আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায়-আজওয়া খেজুর দাম ২০২৪

কাজুবাদাম খাওয়ার ২০টি উপকারিতাপ্রিয় পাঠক আপনি কি বাজারে গিয়ে আজওয়া খেজুর এর দাম এবং  আসল আজওয়া খেজুর চিনতে পারেন না? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার উপকারে আসবে কারণ আজকের আর্টিকেলে আমি আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায়  আপনাদেরকে জানাবো।

আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায়-আজওয়া খেজুর দাম ২০২৪

এছাড়াও আজওয়া খেজুর খাওয়ার নিয়ম, আজওয়া খেজুরের ইতিহাস এবং আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফলে কি কি উপকার হয় এরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে করুন।.

আজওয়া খেজুর খাওয়ার নিয়ম

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় খাবার ছিল খেজুর। তিনি নিজে খেজুর গাছ রোপন করতেন এবং তার সাহাবীদের কেউ খেজুর গাছ রোপনের জন্য উৎসাহ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যার ঘরে কিছু পরিমাণ খেজুর রয়েছে সে কখনো গরিব নয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আজওয়া খেজুর খাওয়ার উপদেশ আমাদেরকেও দিয়ে গেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে প্রতিদিন সকালে কেউ যদি ৭টা আজওয়া  খেজুর খাই তবে পুরো দিনের সে যদি বিষ পান করে থাকে তবুও তার কোন ক্ষতি হবে না। 

রমজান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম তার উম্মতদেরকে খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার করতে করতে বলতেন। নবী নিজেও প্রতিদিন সকালে ৭ টা আজওয়া খেজুর দিয়ে নাস্তা করতেন। পবিত্র কোরআনে ২৬ বার খেজুরের কথা উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপযুক্ত সময়

আজোয়া খেজুর দিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তা করা উত্তম। এছাড়াও রমজান মাসে আজোয়া খেজুর অথবা খুরমা খেজুর দিয়ে ইফতারি করলে অনেক সওয়াব এবং উপকার হয়। প্রতিদিন ৭ তা খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য খুব উপকারী। আপনি চাইলে দিনের যেকোনো সময়ও ৭ টাখেজুর খেতে পারেন।

আজওয়া খেজুরের ইতিহাস

আমরা যে আজওয়া খেজুর খেয়ে থাকি সে  আজওয়া খাজুরের আরব কাল থেকে রয়েছে প্রচুর সুনাম এবং ইতিহাস। আজওয়া খেজুর খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সেই দিন তার শরীরে বিষক্রিয়া হবে না। ডায়াবেটিস রোগীদের এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের আজোয়া খেজুর খাওয়া খুব উপকারী। আজোয়া খেজুর খেলে রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট সুস্থ থাকে।

এত উপকারী এবং ঔষধি গুন সম্পন্ন আজওয়া খেজুরের রয়েছে নবীর আমলের ইতিহাস। তাহলে চলুন জেনে নিই সুস্বাদু এবং জান্নাতি  আজওয়া খেজুরের ইতিহাস, 

সালমান ফারসি ছিলেন একজন ইহুদির ক্রীতদাস তার মালিক তাকে অনেক অত্যাচার করতো এবং অনেক ভারী ভারী কাজ করাতো যেগুলো তার পক্ষে করা খুব কষ্টকর ছিল। তাই একদিন সালমান ফারসি তার মালিকের কাছ থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। তার মালিক এ কথা শোনার পরে তাকে একটি শর্ত দেয় এবং বলেন যে তিনি যে কাজ করতে বলবেন সেটা যদি করতে পারেন তবে তাকে মুক্তি দিবে।

সালমান ফারসির মালিক তাকে কিছু পোড়া ফলের বীজ দেয় এবং বলেন যে এই ফল থেকে যদি ফসল ফলে তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু ফলগুলো ছিল পোড়া যেখান থেকে খেজুর উৎপন্ন হওয়া অসম্ভব ছিল সালমান ফারসির জন্য। এবং আরেকটি শর্ত দিয়েছিলেন যে তাকে ৪০ স্বর্ণের দিনার দান করতে হবে। যদি সালমান ফারসে মুক্তি চান তবে দুইটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

সালমান ফারসি পড়ে গেছেন বিপাকে যে কিভাবে এই পোড়া বীজ থেকে তিনি খেজুর উৎপন্ন করবেন তাই তিনি নবী সাঃ এর দ্বারস্থ হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ফারসির থেকে পুরো ঘটনা শুনে সেই মালিকের নিকট উপস্থিত হন এবং তাকে ৪০ স্বর্ণের দিনার প্রদান করেন।

এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ফারসিকে নিয়ে একটি খেজুর বাগানে অবস্থান করেন এবং সালমান ফারসিকে বীজগুলো ধরিয়ে দিয়ে বলেন , তুমি এই খেজুরের বীজগুলো সোজা লাইন ধরে বপন করে দাও। সালমান ফারসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কথা মত সোজা লাইন করে খেজুরের বীজগুলো বপন করে দিলেন।

আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী অবস্থায় টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

বীজ বপন শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির একটি পাত্র সালমান ফারসির হাতে তুলে দিয়ে বলেন যে, তুমি বীজগুলোতে পানি দিবে এবং যতক্ষণ না সবগুলো বীজে পানি দেওয়া হবে ততক্ষণ তুমি পেছনে ফিরে তাকাবে না। সালমান ফারসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কথামতো পেছনে না তাকিয়ে সকল বীজে পানি দিতে থাকেন।

তারপর?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আদেশ মত সকল গাছে পানি দেয়ার পর যখন তিনি পেছনে ফিরে তাকান দেখেন যে সকল খেজুর গাছে খেজুর ধরেছে এবং সেই খেজুরের ধোঁকা গুলো পেকে গেছে। এই খেজুরগুলো দেখতে কিছুটা কালো পোড়া রকমের কিন্তু স্বাদ অনেক বেশি।

এই হাদিসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর হাদীস থেকে সংকলিত। সালমান ফারসির এই কালো পোড়া পোড়া রকমের খেজুর আরব বাসি না আগে কখনো দেখেছে না খেয়েছে। পরবর্তীতে সালমান ফারসি এই খেজুর গুলোকে তার মালিকের নিকট প্রদান করেন এবং নিঃশর্ত মুক্তি পেয়ে যান। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সালমান ফারসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সাহাবী হয়ে যান।

সেই আরব কাল থেকে এই খেজুরটি অনেক সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। স্বয়ং নবীর হাতে উৎপন্ন তার জন্যই এই খেজুর কে জান্নাতি খেজুর বলা হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতি খেজুর খাওয়া তৌফিক দান করুক আমিন। 

আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায়

আজওয়া খেজুর হলো সৌদি আরবের বিখ্যাত এবং সুস্বাদু খেজুর । সৌদি আরবের এই খেজুরটি মদিনায় পাওয়া যায়। বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ খেজুরকে  আজওয়া খেজুর  বলে বিক্রি করছে। এখন আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন যে বাজারে গিয়ে কিভাবে আপনি চিনতে পারবেন আসল আজওয়া খেজুর কোনটি?

আজওয়া খেজুর ভালোভাবে চেনার জন্য আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আজওয়া খেজুরের রঙ কেমন? আজওয়া খেজুরের রঙ কালো কুচকুচে ধরনের। আজওয়া খেজুরের আকার অন্য সব রকমের খেজুর এর চেয়ে বড় কিন্তু মাঝে মাঝে এই আজওয়া খেজুরের সাইজ ছোট হয়ে থাকে। তাই আপনি যখন বাজারে যাবেন আজওয়া খেজুর কিনতে তখন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে আজওয়া খেজুরের রং কালো নাকি লাল।

বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা লাল খেজুর কে আজওয়া খেজুর নামে বিক্রি করছে। সাধারণ মানুষ যেহেতু আজওয়া খেজুর ভালোভাবে চেনেন না তাই তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। আপনারা ভালোভাবে দেখে কালো রংয়ের আজওয়া খেজুর কিনুন এবং নিম্নমানের খেজুর খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আজওয়া খেজুরের ছবি

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা যদি বাজারে গিয়ে আজওয়া খেজুর চিনতেন না পারেন তাহলে তো সমস্যা রয়েছে তার জন্য আমার উপরোক্ত লেখাগুলো পড়তে পারেন। তারপরেও আপনাদের সুবিধার জন্য আমি কিছু ছবি যুক্ত করেছি আজওয়া খেজুরের আপনারা বাজারে গিয়ে এইরকম খেজুর কিনবেন।






ইসলামে প্রতিদিন কয়টি আজওয়া খেজুর খাওয়া উচিত?

