টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-দিনে কয়টা টমেটো খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়ার ১০ টি উপকারিতাটমেটো খাওয়ার উপকারিতা টমেটো খাওয়ার অপকারিতা দিনে কয়টা টমেটো খাওয়া উচিত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যদি আপনি জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য। আজকের পোস্টটিতে আমি টমেটো সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-দিনে কয়টা টমেটো খাওয়া উচিত

আজকের এই পোস্টটিতে আরো আলোচনা করেছি সকালে খালি পেটে টমেটো খাওয়ার উপকারিতা  কাঁচা টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ইত্যাদি টপিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

ভূমিকা

টমেটো হল শীতকালীন সবজি। শীতকালে এই সবজির চাষ বেশি হয় তবে ইদানিং বাজারে প্রায় সব সময় টমেটো পাওয়া যায়। টমেটো আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রকমের প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন ভিটামিন এ ভিটামিন সি ভিটামিন কে পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম সহ আরো অনেক খনিজ উপাদান সরবরাহ করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা সকলেই চাই সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর জীবন যাপন করতে। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে আমাদের প্রয়োজন সঠিক খাদ্য অভ্যাস। আমরা যদি আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি টাটকা ফল মূল খায় তবে আমাদের শরীর বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকবে। তবে অধিক পরিমাণ কোন কিছুই ভালো নয় তাই টমেটো খাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে 

সকালে খালি পেটে টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

টমেটো হলো সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টমেটো রাখতে পারি কারণ টমেটোর গুণাগুণ অনেক বিশেষ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে টমেটোর উপকারিতা অনেক বেশি। টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি কিন্তু এখন আধুনিকতার যুগে প্রায় সারা বছরই টমেটো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ টক দই খাওয়ার উপকারিতা

টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। টমেটো আমরা সুপ,সালাদ সস অথবা তরকারি রান্না করে খায়। কিন্তু মজার বিষয় হলো যে টমেটো কাঁচা খেলে যেরকম গুনাগুন রান্না করা বা টমেটোর সস খেলেও একই গুনাগুন পাওয়া যায়। টমেটো আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রকমের প্রয়োজনীয় ভিটামিন খনিজ আয়রন এগুলো সরবরাহ করে।

  • টমেটোতে ভিটামিন সি  ভিটামিন কে ভিটামিন এ থাকে যার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ অ্যামিনো এসিড থাকে যার শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বিকে ঝরিয়ে দেয়। যার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পায়।
  • যে সকল ব্যক্তিদের বাত ব্যথার সমস্যা রয়েছে তারা যদি টমেটো খায় তবে তাদের শরীরের সকল ধরনের বাত ব্যথা কেটে ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
  • টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ফসফরাস কপার ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম উপস্থিত রয়েছে যা আমাদের  শারীরিক  বিকাশে সহায়তা করে।
  • খালি পেটে সকালে টমেটোর সাথে যদি গোলমরিচ খাওয়া হয় তাহলে অন্ত্রের কৃমি ধ্বংস হয়।
  • এছাড়াও প্রতিদিন সকালে টমেটোর সাথে যদি লেবুর রস খাওয়া হয় তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
  • খালি পেটে টমেটো খেলে রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যে সকল ব্যক্তির ডায়াবেটিস রয়েছে তারা নিশ্চিন্তে টমেটো খেতে পারেন।
  • টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার পরিমাণ বজায় রাখে। 

  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে টমেটো খাওয়ার ফলে চোখের দৃষ্টি শ ক্তি ভালো হয়।

  • ছোট বাচ্চাদের যদি টমেটো সালাদ খাওয়ানো হয় তাহলে তাদের স্মৃতিশক্তি এবং ব্রেনের বৃদ্ধি ভালো হয়   মেধার বিকাশ ঘটে।

সুস্থ শরীর আমাদের সকলেরই কাম্য। আমরা সকলেই চাই আমাদের স্বাস্থ্য যেন সুস্থ  থাকে। তাই শরীরকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে সকালে খালি পেটে টমেটো খাওয়ার উপকারিতা অনেক তাই আপনি যদি আপনার শরীরে সুস্থ রাখতে চান তাহলে অবশ্যই সকালে টমেটো খাবেন। 

