নবজাতকের মা কি আনারস খেতে পারবে- আনারস খাওয়ার সঠিক সময়

নবজাতকের মায়ের কিসমিস খাওয়ার ৩০টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনি যদি আনারস খাওয়ার সঠিক সময় এবং নবজাতকের মা আনারস খেতে পারবে কি পারবে না এই বিষয়ে জানার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কারণ আজকের আর্টিকেলে আমি আনারস খাওয়ার সঠিক সময় বিস্তারিত আলোচনা করব।

নবজাতকের মা কি আনারস খেতে পারবে- আনারস খাওয়ার সঠিক সময়

আজকের এই পোস্টটির মাধ্যমে আমরা আরো জানবো রাতে আনারস খেলে কি হয়, খালি পেটে আনারস খাওয়ার কি গুন এছাড়াও পিরিয়ডকালীন আনারস খেলে কি কোন ক্ষতি হয় নাকি উপকার হয় এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।.

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা-খালি পেটে আনারস খেলে কি হয় ?

আমরা তো আমাদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন রকমের ফল খেয়ে থাকে। কিন্তু আমরা অবগত নয় যে কোন ফল খেলে আমাদের কি উপকার হয়। যেমন আনারস খেলে শরীরের হাড় সুস্থ থাক ত্বক ভালো থাকে চুল ভালো থাকে কিন্তু আমরা এগুলো বিষয়ে ধারণায় রাখি না।

আনারস খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারী গুনাগুন তবে আনারস যদি খালি পেটে খাওয়া হয় তাহলে কি কি উপকার পাওয়া যায় চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক,

  • ওজন কমাতে ঃ ওজন কমাতে আনারসের রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ ভূমিকা। আনারসে উপস্থিত ফাইবার দীর্ঘক্ষন পাকস্থলীতে উপস্থিত থাকে এবং আমাদেরকে অধিক সময় পর্যন্ত পরিপূর্ণ রাখে। যার ফলে আমরা বিভিন্ন ফাস্টফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ আনারসে উপস্থিত  ম্যালিক এসিড ও এন্টিঅক্সিডেন্ট হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘদিন যাবত হজম শক্তি জনিত কোন সমস্যা থাকলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেঃ প্রতিদিন সকালে যদি আনারস খাওয়া হয় তাহলে আনারসে উপস্থিত অধিক পরিমাণ ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে।
  • হাড়ের সুস্থতায়ঃ আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে এবং হাড়কের সুস্থ ও মজবুত করে তোলে।
  • দাঁত কে সুস্থ রাখতেঃ দাঁতকে সুস্থ রাখতে আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম খুব উপকারী। দাঁতের এনামেলের  ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে আনারসের ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • চোখের যত্নেঃ আনারসে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন "ম্যাকুলার ডিগ্রেশন" নামক রোগ থেকে রক্ষা করে। ম্যাকুলার ডিগ্রেশন রোগটি হলো এমন একটি রোগ যার কারণে চোখের রেটিনা ধ্বংস হয়ে যায় এবং অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মাড়ির সুস্থতায়ঃ আপনার মাড়িতে যদি কোন রকমের ব্যথা বা রক্তপাত হয় তাহলে আপনি প্রতিদিন সকালে ব্রাশ করার পরে যদি আনারস খান তাহলে আপনার মাড়ির ব্যথা দূর হবে এবং মাড়ি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।
  • পুষ্টি সরবরাহঃ আনারসে উপস্থিত ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম শরীরে পুষ্টির সরবরাহ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেঃ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনারসে উপস্থিত পটাশিয়াম কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আপনি যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আনারস খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  • রক্ত পরিষ্কার রাখতেঃ রক্ত পরিষ্কার রাখতে আনারস খুব উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আনারস খাওয়ার কারণে রক্তের বজ্র পদার্থ  প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হয় যার কারণে রক্ত পরিস্কার থাকে।
  • সঠিকভাবে রক্তের সরবরাহ করতেঃ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আনারস খেলে এটি আমাদের শরীরের রক্তে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এর ফলে শরীরের বিভিন্ন শিরায় উপশিরায় রক্ত সঠিকভাবে সরবরাহ হয়।
  • কৃমি ধ্বংস করতেঃ আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলিন পাকস্থলীতে উপস্থিত কৃমি ধ্বংস করে।

উপরের আলোচিত যে সকল উপকার আমাদের শরীরে হয় সেগুলো খালি পেটে আনারস খাওয়ার কারণে হয়। তাহলে আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে আনারস খাওয়ার সঠিক সময় কখন। হ্যাঁ বন্ধুরা, আনারস খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকালে তবুও যদি আপনারা চান তবে ভরা পেটে  সন্ধ্যা বেলায় অথবা দুপুরেও খেতে পারেন।

রাতে আনারস খেলে কি হয়

আনারস হলো একটি এসিডিক ফল। গ্রীষ্মকালীন সময়ে এবং বর্ষা কালীন সময়ে আনারস খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেক আনারস না ভালোবাসায় না আনারস সোপ বানিয়ে এবং সালাত বানিয়ে খেয়ে থাকে। এখন অনেকের প্রশ্ন যে রাতে আনারস খেলে কি কোন ক্ষতি হয়?

