ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা- ডাবের পানি খাওয়ার অপকারিতা

মধু খাওয়ার ২০ টি উপকারিতাডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ডাবের পানি খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না তবে চিন্তার কোন কারণ নেই আজকের এই পোস্টটিতে আমি  ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা-  ডাবের পানি খাওয়ারঅপকারিতা


ডাবের পানি খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায় কখন খেতে হয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ।আপনি যদি ডাবের পানি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তাহলে পুরো মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

ভূমিকা

আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস ডাবের পানি খাওয়া প্রয়োজন। কারণ ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম ভিটামিন সি ইত্যাদি বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হাড়কে মজবুত রাখে।
কিডনিকে সুস্থ রাখতে, ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পেত্‌ মাথাব্যথা কমাতে, বদ হজম, পেট ফোলা, শরীরকে আর্দ্র রাতে ডাবের পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ডাবের পানিতে থাকা কোলাজেন শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

খালি পেটে ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে যদি ডাবের পানি খাওয়া যায় তবে আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনেক উপকার হয়। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড়কে শক্ত করে। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ম্যাঙ্গানিজ এমাইনো এসিড এন্ড অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় এবং শরীরের জন্য উপকারী উপাদান থাকে।
সকালে ঘুম থেকে খালি পেটে যদি ডাবের পানি খাওয়া হয় তাহলে আমাদের পাকস্থলী অন্ত্রের ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ সাইটওকাইনেসিস থাকার ফলে আমাদের শরীরের ইনসুলমানের মাত্রা বজায় থাকে। ডাবের পানি আমাদের শরীর আর্দ্র রাখে। নিচের কয়েকটি উপকারিতা দেওয়া হল,

  • সুস্থ  রাখেঃ আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণ বিষাক্ত পদার্থ যেমন ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটেনেন ,  বিভিন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত বজ্র পদার্থ ইত্যাদি থাকে কিন্তু যদি ডাবের পানি খাওয়া যায় তাহলে আমাদের শরীর থেকে এ সকল বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় যার ফলে আমাদের সুস্থ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি দাবে।
  • কিডনি সুস্থতায়ঃ কিডনি তে যখন পানির ঘাটতি পরে তখন কিডনিতে ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ কমে যায় যার ফলে কিডনি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি প্রতিদিন ডাবের পানি খাওয়ানো যায় তাহলে কিডনি তার ঘাটতি পূরণ করে সঠিকভাবে কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে পারে। যার ফলে কিডনির সংক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণেঃ আমাদের শরীরে যখন পানির ঘাটতে পরে তখন শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। যার ফলে মাথা ব্যথা করে। এরকম ঘটনা ঘটলে তাঁতঘোনা এক গ্লাস ডাবের পানি খাওয়া উচিত কারণ ডাবের পানি শরীরের ডিহাইড্রেশন কমিয়ে শরীরকে আদ্র করে তোলে যার ফলে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • হাড়কে মজবুত করতেঃ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম রয়েছে যা আমাদের হারকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেঃ ডাবের পানিতে থাকা বিভিন্ন এনজাইম আমাদের শরীরকে উজ্জ্বল করে। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে যদি ডাবের পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা হয় তাহলে চেহারায় উজ্জ্বলতা পাওয়া যায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা খুব বেশি।

খালি পেটে ডাবের পানির অপকারিতা

ডাবের পানি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কারণ এটা আমাদের শরীরের বিভিন্ন রকমের প্রয়োজনীয় পোষ্টটি উপাদান সরবরাহ করে যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে যার ফলে আমাদের শরীর বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। তাই খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।
খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতাও রয়েছে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা আমাদের শরীরের  রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে। তবে যাদের শরীরে অ্যালার্জি আছে কিংবা ঠান্ডা লাগা ভাব থাকে বিশেষ করে বাচ্চাদের ঠান্ডা পানি খেলে বিভিন্ন রকমের সমস্যা হয় তাদের ক্ষেত্রে ডাবের পানি না খাওয়াই ভালো।

কচি ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, বিভিন্ন খনিজ লবণ এর পুরো ভরপুর থাকে। কিন্তু কচি ডাবের পানির উপকারিতা আরো অনেক বেশি কারণ কচি ডাবের পানি শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল দূর করে। যার ফলে আমাদের শরীর থাকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক। নিয়মিত কচি ডাবের পানি খাওয়ার ফলে আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি চোখের নিচের দাগ দূর করে।

শীতকালে আমাদের শরীর যখন শুষ্ক হয়ে যায় তখন আমাদের ত্বক রুক্ষ সূক্ষ্ম হয়ে যায়, ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় তাই আমরা যদি কচি ডাবের পানি খায় তাহলে আমাদের ত্বক আদ্র থাকবে পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। আর কচি ডাবের পানি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, পেট পরিষ্কার থাকে তাই ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা মানব শরীরে অনেক বেশি।

দিনে কয়টা ডাব খাওয়া উচিত?

