আনারসের ৩০ টি উপকারিতা ও অপকারিতা-গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়

কিসমিস খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনারা কি জানেন আনারস খাওয়ার উপকারিতা-অপকারিতা গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি ক্ষতি হয় নাকি উপকার হয়? আপনি যদি এই সকল তথ্য না জানেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

আনারসের ৩০ টি উপকারিতা ও অপকারিতা-গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়

এ আর্টিকেলটিতে আরো আলোচনা করা হবে খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা, আনারস খাওয়ার নিয়ম, আনারস খেলে কি কৃমি দূর হয়, এছাড়াও আনারস খেলে কি অ্যালার্জি হতে পারে এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আনারসে কোন এসিড থাকে

আনারস হচ্ছে একটি মৌসুমী ফল। এই ফলটি অনেকেই খেয়ে থাকেন কিন্তু আমরা জানিনা যে আনারসের কোন এসিড থাকে। কিন্তু আমাদের কোন কিছু খাবার আগে সেই ফল বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা দরকার। আমাদেরকে জানতে যে আনারসের কোন অ্যাসিড বিদ্যমান থাকে?

আনারসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ম্যালিক এসিড। কিন্তু আনারস যখন পেকে যায় তখন আনারসের মধ্যে জৈবিক ক্রিয়া ঘটে যার কারনে  আনারসের ম্যালিক এসিড গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ এর সাথে জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া করে ইথাইল এসিটেট এ পরিণত হয়।

আনারস খেলে কি এলার্জি হয়

আনারস হল একটি মিষ্টি জাতীয় ফল এবং লো ক্যালোরি সম্পন্ন একটি ফল। আনারস খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় কারণ আনারসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ফাইবার। আনারস খেলে গলা ব্যথা বুকের ব্যথা ভালো হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে। পাকা আনারস খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং রক্ত জমাট বাধা দূর করে।

আরও পরুনঃ চর্ম এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

এখন আমাদের মধ্যে অনেকেরই আনারস খেলে এলার্জি হয়। আমাদের অনেকেরই যে কোন খাবারে এলার্জি থাকে তাই আনারস খেলেও এলার্জি হবে এটা খুব স্বাভাবিক। আনারস খেলে যদি শরীরে এলার্জি চুলকানি ফুসকুড়ি হয় তাহলে  আনারস খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।

আনারস খেলে এলার্জি হয় কারণ আনারসে উপস্থিত ইথাইল এসিটেট রক্তের এলার্জির উদ্দীপনাকে বৃদ্ধি করে যার কারণে এলার্জি খাওয়ার সাথে সাথে আপনার গলা চুলকায় এবং শরীরে ফুসকার হ্রাস বের হয়। এই সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায় যদি আর মানুষের সাথে লবণ খাওয়া যায়।

আনারস খেলে কি কৃমি দূর হয়

আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম,ভিটামিন, শর্করা, ফ্যাট, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২ এবং রয়েছে অধিক পরিমাণ ক্যালরি। আনারস খাওয়ার কারণে আমাদের চোখের জ্যোতি ভালো থাকে। আনারস খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং রক্তে জমাট বাধা দূর হয়। হার্ট সুস্থ থাকে, রক্তের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত থাকে।

আপনাদের অনেকের মনে একটি প্রশ্ন রয়েছে যে আনারস খেলে কি কৃমি দূর হয়? আপনাদের মত আমার মনে হয়ে প্রশ্নটি রয়েছে তাই তো আমি এই বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে আপনাদের জানানোর জন্য আর্টিকেলটি লিখছি।

আরও পড়ুনঃ লেবুর শরবত খেলে কি কি উপকার হয়

হ্যাঁ বন্ধুরা আনারস খেলে কৃমির দূর হয় এটি বিজ্ঞানীভাবে প্রমাণিত। পুষ্টিবিদ্যা জানিয়েছেন যে, আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলিন এনজাইম পাকস্থলীতে গিয়ে কৃমি ধ্বংস করে। পেটে কৃমি হলে খিদে লাগে না শরীর কেমন যেন অবসাদ অনুভূত হয় এবং ক্লান্ত লাগে। আবার অনেকের বমি হয় পাতলা পায়খানাও হয়ে থাকে।