যেহেতু আনারস এসিডিক ফল। আনারসে উপস্থিত ম্যালিক এসিড শরীরের জন্য উপকারী। তবে যখন আনারস পেকে যায় তখন আনারসের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ এর পরিবর্তন হয়ে ইথাইল অ্যাসিটেটে পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ কাজুবাদাম খাওয়ার ২৫ টি উপকারিতা

রাতের বেলা পাকা আনারস খেলে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা হয়। অনেকেই ভাবেন যে রাতের বেলা ফল খেলে শরীরের উপকার হয় কিন্তু না বিভিন্ন ফলে উপস্থিত ফাইবার হজম না হয়ে বরং বুক জ্বালা, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক এমনকি বমিরও কারণ হতে পারে। 

আনারস খাওয়ার কারণে শরীরের অপকারিতার চেয়ে উপকারিতার পরিমান বেশি তাই আপনি যদি আনারস খেতে চান তাহলে রাতে না খেয়ে সকালে অথবা ভরা পেটে খেতে পারেন। তাই আমি বলব যে আনারস খাওয়ার উপযুক্ত বা সঠিক সময় হল ভরা পেটে খাওয়া তাহলে খাবারগুলো হজম হয় এবং আপনার শরীরের শক্তি সরবরাহ হয়।

জ্বরে আনারসের উপকারিতা

আবহাওয়া পরিবর্তন বা শীত শেষে গরম আসার শুরুতেই ছোট বড় প্রায় সকলেরই জ্বর সর্দি কাশি লেগেই থাকে। এই ওয়েদার চেঞ্জ এর কারণে জ্বর সর্দি কাশি হয়।তখন আমরা মুড়ি মুরকির মত বিভিন্ন রকমের ওষুধ খেয়ে থাকি যেগুলো আমাদের খাওয়া মোটেই উচিত নয়। আমাদেরকে সব সময় আমাদের স্বাস্থ্যবিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে, প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে শরীরকে যতটা সম্ভব সুস্থ রাখা যায়।

হ্যাঁ আনারসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। তাই জ্বরের শত্রু হিসেবে আনারস পরিচিত। আপনার বা আপনার বাচ্চার বা আপনার পরিবারের কারো যদি আবহাওয়া পরিবর্তন বা ঠান্ডা লেগে সর্দি কাশি হয় তাহলে অবশ্যই তাকে আনারস খাওয়াতে পারেন।

স্বয়ং ডাক্তাররাও বলেছেন যে, যতটা সম্ভব ওষুধ এর পরিমাণ কমিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখা যায় ততটাই ভালো। কারণ  ওষুধ খাওয়ার কিছু তো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের লিভার, কিডনি, যকৃত এরকম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কে ক্ষতি করতে পারে।

আনারস খেলে শুধু যে জ্বর ভালো হয় সেরকম নয় আনারস খাওয়ার কারণে কৃমি ধ্বংস হয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, শরীর অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়, চোখের রেটিনা ভালো থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে উপশম পাওয়া যায় ইত্যাদি অনেক রকমের সুফল আনারস আমাদেরকে প্রদান করে।

আনারস খাওয়ার সঠিক সময়

আপনি যদি আমারে আর্টিকেলটি উপরের পার্ট পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন যে আনারস খাওয়ার সঠিক সময় কখন। হ্যাঁ আনারস খাওয়ার সঠিক সময় হল সকালে খালি পেটে। সকালে খালি পেটে আনারস খেলে সকল রকমের রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তবে এখানে একটা কথা বলা হলো যে, যে সকল ব্যক্তির গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা রয়েছে তারা যদি সকালে খালি পেটে আনারস খায় তবে তাদের এসিডিটি বাড়তে পারে। তাই তারা দিনের মধ্যভাগে বা  দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে আনারস খেতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ আজওয়া খেজুর খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা

