যাপেল ড্রাগন ফল বিভিন্ন শাকসবজি খাওয়াতে হবে যেন মা এবং বাচ্চার শরীরে পুষ্টির কোন অভাব না হয়।
  • ক্লান্তি বা দুর্বলতা বহুদূর করতেঃ গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মা বমি করেন যার কারণে তার শরীরে ক্লান্তিবো চলে আসে বেশি হাঁটাচলা করতে পারেন না অল্প একটু হাঁটাচলা করলে হাঁপিয়ে ওঠেন। এই সকল সমস্যা থেকে গর্ভাবস্থায় পরিত্রাণ পেতে কিসমিস খুব উপকারী কারণ কিসমিসের উপস্থিত রয়েছে গ্লুকোজ এবং ফ্রূক্টোটজ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ,এন্টিঅক্সিডেন্ট যেগুলো শরীরের তাৎক্ষণাৎ এনার্জি প্রদান করে।

তবে হ্যাঁ গর্ভাবস্থায় যেমন কিসমিস খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতাও রয়েছে যেহেতু কিসমিস উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন একটি ড্রাই ফ্রূট তাই অধিক পরিমাণ কিসমিস খাওয়ানো যাবে না গর্ভবতী মাকে নয়তো গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস জনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন।

তাই আমি বলব যে গর্ভবতী মা কে কিসমিস খাওয়ানোর বিষয় একটু সতর্ক থাকতে হবে এমনটা না যে খাওয়ানো হবে না, খাওয়াতে হবে কিন্তু প্রয়োজন মত। গর্ভবতী মাকে শরীরে পুষ্টি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান সরবরাহের জন্য প্রতিদিন ৫০ গ্রাম থেকে ৬০ গ্রাম কিসমিস খাওয়ানো যথেষ্ট।

লেখকের মন্তব্য-প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত- গর্ভবতী মায়ের কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি গর্ভবতী মাকে কতটুকু কিসমিস খাওয়ানো উচিত এবং কিসমিস খাওয়ালে কি কি উপকার হবে এই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি পাশাপাশি একটি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খেতে পারবে সেটা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। একটি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস খেতে পারবে।


গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মাকে কিসমিস খাওয়ালে অনেক উপকার পাওয়া যাবে পাশাপাশি বাচ্চা এবং মা দুজনের সুস্থ থাকবে তাই গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম কিসমিস খাওয়ানো যথেষ্ট এবং উপকারী। আশা করছি আজকের এ আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই  কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url