কাঁচা টমেটোর উপকারিতা

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন কে উপস্থিত থাকে। কাঁচা টমেটো আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। আমরা কাঁচা টমেটো  সুপ ,সালাদ, বা সস হিসেবে খাই। যার মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ প্রবেশ করে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে। আমাদের ত্বকের জন্য ভিটামিন সি খুবই উপকারী। তাই আমরা যদি আমাদের দলকে সুন্দর উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় করতে চায় তাহলে কাঁচা টমেটো খেতে পারি।

হাড়ের সুরক্ষায়

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম ফসফরাস পটাশিয়াম থাকে। আমাদের হারকে মজবুত এবং সুস্থ রাখতে কাঁচা টমেটো খুব উপকারী।

কারসিনোভাব দূর করতে

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ক্লোরোজেনিক এবং কেউ মালিক এসিড থাকে যা আমাদের শরীরের কারসিনোভাব দূর করে।

চুলের যত্নে

কাঁচা টমেটোই উপস্থিত ভিটামিন সি আমাদের চুলের যত্নে খুব উপকারী। ভিটামিন সিএ আমাদের চুলের স্কাল্প গুলোকে পুষ্টিকর এবং বিভিন্ন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধের সহায়তা করে। এন্টি অক্সিডেন্ট কোষের অপ্রয়োজনীয় বৃদ্ধি রোধ করে।

অ্যাজমা প্রতিরোধে

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের এজমা জনিত সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত বা সপ্তাহে দুই দিন কাঁচা টমেটো খান অ্যাজমা থেকে দূরে থাকবেন কারণ কাঁচা টমেটোতে লাইককপিন নামক এনজাইম রয়েছে যা  এজমা প্রতিরোধ করে।

কাঁচা টমেটোর অপকারিতা 

আমরা তো আমাদের নিত্য দিনের খাবারের তালিকায় কাঁচা টমেটো খেয়ে থাকি কারণ আমরা জানি যে কাঁচা টমেটো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। পাশাপাশি কাচার টমেটো যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তেমনে কাঁচা টমেটোর কিছু অপকারি দিক রয়েছে।

হজমের সমস্যা

কাঁচা টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ লাইসোপিন নামক এনজাইম রয়েছে যা আমাদের শরীরে অধিক মাত্রায় প্রবেশ করলে হজমের সমস্যা করে।

কিডনির সমস্যা

কাঁচা টমেটোতে উপস্থিত বিচিতে প্রচুর পরিমাণ লাইকোপার থাকে যা  কিডনিতে স্টোন এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

এলার্জিজনিত সমস্যা

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের কাঁচা টমেটোতে এলার্জি রয়েছে তাই যাদের অ্যালার্জি আছে তারা যেন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

টমেটো প্রয়োজনের বেশি পরিমাণ গ্রহণ করলে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় যার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।

লাল টমেটোর উপকারিতা

লাল টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ভিটামিন সি এ ভিটামিন কে উপস্থিত রয়েছে। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ খনিজ উপাদানের বিদ্যমান। টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। টমেটোর তরকারি রান্না করলে এটি যেন আরো সুস্বাদু হয়। অনেকে তো লাল টমেটো বা পাকা টমেটোর সস তৈরি করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে। চলুন জেনে লাল টমেটোর উপকারিতা,