অনেকের রাতে ঘুমানোর পূর্বে আমার আনারস খান তবে এটি শরীরের জন্য খুব ভালো নয়। কারণ রাতে আমরা যখন ঘুমায় তখন আমাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয় যার কারণে আনারস পাকস্থলীতে হজম হয় না বরং এসিডিটির বা বুক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। তাই আপনারা দুপুরে খাবার খাওয়ার পরে বা সন্ধ্যাবেলা কিংবা সকালে খাবার খাওয়ার পরে আনারস খাবেন এই সময়টি হলো আনারস খাওয়ার উপযুক্ত সময়।

সকালে আনারস খাওয়ার উপকারিতা

সকালে আনারস খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালে আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলো,

  • আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ফসফরাস ক্যালসিয়াম যেটা আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব দূর করে।
  • আনারসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলিন  পাকস্থলীতে উপস্থিত কৃমিকে ধ্বংস করে।
  • এছাড়াও আনারসে উপস্থিত ভিটামিন সি জ্বর ঠান্ডা লাগা কাশি সারাতে খুব উপকারী।
  • আনারসে উপস্থিত ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • এছাড়াও নাক দিয়ে পানি পড়া গলা ব্যথা খুসখুসে কাশি ব্রংকাইটিসজ জনিত রোগের ঔষধ হিসেবে আনারস খুব কার্যকরী।
  • শরীরের ওজন কমাতেও আনারস খুব উপকারী কারণ আনারস ফ্যাট খুব কম পরিমাণ থাকে।
  • আনারস খাওয়ার কারণে রক্তের জমাট বাধা দূর হয় যার কারণে রক্তের স্বাভাবিক গতি সচল থাকে।
  • আনারস দাঁতকে সুরক্ষিত রাখে। আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম দাঁতের এনামেলের ক্ষয়ক্ষতি দূর করে এবং মাড়ির ব্যথা থেকে উপশম ঘটায়।
  • আনারস "ম্যাকুলার ডিগ্রেরেশন" থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করে। ম্যাকুলার  হলো একটি রোগ যার কারণে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায়।
  • আনারসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের ক্ষয় হয়ে যাওয়া রোধ করে এবং হাড়কে করে তোলে সুস্থ এবং মজবুত।
  • আনারস খাওয়ার কারণে ক্যান্সারের প্রকোপ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
  • আনারস উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বককে সুস্থ রাখে এবং ত্বকের গভীরে পুষ্টি সরবরাহ করে।
  • এছাড়াও আনারস উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ছত্রাক জনিত সংক্রমণ দূর করে এবং ত্বকের মৃত কোষ গুলোকে সতেজ করে তোলে।
  • আনারসে উপস্থিত প্রোটিন ত্বকের তৈলাক্ততা ব্রণের দাগ এবং বিভিন্ন মেছতা দূর করে।

ভরা পেটে আনারস খাওয়া কি উচিত?

ভরা পেটে ফল খালি পেটে জল-এই প্রবাদটি অনেকেই জানেন এবং গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, খালি পেটে ফল খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। ঠিক যেমন খালি পেটে আনারস খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য,রক্তের বিষাক্ত পদার্থ এবং বিভিন্ন রকমের জটিল রোগ যেমন কিডনি হৃদরোগে ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন যে ভরা পেটে কি আনারস খাওয়া যাবে ? তাদের প্রশ্নের উত্তর বলব যে, ভরা পেটে বলতে গেলে খাওয়ার পরে আনারস খাওয়া যাবে না। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন যে,দুপুরে খাবার খাওয়ার একঘন্টা পরে আনারস খাবেন তাহলে খেতে পারেন। যেকোনো সময়ের খাবার খাওয়ার একঘন্টা বা দুই ঘণ্টা পরে যদি আনারস খাওয়া হয় তাহলে খাবারটা ভালোভাবে হজম হয় এবং পরিপাকে কোন সমস্যা হয় না।

তাই যে সকল পাঠক বন্ধুরা মনে মনে চিন্তা করেন যে ভরা পেটে আনারস খাব কি খাব না? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনি সকালের অথবা দুপুরের খাবার খাওয়ার মাঝখানে আনারস খাবেন। তাহলে আপনার শরীরে ক্যালরির সরবরাহ হবে এবং হজম শক্তিও বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

নবজাতকের মা কি আনারস খেতে পারবে?

যখন একটি মেয়ে জানতে পারে যে সে মা হতে চলেছে তখন সে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে যে কবে তার বাচ্চা মুখ দেখতে পাবে।। আর এই খুশির জন্য সে গর্ভবতী মা চিন্তা করতে থাকেন যে কি খাবার খেলে তার বাচ্চার পুষ্টির অভাব হবে না এবং সুস্থ থাকবে। ঠিক এই সময়ে কিছু বয়সক লোক এমন কিছু মন্তব্য করেন যেগুলো শুনলে একটি গর্ভবতী মায়ের মনে অনেক আতঙ্ক চলে আসে?

আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী অবস্থায় টমেটো খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতা

এ আতঙ্ক গুলোর মধ্যে একটি হল আনারস খেলে নাকি গর্ভপাত হয়? যখনই একটি গর্ভবতী মেয়ে এই কথাটি শুনে তখন সে চিন্তা করে যে সে কি সত্যি আনারস আনারস খাবে নাকি খাবে না? সবার মনের এ ভুল ধারণার জন্য দায়ী আনারস উপস্থিত ব্রোমলিন এনজাইম ? এই ব্রোমেলিন এনজাইম এর জন্য একটি মেয়ের সময়ের পূর্বেই প্রসব বেদনা জাগে।

এখন নিশ্চয়ই মনে মনে প্রশ্ন জাগছে যে কি এই ব্রোমেলিন এনজাইম? ব্রোমেলিন  হলো একটি এনজাইম যেটি শরীরের রক্তের কণিকাগুলোকে ভেঙে দেয় যার কারণে রক্তপাত হয় যার ফলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন চলুন জেনে নিই আনারস খাওয়ার বিষয়ে ডাক্তাররা কি বলেছেন?

ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে গর্ভবতী মহিলার গর্ভাবস্থায় অধিক পরিমাণ পুষ্টির জন্য আনারস খাওয়া উপকারী।কারন আনারসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেগুলো মা এবং শিশু দুজনেরই শরীরের পুষ্টির অভাব দূর করে।

ডাক্তাররা বলেছেন যে কোন গর্ভবতী মহিলা যদি  ১০টি আনারস একবারে খেয়ে ফেলে তাহলে শরীরের যে পরিমাণ ব্রোমেলিন প্রবেশ করবে সেই ব্রোমলিন দ্বারা গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা ৩০%। সেখানে কোন গর্ভবতী মা যদি প্রতিদিন দুই থেকে তিন টুকরো আনারস খেয়ে থাকে তাহলে গর্ভপাতের কোন সম্ভাবনাই নেই।

এখন নিশ্চয়ই গর্ভবতী মা চিন্তা করছেন যে তিনি  আনারস খাবে নাকি খাবে না? তাহলে এই ক্ষেত্রে বলবো যে আপনি যদি আনারস খেয়ে সুস্থতা অনুভব করেন তাহলে আপনি আনারস খেতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি মনে মনে সংশয় রাখেন যে, আনারস খাওয়ার কারণে যদি আপনার বাচ্চার কোন সমস্যা হবে তাহলে আপনি নাও খেতে পারেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।

আমি কিন্তু আপনাকে কখনোই বলছি না যে আপনি আনারস খান তবে ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে একটি গর্ভবতী মহিলা দিনে দুই থেকে তিন টুকরো আনারস খেতেই পারেন এতে গর্ভপাত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আশা করছি আমার পাঠক বন্ধুরা যে প্রশ্ন করেছিলেন তার উত্তর পেয়ে গেছেন। এছাড়াও আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

পিরিয়ডের সময় আনারস খাওয়া যাবে কি

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মহিলাদের শরীর থেকে যেমন রক্ত ক্ষরণ হয় ঠিক তেমনি পানি শূন্য হয়। তাই পিরিয়ডকালীন সময়ে এমন সকল খাবার খেতে হবে যেগুলো শরীরের রক্তের ঘাটতি দূর করবে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখ। এছাড়াও পিরিয়ডকালীন সময়ে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে আনারস খাওয়া উপকারী কারণ আনারসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেগুলো শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে অধিক পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে তাহলে আরাম পাওয়া যায় আর আনারসে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার।

এছাড়াও পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে আনারস খেলে আনারসের উপস্থিত ভিটামিন সি পেটের প্রদাহ বা ত্র্যাম্পিং কমায়। পিরিয়ড চলাকালীন যেহেতু অধিক পরিমাণ মুড সুইং হয় তাই আনারস খাওয়া খুব উপকারী কারণ আনারসের রয়েছে গ্লুকোজ এবংফ্রূক্টোজ যেগুলো মস্তিষ্ক কে সতেজে রাখে।

শেষ কথা

আজকের এ আর্টিকেলটিতে আমি নবজাতকের মা আনারস খেতে পারবে কি পারবে না এবং আনারস খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে আপনাদেরকে জানিয়েছি। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। আনারস সংক্রান্ত যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন আমি আপনাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করব।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন এবং আমার আর্টিকেলগুলো যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url