ডাবের পানি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী কারণ এটা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে। শরীরে যখন গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায় তখন যদি এক গ্লাস ডাবের পানি খাওয়া যায় তবে শরীর অনেকটা সক্রিয় হয় বা শরীরে এনার্জি ফিরে আসে। প্রতিদিন সম্ভব হলে এক গ্লাস ড্রাইভের পানি খাওয়া উচিত।

 কিন্তু যদি কোন কারনে সেটা সম্ভব না হয় তবে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ডাবের পানি খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে একটি ডাব খাওয়ায় ভালো। কিন্তু বাচ্চাদের জন্য বেশি ডাবের পানি খাওয়া উচিত নয় কারণ তাদের শরীর ঠান্ডা লাগার একটা সমস্যা থাকে তাই ডাবের পানি শরীরের জন্য উপকারী তবে বেশি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

ডাবের পানির অপকারিতা

আমরা সবাই একথা জানি যে ডাবের পানির উপকারিতা অনেক বেশি কিন্তু ডাবের পানির অপকারিতা রয়েছে। প্রয়োজনের বেশি কোন কিছুই নিরাপদ নয় ঠিক তেমনি ডাবের পানির পরিমাণ কোন কোন ক্ষেত্রে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায় যেমন, কিডনি সুস্থ রাখতে ডাক্তাররা পরামর্শ করেন অতিরিক্ত পানি খেতে ।

কিন্তু যদি ডাবের পানি  অধিক পরিমাণ খাওয়া হয় তাহলে কিডনিতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়ামের প্রাচীর তৈরি হয় যার ফলে কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক তেমনি শরীর যদি প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের প্রাচীর তৈরি হয় তবে সেটি আমাদের হার্ট এবং হৃদপিন্ডের জন্য খুবই ক্ষতিকর যার ফলে প্রাণ সংশয় থাকে।

ডাবের পানিতে কি গ্যাস হয়

অনেকেই ধারণা করেন যে ডাবের পানি খেলে গ্যাসের সমস্যা  অথবা বদহজম হয় পেট ফুলা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এ ধারনাটি মূলত ভুল কারণ ডাবের পানি খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখে। কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যেটা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিষ্কাশিত করে।

প্রতিদিন সকালে ডাবের পানি খাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন রকমের গ্যাসট্রিক বা পেট ফোলা বদহজম ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ কোলাজেন থাকে যা আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই ডাবের পানি খেলে আমাদের শরীরে কোন রকমের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় না।

ডাব খেলে কি প্রেসার বাড়ে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যে সকল উপাদান ভূমিকা পালন করে সেগুলো হল ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ভিটামিন বি টুয়েলভ। আর ডাবের মধ্যে সকল উপাদানে প্রচুর পরিমাণ রয়েছে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডাবের পানি খুবই উপকারী। এছাড়াও ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার রয়েছে যা  শরীরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে  রক্ষা করে।

ডাব খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে

ডাবের পানি খুবই পুষ্টিকর এবং খেতে মিষ্টি কর। আমাদের মধ্যে এমন মানুষ কমই রয়েছে যারা ডাবের পানি খেতে ভালোবাসেন না তবে অনেকের চিন্তা করেন যে ডাবের পানি খেয়ে ডায়াবেটিস বাড়ে। কিন্তু এই ধারণাটি ভুল ধারণা কারণ ডাবের পানি খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে না বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার রয়েছে যা শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং খাবার হজম করতে পারে।

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ইনসুলিন রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। ডাবের পানিতে শর্করা থাকে  যা যার রক্তে শর্করার পরিমাণ বজায় রাখে। পাশাপাশি ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ রয়েছে যা আমাদের শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করে। তাই বলা যায় ডাবের পানি খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

কিডনি রোগী কি ডাবের পানি খেতে পারবে?

কিডনি সুস্থ রাখতে পানি খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। ডাক্তাররা ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু যে সকল ব্যক্তি কিডনি রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য ডাবের পানি খুব একটা নিরাপদ নয় কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে। অধিক পরিমাণ পটাশিয়াম কিডনির প্রাচীরে জমা হয়ে ।

কিডনির প্রাচীরে অধিক পরিমাণ পটাশিয়ামযুক্ত হওয়ার ফলে কিডনিতে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন কিডনির পানি জমা হওয়া , কিডনির ঝাঁকনি  নষ্ট হয়ে যাওয়া, কিডনিতে পাথর হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। তাই বলা যায় কিডনি রোগীকে ডাবের পানি খাওয়ানো নিরাপদ নয়।

লেখকের মন্তব্য

ডাবের পানি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুবই উপকারী। তাই আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস পানি খাওয়া। তবে অধিক পরিমাণ ডাবের পানি  না খাওয়াই ভালো। তাই সকলের উচিত তাদের শরীর সুস্থ রাখতে ডাবের পানি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করে তোলা । পরিশেষে একটাই কথা বলব যে শরীরকে সুস্থ রাখতে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা  অপরিসীম।

আমার এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনি  উপকৃত হন তবে অবশ্যই পোস্টে  একটি লাইক করে যাবেন এবং আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দেবেন। পরবর্তী পোস্ট আসা পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।
 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url