  • লাল টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ রক্ত উৎপাদনকারী পিগমেন্ট থাকে। প্রেগন্যান্ট রক্তের লোহিত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফলে আমাদের শরীরের রক্তশূন্যতা দূর হয়।
  • লাল টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার রাখে।
  • লাল টমেটোতে উপস্থিত ভিটামিন সি আমাদের মাড়ি ব্যথা, মায়ের গোড়া থেকে রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করে।
  • দাঁতের যত্নে টক জাতীয় খাবার খুব উপকারী কারণ টক খাবারে বিভিন্ন প্রকার এসিড উপস্থিত এবং সাদা রাখে।
  • টমেটোর স্যুপ আমাদের রক্তের টিএমএস এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
  • লাল টমেটো সালাদ করে খেলে আমাদের শরীরে অন্তরে বসবাসকারী কৃমি ধ্বংস হয়।
  • শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা আশ জাতীয় খাদ্য প্রয়োজন। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার উপস্থিত ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • যাদের পাইলস এর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য পাতা টমেটো বা লাল টমেটো খুব উপকারী।
  • এছাড়াও টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ক্রোমিয়াম রয়েছে যা আমাদের  রক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাণ কমায়।

টমেটো খেলে কি ইউরিক এসিড বাড়ে

ছেলে অথবা মেয়ে উভয়েই কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের কিডনিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিডনি বিভিন্ন কারণে আক্রান্ত হতে পারে তার মধ্যে একটি হলো ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনি ব্যথা শুরু হয়।

আমরা সবাই জানি যে টমেটো আমাদের জন্য খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারী একটি সবজি। কিন্তু এই সবজিও কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যাদের কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের টমেটো না খাওয়াই ভালো। কারণ টমেটো খাওয়ার ফলে রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে তবে সবার ক্ষেত্রে নয় শুধু যাদের কিডনিজনিত বা সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।

টমেটো খেলে কি ওজন কমে

আমরা অনেকেই আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করি। ডায়েট চলাকালীন আমরা তেল যুক্ত খাবার পরিহার করি পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি এবং সালাদ, বা সুপ খেয়ে থাকি। আসলেই কি সালা্দ বা সুপ  খেলে ওজন কমে?

হ্যাঁ বন্ধুরা আপনারা ঠিক ধারনা করেছেন টমেটোতে এমিনো এসিড রয়েছে যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলিয়ে দেয়। ব্যায়াম করার সময় আমরা যদি টমেটোর সালাদ খাই তখন আমাদের শরীর অতিরিক চর্বি ঘাম হয়ে শরীর থেকে নির্গত হয়। পাশাপাশি টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি রয়েছে ফলে আমাদের ডায়েট চলাকালীন খিদেও কম লাগে।

শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বজায় থাকার ফলে শরীর দুর্বল হয় না। পাশাপাশি খালি পেটে বা সকালে সালাদ  খাওয়ার ফলে রক্তের শর্করার পরিমাণ বজায় থাকে। সালাদ বা সুপ খেলে রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে  ফলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই শরীরের ওজন কমাতে টমেটো খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম।

টমেটো খেলে কি গ্যাস হয়

টমেটো হচ্ছে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন রকমের টক্সিক পদার্থ প্রস্তাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। তবে টমেটো খাওয়ার ফলে কিছু সমস্যাও হয়। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা যদি টমেটো খেতে থাকে রেগুলার তবে তাদের পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন তাদের বুক জ্বালাপোড়া, বুকে ব্যথা এবং ঢেঁকুর উঠতে থাকে।

আপনি যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে থাকেন তাহলে আপনি আপনার খাদ্য তালিকা থেকে টমেটো বাদ দিবেন। শরীরকে পুষ্টি এবং ভিটামিনের সরবরাহে অন্য বিভিন্ন রকমের রঙিন শাকসবজি  ফল্খমূল খেতে পারেন।

দিনে কয়টা টমেটো খাওয়া উচিত

টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে যেমন অনেক উপকার হয় ঠিক তেমনি টমেটো অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন হরমোনাল এবং ব্রেনের সমস্যা হয়। তাই নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনমতো টমেটো খাওয়া উচিত। শরীরকে পুষ্টি, বিভিন্ন ভিটামিন, ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম মারি সুস্থ রাখতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করতে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে দিনে  ২-৩ টি টমেটো খাওয়ায় যথেষ্ট।