তাই আপনি যদি কৃমি জনিত উপরোক্ত সমস্যা বা লক্ষণ বুঝতে পারেন। তাহলে টানা তিন থেকে চার দিন যদি আপনি আনারস বা আনারসের রস খেয়ে থাকেন তাহলে আপনার পাকস্থলীতে উপস্থিত কৃমি মারা যাবে এবং আপনি দ্রুত কৃমির উপসর্গ জনিত সমস্যা থেকে রক্ষা পাবেন।

আনারস খেলে কি গ্যাস হয়

আনারস হলো একটি গ্রীষ্মকালীন ফল কিন্তু এখন এটি প্রায় সবসময় পাওয়া যাচ্ছে বৈজ্ঞানিক কৃত্রিম চাষাবাদের কারণে। আনারস খেলে অনেক তো উপকার পাওয়া যায় আমরা সকলেই জানলাম।কিন্তু এখন অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে আনারস খেলে কি গ্যাস হয়?

আনারস হচ্ছে একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ফল যেটি আমরা সকলেই খাই। এখন হঠাৎ করে যদি আমরা জানতে পারি যে আনারস খাওয়ার কারণে গ্যাস হয় তাহলে কি আমরা আনারস খাওয়া বাদ দিয়ে দিব? নিশ্চয় বাদ দিতে পারব না কারণ আনারস খেতে আমার খুব ভালোবাসি কারণ এটা আমাদের শরীরে উপকার করে পাশাপাশি মিষ্টি এবং সুস্বাদু ফল যেটা আমরা সকলেই খেতে ভালবাসি? 

কিন্তু এই মিষ্টি সুস্বাদু ফল খাওয়ার কারণে অনেকের  গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। তবে এখানে একটা কথা বলব যে সকলের কিন্তু সমস্যা হয় না যে সকল ব্যক্তি ফ্রকটোজোর ওপর সংবেদনশীল তাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।

এলার্জি হয় মূলত রক্তে এলার্জির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে। আর আনারসে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেট রক্তে এলার্জির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে। তাই  আমাদের মধ্যে যে সকল ব্যক্তির তীব্র এলার্জি জনিত সমস্যা রয়েছে তারা আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। 

পরিশেষে একটি কথা যে আনারস খাওয়ার কারণে এলার্জির জনিত সমস্যা হয় সেই সকল ব্যক্তির যে সকল ব্যক্তির তীব্র অ্যালার্জির জনিত সমস্যা রয়েছে। তাই আপনার যদি তীব্র অ্যালার্জি বা যে কোন খাবারে এলার্জি হয় তাহলে আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

পাশাপাশি সুস্থ স্বাভাবিক এবং অন্য ব্যক্তিরা আনারস নিরাপদে খেতে পারেন কারণ আর আজ হচ্ছে খুবই সুস্বাদু পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি ফল।

আনারস খাওয়ার নিয়ম 

আনারস খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। আপনি চাইলে দিনে যে কোন সময়ে আনারস খেতে পারেন। কিন্তু যদি আনারস খাওয়ার কারণে আপনার পেটে ব্যথা বা বমি হয় তাহলে আপনি খাওয়ার পূর্বে খেতে পারেন। এছাড়াও অনেকেরে আনারস খেলে গলা চুলকায়। আপনার যদি এই সমস্যা দেখা দেয় যে, আনারস খেলে গলার চুলকাচ্ছে?

তাহলে আনারস খাওয়ার পূর্বে আনারস টি ভালো করে কেটে নিয়ে লবণ মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা লবণ মিশ্রিত পানিতে ডুবে রাখার পরে আনারস গুলো খান তাহলে আর গলা চুলকাবে না।

আনারস যেহেতু লো ক্যালোরি সম্পন্ন একটি ফল তাই এটি আপনি আপনার ডায়েট চারটে ও যুক্ত করতে পারেন। ব্যায়াম করার পর শরীর যখন ক্লান্ত হয় তখন দ্রুত শরীরে এনার্জি ফিরিয়ে আনার জন্য আনারস খুব উপকারী কারণ আনারসে উপস্থিত গ্লুকোজ এবং ফ্রুটস দ্রুত শরীরকে এনার্জি প্রদান করে।

অনেকে আনারস কে সালাদ এবং জুস হিসেবেও গ্রহণ খেয়ে থাকে। আনারসের রসের জুস খেলে এটি আমাদের শরীরকে শীতল রাখে এবং সালাদ করে খেলে এটি শরীরে ভিটামিন সি এর সরবরাহ করে যার কারণে আমাদের ত্বক সুস্থ থাকে।