ইসলামি হাদিসে আজওয়া খেজুর কে সকল রোগের মহা ঔষধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ঠিক তেমনি এই খেজুর জান্নাতি খাজুর বলেও পরিচিত রয়েছে। আপনিও যদি এই জান্নাতি খেজুর খেতে চান এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন সকালে৭ সাতটি করে খেজুর খেতে হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রতিদিন কয়টা কাজু বাদাম খাওয়া উপকারী জেনে নিন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে, যদি কারো ঘরে কিছু পরিমাণ খেজুর মজুদ থাকে তাহলে সে ব্যক্তি কখনোই গরিব বা নিম্নবিত্ত হতে পারেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম প্রতিদিন সকালে ৭টি করে আজওয়া খেজুর খেয়ে নাস্তা করতেন এবং উনার সাহাবীদের কেউ খেজুর খেয়ে নাস্তা করার জন্য উৎসাহ দিতেন।

তাহলে আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে ইসলামে প্রতিদিন কয়টা করে খেজুর খাওয়ার কথা বলা রয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম যখন প্রতিদিন সকালে ৭টি করে খেজুর খেতেন তখন আমাদেরও উচিত প্রতিদিন ৭টি করে খেজুর খাওয়া।

আজওয়া খেজুর খাওয়ার ২০ টি  উপকারিতা

আজওয়া খেজুরের ২০ টি উপকারিতা হলো,

  • আজওয়া খেজুর ফুসফুস এবং ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
  • গর্ভবতী মহিলারা যদি প্রসবের আগে প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খায় তবে মাংসপেশির প্রসারণ ঘটিয়ে নরমাল ডেলিভারি হতে সাহায্য করে।
  • প্রসবের সময় নারীদের যেহেতু প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয় কিন্তু আজওয়া খেজুর খেলে রক্তক্ষরণ কমে যায়।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ডায়েটারি ফাইবার শরীরের উচ্চ কোলেস্টেরল কমায়।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত শর্করা দেহে শক্তি শক্তি সরবরাহ করে।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, লৌহ,হাত নখ এবং দাঁতকে সুস্থ রাখে।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
  • আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফলে দেহের স্নায়বিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • হজম শক্তির বৃদ্ধি করতে এবং পাকস্থলী সুস্থ রাখতে আজওয়া খেজুর খুব উপকারী।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ভিটামিন এ আমাদের দৃষ্টিশক্তির উন্নত করে।
  • আজওয়াখেজুর প্রতিদিন সকালে খেলে যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • পেটের গ্যাস এবং অম্লত্ব কমাতে আজওয়া খেজুর বেশ উপকারী।
  • আজওয়া খেজুর খেলে হার্ট সুস্থ থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত আজওয়া খেজুর খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • আজওয়া খেজুর খেলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • যেহেতু আজওয়া খেজুরের অধিক পরিমাণ ক্যালরি বিদ্যমান তাই দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ থাকা যায় আজওয়া খেজুর খেলে।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত শর্করা  এবং গ্লুকোজ এর পরিমাণ প্রস্রাবের ইনফেকশন এবং ইউরিন ইনফেকশন দূর করে।
  • গনোরিয়া, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ প্রতিরোধেও আজওয়া খেজুর কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
  • ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আজওয়া খেজুর খাওয়া খুব উপকারী কারণ আজওয়া খেজুর রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শিশুদের যদি রক্তশূন্যতা বা রিকেট রোগ হয়ে থাকে তাহলে প্রতিদিন সকালে যদি ৭টি করে খেজুর খাওয়া হয় তাহলে এই রোগ থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
  • প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খেলে শরীরের ক্লান্তি বোধ দূর হয়।
  • আদওয়া খেজুর খাওয়ার কারণে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ মুত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম হাড়কে সুস্থ রাখে।
  • খেজুরে উপস্থিত ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
এখানে তো শুধুমাত্র আজওয়া খেজুরের ২০ টি উপকারিতা উল্লেখ করলাম কিন্তু আজওয়া খেজুরের উপকারিতা এত বেশি যেগুলো গুনে শেষ করা যাবে না। আজওয়া খেজুরের উপকারিতা বেশি এর জন্যই তো একে সকল রোগের মহা ঔষধ বলা হয়। 

আজওয়া খেজুর দাম ২০২৪

আজওয়া খেজুর যেমন খুব উপকারী ঠিক তেমনি এর দাম একটু বেশি। আজওয়া খেজুর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হতে কিছু সময় লাগে এবং এরই মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ খেজুর কে আজওয়া খেজুর বলে বিক্রি করে। যাই হোক সেই সকল বিষয় না কথা বলে এখন আমরা কথা বলব যে আজওয়া খেজুরের দাম কত ২০২৪ সালে?

২০২৪ সালে বাংলাদেশে আজওয়া খেজুরের দাম এক কেজি  প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা।
আপনি যদি ভালো মানের আজওয়া খেজুর কিনতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই খেজুর কেনার আগে একটা টেস্ট করে দেখে নিতে হবে যে সেটা খেতে মিষ্টি নাকি অন্যরকম এবং দেখতে কালো হতে হবে। ২৫০ গ্রাম আজওয়া খেজুরের দাম ৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম আজোয়া খেজুরের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

২০২৪ সালে এক কেজি আজওয়া খেজুরের দাম ১৬০০ টাকা। আপনি যদি আজোয়া খেজুর এর দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই লিংকে চাপ দিয়ে যোগাযোগ করুন।

সকালে আজওয়া খেজুর খেলে কি হয়?

