কিডনি রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি সংক্রান্ত সকল রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার আপনি হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না চিন্তার কোন কারণ নেই আজকে আমার এই পোস্টটি মূলত কিডনি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি । আপনি যদি কিডনি সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে চান তবে অবশ্যই আমার আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে ।


আর্টিকেলটিতে আরো আলোচনা করেছি কিডনি ফেইলর এর লক্ষণ কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ কিডনির সংক্রান্ত সকল প্রকার ব্যথা এছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো জানতে হলে পুরো পোস্ট আপনাকে পড়ার অনুরোধ রইল

ভূমিকা

আজকের এই পোস্টটিতে আমি মূলত কিডনি সংক্রান্ত সকল সমস্যা যেমন কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ, কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ, কিডনি জনিত ব্যথা্কি‌ডনি সুস্থ রাখতে কি করনীয় এবং, ক্রিয়েটিনের পরিমাণপরিমাণ বেড়ে গেলে কি কি করতে হবে সে সবকিছু নিয়ে পোস্টটি লেখা।

কিডনি রোগের কারণ

কিডনি, সাধারণত আমাদের কাছে বৃক্ক নামে পরিচিত। এই কিডনি নানারকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।, কিডনি রোগের অনেক কারণ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ নেফ্রাইটিসের কারণে আক্রান্ত হয়, বাকি 20 থেকে 30 শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণ্‌ এবং 10 থেকে 20 শতাংশ কিডনি ক্ষতি হয় এর উচ্চ রক্তচাপের কারণে।

এছাড়াও অনিয়মিত ডায়েট, ডায়াবেটিস, ইনফেকশন, প্রস্রাব আটকে রাখা, কম পানি পান করা, দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবন কর্‌ নিয়মিত ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করা, জেনেটিক ফ্যাক্টর, মূত্রনালী বাধা গ্রস্ত হওয়া, আঁশযুক্ত খাবার না খাওয়া, তেল জাতীয় বা মসলা জাতীয় খাবার গ্রহণ করা। এছাড়াও অতিরিক্ত শরীরের ওজনের কারণে কিডনি জনিত সমস্যা হয়।

কিডনির সমস্যা হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়

কিডনি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি আমাদের শরীরের ছাকনির মত কাজ করে। তাই কিডনি যদি কোন ভাবে আক্রান্ত হয় বা নষ্ট হয়ে যাবে রকমের লক্ষণ দেখা যায়। নিচে দেওয়া হল,

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়া কিডনি রোগের একটি লক্ষণ। আর ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার কারণে কিডনি ঠিক ভালো মতন কাজ করতে পারে না ।
  • কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হলে প্রস্রাবের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া অথবা হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া। প্রস্রাবের সাথে ব্লাড যাওয়া অথবা জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ
  • কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে হঠাৎ চোখের নিচে পায়ের গোড়ালি হাত জায়গায় ফুলে যায় কারণ কিডনি থেকে পানি বের না হতে পেরে শরীরের বিভিন্ন কোষের মধ্যে পায় জড়ো হয়ে যায় যার ফলে বিভিন্ন কোষ ফুলে ওঠে। যার ফলে শরীরে সোডিয়াম পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ইত্যাদির ঘাটতি পড়ে যায়।
  • কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় হয়ে যায় কারণ তখন ত্বক থেকে টক্সিন নামক হরমোন বের হতে পারে না।
  • কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা কখনো কমে না হঠাৎ জ্বর আসে, ঠান্ডা না লাগা সত্ত্বেও হঠাৎ হঠাৎ জ্বর আসে এটি কিডনি রোগের প্রথম লক্ষণ।
  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া দুর্বল অনুভব করা এবং কোন কারণ ছাড়াই সব সময় ক্লান্ত অনুভব করা কিডনি রোগের অন্যতম একটি। লক্ষণ মূলত কিডনি ঠিকঠাক কাজ না করায় যখন শরীর রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তখনই শরীরে এরকম না ক্লান্তি ভাব আসে।

যে সকল ব্যক্তির উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য কিডনি রোগ কিডনি সংক্রান্ত রোগ অনেক মারাত্মক। তাই চেষ্টা করতে হবে সব সময় উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ

কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ গুলো হলো প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, হঠাৎ শরীরের মুখ হাত পা ফোল্‌ কিডনির কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা, কোমরের দুই পাশে এবং তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করা , ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া ,, ক্লান্তি অনুভব হওয়া , রাত ঠিকমতো ঘুম না হওয়া , শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ গুলো কিডনি ড্যামেজ এর।

কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ

কিডনি ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংক্রমিত হলে বা কোন রকম ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেন নানা রকমের ইনফেকশন হয় এবং সেই ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো হল, প্রস্তাবের সাথে রক্ত যাওয়, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হওয়া , তলপেটে অস্বস্তিকর ব্যথা অনুভব হওয়া , মাথা ঘুরানো , হঠাৎ করে বমি পাওয়া , কোমরের চারপাশে ব্যথা হওয়া , ইত্যাদি লক্ষণ গুলো কিডনি ইনফেকশনের । 

কিডনি ফেইলিওর এর লক্ষণ  

আপনি কখন বুঝবেন যে আপনার কিডনি ফেইলোর হচ্ছে যদি নিজের উপসর্গলা মেহে যায় তখনই বুঝবেন যে আপনার কিডনি ফেইলিওর হচ্ছে,

  • যখনই আপনি বুঝবেন যে আপনি অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করছেন কোন কাজ করা ছাড়াই তখন বুঝবেন যে আপনার কিডনি ডায়মন্ড হতে যাচ্ছে।
  • যদি আপনার প্রস্তাবের পরিমাণ কমে যায় তাহলে বুঝবেন যে আপনার কিডনি পেল হচ্ছে।
  • যদি আপনি ক্রমাগত অনেক কয়বার বমি করতে থাকেন তবে আপনি ভাববেন যে আপনাকে আরো খারাপ হতে যাচ্ছে।
  • যদি আপনার ঘুমের পরিমাণ কমে যায় তাহলে আপনার কিডনির ড্যামেজের দিকে এ গোচ্ছে।
  • যদি হঠাৎ করে আপনার পা গোড়ালি এবং চোখের নিচে ফোলা হলে অনুভব হয় তাহলে কিডনি র সমস্যা ।
  • উচ্চ রক্তচাপ অথবা ডায়াবেটিস কিডনিজনিত সমস্যার মূল পথ শুরু।

কিডনির সমস্যা হলে কোথায় কোথায় ব্যথা হয়

কেমনে আমাদের শরীরের একটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যদি এই অঙ্গটি কোন কারণে অকেজ হয়ে যায় তবে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতি হয়ে যায় এবং অনেক পরিবর্তন দেখা যায় যেমন চোখ মুখ ফোলা ফোলা লাগে এবং ব্যথা অনুভব হয়। আবার হঠাৎ করে মনে হয় যে পেটে অনেক ব্যথা অনুভব হচ্ছে। আমার কোমরের ডান পাশে দুই পাশে ব্যর্থ অনুভব হয়। এছাড়াও হাতের গিরায় অথবা পায়ের এটাও কিডনি রোগের লক্ষণ এবং কিডনিজনিত ব্যথা ।

কিডনির সমস্যা হলে কি কি খাওয়া যাবে?

কিডনেজনিত সমস্যায় একটি মারাত্মক সমস্যা । তাই আমাদেরকে কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেতে হ... সকল প্রকার লাল মাংস পরিহার করে চলতে হবে। খাদ্য তালিকায় মাছের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ মাছ আমাদের শরীরকে প্রোটিন এর সরবরাহ কর।

আরও পড়ুনঃ হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

 এছাড়াও কিডনি জনিত সমস্যায় ডিম খুব উপকারী তবে বলা বাহুল্য যে ডিমের সাদা অংশ খুবই উপকারী কারণ সাদা অংশে সোডিয়াম পটাশিয়াম ফসফরাস থাকে যা উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এবং আমাদের শরীরকে সরবরাহ করে।

এছাড়াও কিডনি সমস্যায় রসুন খাওয়ায় ব্যাপ ক আরাম পাওয়া যায় কারণ কিডনিতে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বেস সমৃদ্ধ ওষধি গুণ রয়েছে যা আমাদেরকে কিডনিকে সারিয়ে তুলতে তোদের সাহায্য করে। এছাড়াও খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন রকমের ফলমূল রাখতে হবে যেমন আনারস আপেল পেয়ারা ইত্যাদি।

ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে কি করবেন?