পরিশেষে তাই বলবো যে আনারস খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই কিন্তু আপনি চাইলে আপনার রুটিন অনুযায়ী আনারস খাওয়ার সময় তৈরি করে নিতে পারেন। আনারস খেলে যেহেতু শরীরে অধিক পরিমাণ ক্যালরি এবং এনার্জি সরবরাহ করে তাই অবশ্যই সকালে ব্যায়াম করার পর আনারস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে আনারস খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাহলে চলুন জেনে নিই খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলো,

  • কৃমি দূর করতেঃ আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলেন কৃমি ধ্বংস করে। আপনাদের যদি কৃমির সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই খালি পেটে আনারস বা আনারসের রস খাবেন তাহলে তিন থেকে চার দিন এর মধ্যে আপনার পাকস্থলীতে উপস্থিতকৃমি মরে যাবে।
  • পুষ্টির অভাব দূর করতেঃ খালি পেটে আনারস খেলে আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব দূর হয় কারণ আনারসে উপস্থিত ভিটামিন এ ভিটামিন সি ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম শরীরের পুষ্টির অভাব দূর করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেঃ যেহেতু আনারসে অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত তাই খালি পেটে খাওয়ার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ আনারসে উপস্থিত ম্যালিক এসিড এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং খাবার দ্রুত পাকস্থলীতে পরিপাক করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেঃ যেহেতু আনারস একটি কম ক্যালোরি সম্পন্ন ফল তাই যেদিন সকালে খাওয়ার কারণে পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • ম্যকুলার ডিগ্রেসন থেকে রক্ষা করতেঃ ম্যাকুলার  ডিগ্রেসন  হলো এমন একটি রোগ যার কারণে ধীরে ধীরে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আনারস খাওয়ার কারণে এই ম্যাকুলার ডিগ্রেশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • হাড়কে মজবুত করতেঃ আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড় এর ভঙ্গুরতা দূর করে এবং হাড়কে মজবুত ও শক্ত করে। 

গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়

আনারস হলো একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ফল। যেটি আমরা সকলেই খেতে খুব ভালবেসে থাকি। আমাদের দেশের অনেকেই মনে করেন যে গর্ভাবস্থায়যদি আনারস খাওয়া হয় তবে গর্ভপাত হয়?

এখন এই কথা কি সত্যি নাকি মিথ্যা সেই বিষয়ে অনেক গবেষণা চলেছে, অবশেষে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে , গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের আনারস খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এই বিষয়ে তারা আরো জানিয়েছেন যে আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলেন এক সময় এবরশন এর জন্য ব্যবহার করা হতো।

আনারসে অধিক পরিমাণ ব্রোমলিন থাকার কারণে অনেকেই ভাবেন যে আনারস খেলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু না আনারসে ব্রোমলিনের পরিমাণ খুব কম তাই আপনি যদি দিনে ৩-৪ টুকরো আনারস খান তাহলে এটি আপনার জন্য উপকারী হবে।

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজন অধিক পরিমাণ পুষ্টি ভিটামিন ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এবং খনিজ উপাদান যেগুলো গর্ভবতী মা এবং গর্ভের বাচ্চাকে সুস্থতা এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। তারা আরো জানিয়েছেন যে, ১০টি আনারস যদি একসাথে খাওয়া হয় তাহলে যে পরিমাণ শরীরে প্রবেশ করবে তাতে বাচ্চার কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

১০ টি আনারস এ উপস্থিত ব্রোমেলেন গর্ভবতী মায়ের কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রাখেনা। আর সেখানে যদি আপনি প্রতিদিন.৩-৪ টুকরো আনারস খান তাহলে ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।
গর্ভাবস্থায় অন্যান্য ফল যেমন আপেল আঙ্গুর কমলা খাওয়া হয় ঠিক সেরকমই আনারসও খাওয়া হবে।

 কিন্তু মজার বিষয় হল যে আমরা এটা জানি না যে আপেল আঙ্গুর কমলাতে অধিক পরিমাণব্রোমলিন রয়েছে যেটি বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে। আমরা শুধু এতোটুকুই জানি যে আনারসের অধিক ব্রোমলিন পরিমাণ থাকে।