পাকা টমেটো খাওয়ার উপকারিতা 

শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক গাঠনিকভাবে এবং দৈহিক বৃদ্ধিতে সুসংহত করতে পাকা টমেটো খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। পাকা টমেটো সালাদ, সুপ, সস তৈরি করেও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া হয়। আবার অনেকে পাকা টমেটোর আচার তৈরি করে সংরক্ষণ করে রাখে। এই খাবারগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। চলুন জেনে নেই খাওয়ার উপকারিতা গুলো,

  • গর্ভকালীন সময়ে পাকা টমেটো খাওয়ার ফলে শিশু এবং মা দুজনেরই পুষ্টির অভাব পূরণ হয়।
  • দীর্ঘদিন ধরে ধূমপানের ফলে ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে টমেটোতে উপস্থিত কিউমারিক খুবই উপকারী।
  • পাকা টমেটোতে উপস্থিত লাল পিগমেন্ট লোহিত রক্তকণিকার বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে ফলে শ্বেত রক্ত কণিকার বৃদ্রিদ্ধ রোধ করে।
  • পাকা টমেটোতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ হাড়ের ভঙ্গরতা দূর করে।
  • পাকা টমেটোতে উপস্থিত পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পলেট বাত ব্যথা এবং হাঁটুর ব্যথা দূর করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে পাকা টমেটো খুব উপকারী।
  • পাকা টমেটোতে উপস্থিত আয়রন ক্রোমিয়াম দেহে রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • টমেটোতে উপস্থিত ক্রোমিয়াম রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • টমেটোতে উপস্থিত কোলেস্টেরল শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি ঝরিয়ে দিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • টমেটোতে অধিক পরিমাণ ক্যালরি থাকায় শরীরকে পুষ্টি সরবরাহের টমেটো খুব উপকারী।
  • টমেটোতে উপস্থিত লাইসোপেন রক্তের বিষাক্ত পদার্থ যেমন নাইট্রোজেন ঘটিতে বজ্র পদার্থ, ইউরিক অ্যাসিড নিষ্কাশন করে  রক্ত থাকে জীবাণুমুক্ত।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টমেটো উপ খুবই উপকারী।
  • দাঁতের সুস্থতায়, মাড়ি ব্যথা, দাঁত কে উজ্জ্বল রাখতে টমেটোতে উপস্থিত ভিটামিন সি খুবই সহায়ক।
  • বাচ্চাদের মস্তিষ্কের এবং স্মৃতিশক্তির বিকাশ ঘটাতে টমেটোতে উপস্থিত বিভিন্ন  খনিজ পদার্থ খুবই উপকারী। 

পাকা টমেটো খাওয়ার অপকারিতা

পাকা টমেটোর উপকারিতা থাকার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা রয়েছে। তাই টমেটো খাওয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তবে পাকা টমেটো খাওয়ার অপকারিতা গুলো,

  • টমেটোতে উপস্থিত ইস্টামিল রক্তে এলার্জির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।
  • অধিক মাত্রায় টমেটো খাওয়ার ফলে টমেটোর নিচে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।
  • টমেটোতে উপস্থিত সালমোনিলা হরমোন ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।
  • রক্তে অধিক মাত্রায় লাইকোপেন বেড়ে গেলে ত্বকের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়।
  • অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে টমেটোতে উপস্থিত তাই রুমিন হরমোন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
  • টমেটোতে উপস্থিত পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করে।

উপরোক্ত রোগগুলো মূলত অধিক টমেটো খাওয়ার ফলে হতে পারে। তাই আমাদেরকে টমেটো খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের নিজের দ্বারায় কোন রোগ আমাদের শরীরে বসবাস করতে না পারে।

লেখক এর মন্তব্য

আজকের এই পোস্টটিতে আমি টমেটো খাওয়ার উপকারিতা টমেটো খাওয়ার ফলে কি কি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় অধিক পরিমাণ টমেটো খাওয়ার ফলে শরীরে কি কি  সমস্যা দেখা দেয় এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি আমার এই পোস্টটি পড়ে উপকৃত হন তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আপনি যদি এরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিষয়ে জানতে চান তাহলে নিয়মিত ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন এবং আপনার বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচয়দের সাথে শেয়ার করে দিবেন। পরবর্তী পোস্ট পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url