রক্তে ক্রিয়েটিং এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কিডনির জন্য খুব ক্ষতিকারক। তাই আমাদেরকে ক্রিটিন এর মাত্রা সব সময় মেন্টেন করে রাখতে হবে তার জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে যেমন,
  • ক্রিয়েটিং যুক্ত পরিপূরকগুলোপরিপূর্ণ শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয় তাই আমাদেরকে শরীরেটিং এর মাত্রা বজায় রাখতে হবে ।
  • শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে থাকে তাই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা যাবে না ।
  • ক্রিয়েটিনের মাত্রা কমানোর জন্য বেশি বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে যেমন ফলমূল শাক সবজির লেবু ইত্যাদি।
  • রক্তে ক্রিটিনের মাত্রা বজায় রাখতে লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশি লবণ বা গ্রহণ করা ফলে শরীরে উচ্চ রক্তচাপের পরিমাণ বেড়ে যায় যার ফলে গ্রেটিং এর পরিমাণও বেড়ে যায় তাই আমাদেরকে লবণ খুব কম পরিমাণ খেতে হবে ।
  • ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে কারণ ধূমপান কিডনির ছাড়া সইয়ের বিভিন্ন অঙ্গে অনেক ক্ষতি করে এবং এর মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে ।
  • সকল প্রকার অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ অ্যালকোহল রক্তে ক্রিয়েটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ।

কিডনি সুস্থ রাখার উপায় কি কি?

কিডনি বাংলা ভাষায় যে বৃক্ক নামে পরিচিত । কিডনি আমাদের শরীরের ঝাঁকনির মত কাজ করে। কিডনির মাধ্যমে আমাদের শরীরের সকল বজ্র পদার্থ সুধিত হয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে নির্গত হয় ।তাই কিডনিকে সুস্থ রাখাগুরুত্বপূর্ণ। কিডনিকে সুস্থ রাখতে হলে আমাদেরকে সব সময় সুস্বাস্থ্যময় জীবন যাপন করতে হবে ।

 সকল প্রকার ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। অ্যালকোহল জাতীয় মদ্যপান বা তামা কোন কিছু সেবন করা যাবে না । শরীরের ওজন কমাতে হবে অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের কারণ । এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদেরকে খুব সতর্ক থাকতে হবে কিডনি বিষয় । এবং খুব দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা নিরাময়ী কোন ঔষধ সেবন করা যাবে না।

 এছাড়া বিভিন্ন রকমের জাতীয় ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হ... সবসময় চেষ্টা করতে হবে যেন রাতে ঘুম ভালোভাবে হয় কারণ কিডনিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এছাড়া সাথে শসা মোল্লা গাজর ইত্যাদি সবজি খেতে হবে । খাদ্য অভ্যাস তালিকা পরিবর্তন করতে হবে অতিরিক্ত তেল যুক্ত অথবা পরিহার করতে হবে ।

 সকল প্রকার লাল মাংস পরিহার করতে হবে । জাতীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে । খাসির মাংসে প্রচুর পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে তাই খাসির মাংস থেকে দূরে থাকতে হবে । প্রতিদিন নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম অথবা হাঁটাচলা করতে হবে যদি উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলেন এবং আপনার প্রতিনিয়ত জীবনের এগুলো পালন করেন তবে আপনি একটু সুস্বাস্থ্যময় জীবন যাপন করতে পারবেন ।

লেখক এর মন্তব্য

আমি আমার এই পোস্টটিতে কিডনি সংক্রান্ত সকল রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করেছি আপনার যদি আমার পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই একটি কমেন্ট ও করে যাবেন । এবং পোস্টটি আপনার পরিচিত সকলের সাথে শেয়ার করে দিবেন ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url