সর্বশেষে একটা কথা বলব যে আনারস গর্ভবতী অবস্থায় খাওয়া উপকারী কিন্তু আপনি যদি তবুও অধিক সতর্কতার কারণে আনারস না খেতে চান তাহলে সেটা আপনার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। আর আজকের এই তথ্যটি আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে যদি কোন দ্বিধা থাকে তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ ডাক্তারের শরণাপন্ন হবে।

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলো হল,

  • আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ফসফরাস ক্যালসিয়াম যেটা আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব দূর করে।
  • আনারসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলিন  পাকস্থলীতে উপস্থিত কৃমিকে ধ্বংস করে।
  • এছাড়াও আনারসে উপস্থিত ভিটামিন সি জ্বর ঠান্ডা লাগা কাশি সারাতে খুব উপকারী।
  • আনারসে উপস্থিত ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • এছাড়াও নাক দিয়ে পানি পড়া গলা ব্যথা খুসখুসে কাশি ব্রংকাইটিসজ জনিত রোগের ঔষধ হিসেবে আনারস খুব কার্যকরী।
  • শরীরের ওজন কমাতেও আনারস খুব উপকারী কারণ আনারস ফ্যাট খুব কম পরিমাণ থাকে।
  • আনারস খাওয়ার কারণে রক্তের জমাট বাধা দূর হয় যার কারণে রক্তের স্বাভাবিক গতি সচল থাকে।
  • আনারস দাঁতকে সুরক্ষিত রাখে। আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম দাঁতের এনামেলের ক্ষয়ক্ষতি দূর করে এবং মাড়ির ব্যথা থেকে উপশম ঘটায়।
  • আনারস 'ম্যাকুলার ডিগ্রেরেশন' থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করে। ম্যাকুলার  হলো একটি রোগ যার কারণে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায়।
  • আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের ক্ষয় হয়ে যাওয়া রোধ করে এবং হাড়কে করে তোলে সুস্থ এবং মজবুত।
  • আনারস খাওয়ার কারণে ক্যান্সারের প্রকোপ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
  • আনারস উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বককে সুস্থ রাখে এবং ত্বকের গভীরে পুষ্টি সরবরাহ করে।
  • এছাড়াও আনারস উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ছত্রাক জনিত সংক্রমণ দূর করে এবং ত্বকের মৃত কোষ গুলোকে সতেজ করে তোলে।
  • আনারসে উপস্থিত প্রোটিন ত্বকের তৈলাক্ততা ব্রণের দাগ এবং বিভিন্ন মেছতা দূর করে।

আনারস খাওয়ার অপকারিতা

  • আনারস খাওয়ার কারণে অনেকের এলার্জি চুলকানি দেখা দিতে পারে।
  • আবার আনারস খাওয়ার কারণে অনেকের গলার চুলকানিও হয় সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে আনারসের সাথে লবণ খান। 
  • অধিক পরিমাণ আনারস খাওয়ার কারণে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • যখন অধিক পরিমাণ আনারস খাওয়া হয় তখন বাতের ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • আনারসে যেহেতু গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ রয়েছে তাই অধিক পরিমাণ আনারষ খাওয়ার কারণে রক্তের সুগারের পরিমাণ বা চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • অনেকে কাঁচা আনারস খেয়ে থাকেন জুস বানিয়ে। কিন্তু কাঁচা আনারস খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কাঁচা আনারস খেলে বমি এবং পেট ব্যথা হতে পারে। 
  • অধিক পরিমাণ আনারস খাওয়ার কারণে অনেক সময় রক্ত জমাট  করে।
  • অধিক পরিমাণ আনারস খাওয়ার কারণে দাঁতের ক্যাভিটিসের সমস্যা হতে পারে।
  • অধিক পরিমাণ কাঁচা আনারস খাওয়ার জন্য মুখ এবং গলার ভেতরে স্লেশা তৈরি হয়।

আনারস খাওয়ার যেমন অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রাও রয়েছে যেগুলো উপরে আলোচনা করলাম। তাই আপনি যদি একজন আনারস প্রিয় হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আনারস খাওয়ার উপকারিতার সাথে সাথে অপকারিতা জানতে হবে।

শেষ কথা।আনারসের ৩০ টি উপকারিতা ও অপকারিতা-গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়

আজকের এ আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদেরকে আনারস খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা এবং গর্ভবতী অবস্থায় আনারস খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে এই সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছি। আপনারা যদি আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাবেন। 

পরবর্তী আর্টিকেল পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন এবং এরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url