হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়-হাইড্রা ফেসিয়ালের উপকারিতা

রূপচর্চায় দুধ ও কাঁচা হলুদের ১০টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনি কি হাইড্রা ফেসিয়াল করানোর কথা ভাবছেন কিন্তু জানেন না যে হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয় এবং হাইড্রা ফেসিয়াল এর উপকারিতা কি ? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য কারণ আজকের আর্টিকেলে হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পরপর করতে হয় সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়-হাইড্রা ফেসিয়ালের উপকারিতা

আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আরো আলোচনা করব হাইড্রা ফেসিয়াল কিভাবে করে এবং হাইড্রা ফেসিয়াল এর দাম ইত্যাদি বিষয়ে তাই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

 পোস্ট সুচিপত্র.

হাইড্রা ফেসিয়াল কি ?

হাইড্রা ফেসিয়াল এর মূল কাজ হল ত্বককে আদ্র রাখা। ত্বকের গভীরের মৃত কোষ গুলোকে সতেজ করে তোলা হচ্ছে হাইড্রা ফেসিয়ালের মূল্য লক্ষ্য। হাইড্রা ফেসিয়াল এর মূল উপাদান হলো মাইক্রো ডারমা ভিশন। হাইড্রা ফেসিয়াল এ মেশিনের সাহায্যে ত্বককে আদ্র রাখার জন্য ত্বকের গভীরে জেল  এবং সিরাম সরবরাহ করা।

আরও পড়ুনঃ বেসন দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় জেনে নিন

ত্বককে আর্দ্র রাখার জন্য, ত্বকের রোদে পড়া কালচে ভাব দূর করার জন্য, ব্রণের জন্য ত্বকের যে গর্ত হয় সে গর্ত দূর করার জন্য এবং ত্বকের শুষ্ক এবং মরে যাওয়া কোষগুলোকে সতেজ করে তোলার জন্য হাইড্রা ফেসিয়াল এর উপকারিতা অপরিসীম।

হাইড্রা ফেসিয়াল দাম ?

আমরা আমাদের ত্বককে সুন্দর সতেজ এবং উজ্জ্বল রাখার জন্য পার্লার বা সেলুনে  বিভিন্ন রকমের ফেসিয়াল করে থাকি। এই ফেসিয়াল গুলো করার কারণে অনেক সময় ত্বকে ব্রন এবং এলার্জির জনিত সমস্যা দেখা দেয় পাশাপাশি এই ফেসিয়াল গুলোর মূল্য কিছুটা কম।

হাইড্রা ফেসিয়াল নাম শুনেই মনে হচ্ছে যে এটি কিছুটা ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের দুই রকমের হাইড্রা ফেসিয়াল রয়েছে একটি হলো হাইড্রা ফেসিয়াল  আরেকটি হল বায়ো হাইড্রা ফেসিয়াল। হাইড্রা ফেসিয়াল এর জন্য আপনার খরচ করতে পারে ৩০০০ হাজার থেকে ৭০০০ হাজার টাকা।

অপরদিকে বায়ো হাইড্রা ফেসিয়ালএ খরচ একটু বেশি কারণ এই ফেসিয়ালটি করতে অপেক্ষাকৃত সময়ও বেশি লাগে তার জন্য এই ফেসিয়ালটির খরচ ও বেশি।

হাইড্রা ফেসিয়াল কিভাবে করে?

ত্বকের যে সকল কোষ গুলো ডিহাইড্রেশনের কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় সেই সকল কোষকে হাইড্রেট করে ত্বকের জ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য হাইড্রা ফেসিয়াল করা হয়। হাইড্রা ফেশিয়াল এর মাধ্যমে ত্বককে আর্দ্র করা হয় এবং ত্বকের গভীরে সিরাম দেওয়া হয় যার কারণে ত্বক আদ্র হয় এবং উজ্জ্বল হয়।

এই হাইড্রা ফেসিয়ালটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। তাহলে চলুন জেনে নিই সেই পাঁচটি ধাপ যেগুল অবলম্বন করে হাইড্রা ফেসিয়াল করলে এত উপকারিতা পাওয়া যায় ,