প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খেলে কি কি উপকার হয়,

  • প্রতিদিন সকালে খালি
  •  পেটে ৭টি আজওয়া খেজুর খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • সকাল বেলা খালি পেটে আজওয়া খেজুর খেলে পাকস্থলের অম্লত্ব দূর হয়।
  • সকালবেলা খালি পেটে আজওয়া খেজুর খেলে সারা দিনে কাজ করার শক্তি বৃদ্ধি পায় কারণ আজওয়া খেজুরে রয়েছে  ৮৯.৬ ভাগ শর্করা।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে।
  • সকালে আজওয়া খেজুর খেলে প্রস্রাব এবং ইউরিন এর ইনফেকশন দূর হয়।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ফ্যাট শরীরের অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরলকে জড়িয়ে দেয়।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
  • গর্ভবতী মহিলা যদি প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খায় তবে তার প্রসবকালীন প্রদাহ কম হবে।
  • গর্ভবতী মা যদি প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ৭টি করে আজওয়া খেজুর খায় তবে মা এবং শিশু দুজনেরই শরীরের রক্তের ঘাটতি দূর হবে।
  • আজওয়া খেজুর খেলে গর্ভবতীর মহিলার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • আজওয়া খেজুরে উপস্থিত ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই অনাগত নবজাতকের দৈহিক বৃদ্ধিতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করবে।
  • সকালে আজওয়া খেজুর খেলে স্নায়বিক চাপ বৃদ্ধি পায়।
  • সকালবেলা আজওয়া খেজুর খেলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং চুল পড়া কম হয়।
  • প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ইমিউনিটি সিস্টেম স্ট্রং হয়।

আজওয়া খেজুরে কোন ভিটামিন থাকে?

আজওয়া খেজুর হলো জান্নাতি খেজুর। এই খেজুর খাওয়ার কারণে যেমন সকল প্রকার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ঠিক তেমনি এই খেজুর খাওয়ার কারণে মানুষ মনে করে পৃথিবীতেই জান্নাতে ফলের স্বাদ গ্রহণ করল। কারণ এই ফল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর কুদরতি হাতের মহিমা।

আজওয়া ফলে রয়েছে বিভিন্ন রকমের প্রয়োজনীয় এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট। আজওয়া ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, প্রোটিন,ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফ্যাট,কার্বোহাইড্রেট, লোহ, হিমোগ্লোবিন,সায়ানিন, বিটা ক্যারোটিন,পটাশিয়াম, ফাইবার,ক্যালরি, সোডিয়াম,এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান।

আজওয়া খেজুর খেলে কি মেদ কমে

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে এত ভিটামিন প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সমৃদ্ধ আজওয়া খেজুর খেলে কি মেদ চর্বি কমবে? হ্যাঁ বন্ধুরা, আজওয়া খেজুরে রয়েছে সীমিত পরিমাণ ক্যালরি। প্রায় ১০০ গ্রাম আজওয়া খেজুর হয়ে রয়েছে ৭৭ ক্যালোরি। আপনি যদি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই আজওয়া খেজুর খেতে পারেন।

আর প্রতিদিন সকালে বা ব্যায়াম করার পরে যদি আপনি আজওয়া খেজুর খান তাহলে দীর্ঘক্ষণ আপনি খিদে মুক্ত থাকবেন যার কারণে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ঠিক তেমনি আজওয়া খেজুর পাকস্থলীতে পরিপাক হয়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং চর্বিকে ঝরিয়ে দেয় যার কারণে আপনার ওজন কমতে থাকবে।

তো আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা যদি আপনাদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই আজওয়া খেজুর খেতে পারেন। যদিও আজওয়া খেজুরের দাম একটু বেশি তবুও ওই যে কথাই রয়েছে না যিনিস যেটা ভালো দাম তো সেটার একটু বেশি হবেই।

লেখক এর কথা।আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায়-আজওয়া খেজুর দাম ২০২৪

আজকের আর্টিকেলটিতে আমি আসল আজওয়া খেজুর চেনার উপায় এবং ২০২৪ সালে আজও খেজুর  এর দাম কত এবং প্রতিদিন কয়টা করে আজওয়া খেজুর খাওয়ার কথা বলা হয়েছে এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন এবং আজওয়া খেজুর সম্পর্কে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন।

এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং উপরের আর্টিকেলটি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। পরবর্তী আর্টিকেল পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url