  • প্রথম ধাপঃ হাইড্রা ফেসিয়াল শুরুর প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজন ত্বককে পরিষ্কার রাখা। তাই প্রথম পর্যায়ে ক্লিনজার ব্যবহার করে ত্বককে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়।
  • দিতীয় ধাপঃ হাইড্রা ফেসিয়ালের দ্বিতীয় পর্যায়ে ত্বকের বিভিন্ন রকমের দাগ যেমন ডার্ক সার্কেল ব্ল্যাকহেডস দূর করার জন্য সাক্স সাকশান এর প্রয়োগ।
  • তৃতীয় ধাপঃ হাইড্রা ফেসিয়ালের এই ধাপে ত্বকের বিভিন্ন রকমের দাগ ব্রনের দাগ মেছতা রিংকেল দূর করে পরবর্তী পর্যায়ে যাবার জন্য।
  • চতুর্থ ধাপঃ হাইড্রা ফেসিয়ালের এই পর্যায়ে ত্বকের গভীরে কোষের মধ্যে যে সকল ময়লা তেল এবং ব্রণ সৃষ্টিকারী বিষাক্ত পদার্থ থাকে সেগুলো ধ্বংস করে এবং ত্বককে আর্দ্র করে।
  • পঞ্চম ধাপঃ যেহেতু হাইড্রা ফেসিয়ালে ত্বক আর্দ্র করা হয় তার জন্য পঞ্চম পর্যায়ে ত্বকের গভীরে সিরাম  এবং লাইট থেরাপি দেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের দাগ মেছতা এবং ত্বকের বলিরেখা ফাইনলাইন দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা।

উপরে বর্ণিত পাঁচটি উপায়ে একজন ডার্মাটোলজিস্ট হাইড্রা ফেসিয়াল করে থাকেন। 

কত বছর বয়সে হাইড্রাফেসিয়াল হয়?

হাইড্রা ফেসিয়াল ২০ বছর বয়সের ওপরে সকলেই করতে পারবেন। তবে হাইড্রা ফেসিয়াল করার আগে আপনার ত্বক পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে যে আপনার ত্বক শুষ্ক নাকি তৈলাক্ত? 
হাইড্রা ফেসিয়াল করার পূর্বে আপনাকে কিছু কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেমন, আপনার ত্বকে যদি ব্রণের গর্ত হয়ে থাকে কিংবা রোদে পড়া ভাব, ত্বকের বলিরেখা বা ফাইন লাইন, চোখের নিচ দিয়ে কালো ভাব, পিগমেন্টেশন এবং যাদের ত্বকের নিচে বড় বড় পোরস রয়েছে তারা এ ফেসিয়ালটি করতে পারবে।

হাইড্রা ফেসিয়াল ক্রিম

হাইড্রা ফেসিয়াল এর জন্য হাইড্রা ফেসিয়াল ক্রিম ব্যবহার করা হয়। এই ক্রিমটি ব্যবহারের কারণে আমাদের ত্বক ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পায়। হাইড্রা ফেসিয়াল ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক দীর্ঘক্ষণ পানি ধারন করে রাখতে পারে যার কারণে ত্বক আর্দ্র হয়ে থাকে।

হাইড্রা ফেসিয়াল ক্রিমটা আপনি যখন ফেসিয়াল করাবেন তখন আপনার ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছ থেকে জেনে নিবেন। কোন মতেই আপনি বাইরের কোন ব্যক্তির বা সেলুনের মানুষের কথা শুনে আপনার মুখে ক্রিম ব্যবহার করবেন না।

হাইড্রা ফেসিয়াল করার কি ব্যবহার করবেন

হাইড্রা ফেসিয়াল করার কারণে ত্বক যেহেতু অনেক আর্দ্র হয়ে থাকে এবং নরম হয়ে যায় তাই কোন মতেই আগুন বা রোদের সংস্পর্শে আসা যাবে না। তিন থেকে চার দিন ত্বককে সকল প্রকার কসমেটিক প্রোডাক্ট থেকে দূরে রাখতে হবে।

ত্বকে হাইড্রা ফেসিয়াল করা হয়েছে তাই ত্বককে ভালো রাখার জন্য আপনি আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। ময়েশ্চারাইজার ব্যতীত কোন রকমের কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না যদি ব্যবহার করেন তবে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হতে পারে।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন যে হাইড্রা ফেসিয়াল করার পরে কি মশ্চারাইজার ব্যবহার করব? এক্ষেত্রে আমি বলব যে আপনি আপনার ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছ থেকে জেনে নিবেন নয়তো আপনার রেগুলার ময়শ্চারাইজার যেমন নিভিয়া অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।

হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়

ত্বক আর্দ্র উজ্জ্বল লাবণ্যময়ী টানটান করে তুলতে ফেসিয়ালের কোন বিকল্প নেই। তবে বর্তমান সময়ে হাইড্রা ফেসিয়াল খুব জনপ্রিয়। এই হাইড্রা ফেসিয়াল জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো এটি করার ফলে ত্বকে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা সাইডএফেক্ট হয় না।

আরও পড়ুনঃ নিম পাতা বাটা মুখে দিলে কি কি উপকার হয় জানুন

হাইড্রা ফেসিয়াল মাসে  ১ বার করা হয়। কেউ যদি চান তার স্কিন ভেদে 28 দিন পরও করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই কিন পরীক্ষা করে তবেই হাইড্রা ফেসিয়াল করবেন নয়তো পরবর্তীতে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাইড্রা ফেসিয়ালের উপকারিতা

হাইড্রা ফেসিয়াল নিয়ে তো অনেক বকবক করলাম তাহলে চলুন এবার অবশেষে জেনে নেওয়া যাক হাইড্রা ফেসিয়ালএর উপকারিতা গুলো,
  • ত্বককে হাইড্রেট এবং আদ্র রাখে।
  • ত্বকের অভ্যন্তরে সিরাম গিয়ে কোষগুলোকে সতেজ রাখে।
  • ত্বকের গভীরের অতিরিক্ত ময়লা পরিষ্কার করে।
  • ত্বকের বলিরেখা ফাইন লাইন ব্ল্যাকহেড দূর করে
  • ত্বকে অতিরিক্ত ব্রণের সমস্যা থাক ব্রণের সমস্যা দূর হয়।
  • ত্বকের শুষ্কতা ভাব কাটিয়ে ত্বক উজ্জ্বল এবং নরম করে তোলে।
  • ত্বকে এলইডি মাস্ক ব্যবহার করার কারণে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আপনি যদি আপনার ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা এবং কোমল রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে হাইড্রা ফেসিয়াল প্যাক ব্যবহার করতে হবে। আমরা সকলেই চাই আমাদের ত্বকে উজ্জ্বল এবং সুন্দর রাখতে কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ত্বকের সঠিক পরিচর্যা।

হাইড্রা ফেসিয়াল এর অপকারিতা

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি যেহেতু হাইড্রা ফেসিয়াল নিয়ে আলোচনা করলাম তাই আমি বলছি যে হাইড্রা ফেসিয়াল ব্যবহার করার কারণে অপকারিতা নেই বললেই চলে। বলতে গেলে রয়েছে শুধু হাইড্রা ফেসিয়ালের উপকারিতা। হ্যাঁ বন্ধুরা হাইড্রা ফেসিয়াল করার কারণে আপনার ত্বকের পুরনো ড্যামেজ হওয়া কোষ গুলো সতেজ হবে।

ত্বকের গভিরে সিরাম পৌছে ত্বককে সতেজ এবং পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে যার কারণে আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল এবং ফর্সা। যদি আপনি হাইড্রা ফেসিয়াল করার পূর্বে আপনার ডার্মাটোলজিস্ট দ্বারা আপনার ত্বক পরীক্ষা করে ট্রিটমেন্ট টি গ্রহণ করেন তবে আপনার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবার কথা নয়।

তবে যদি কোন ব্যক্তি তার ত্বক পরীক্ষা না করেই হাইড্রা ফেসিয়াল করে তবে তার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন, ত্বকের চুলকানি হবে বা এলার্জিজনিত সমস্যা, বিভিন্ন রকমের গোল গোল ফুস্কুরি বা রিঙ্কল তৈরি হবে এছাড়াও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

তবে সকলের ক্ষেত্রে আরেকটি কথা বলব যে আপনারা যদি হাইড্রা ফেসিয়াল করে থাকেন তবে প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন চেষ্টা করবেন রোদ থেকে দূরে থাকতে যেন আপনার মুখে কোন রকমের রোদের ভাব বা আগুনের আচ না লাগে নয়তো ত্বকে দাগ হতে পারে।

শেষ কথা 

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজকের এ আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে হাইড্রা ফেসিয়াল কতদিন পরপর করতে হয় এবং হাইড্রা ফেসিয়াল এর উপকারিতা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

আপনি যদি নিয়মিত ত্বকের যত্ন বা রূপচর্চার সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তাহলে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন এবং আর্টিকেলটি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদেরকে শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url