ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা-চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার

আমাকে যত্নে দুধ ও কাঁচা হলুদের ব্যবহারত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা, চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার, তৈলাক্ত ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আপনারা হয়তো অনেক জানার চেষ্টা করছেন। তাহলে আজকের এই আমার এই পোস্টটি তাদের জন্য।

এই পোস্টটিতে আমি আরো নিম পাতার ক্লিনজার, নিম পাতার টোনার, নিম পাতার ফেসপ্যাক কিভাবে তৈরি করবেন এবং ব্যবহার করবেন সেই সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো।

ভূমিকা

আমরা সকলেই চাই আমাদের ত্বক যেন সবসময় উজ্জ্বল লাবণ্যময়ী এ ফরসা থাকে। ত্বককে উজ্জ্বল ফর্সা করতে হলে ত্বকের প্রয়োজন যত্ন। ত্বকের যত্নে সব থেকে বেশি উপকারী হলো নিমপাতা। নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ত্বক যেমন ফর্সা হয় ঠিক তেমনি ব্রনের দাগ মেছতা এগুলোও দূর হয়। ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতেও নিম পাতা খুবই উপকারী তাইতো বলা হয় ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা অপরিসীম।

ব্রণের জন্য নিম পাতার ব্যবহার

ত্বককে ব্রনের দাগ থেকে দূর রাখতে নিমের পাতার ব্যবহার করা হয়। ব্রণের দাগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিমপাতার গুনাগুন এবং প্রশংসা করা হয়। তকে ব্রণ হলে তখন তোকে দাগ থেকে যায় এর জন্য ত্বক দেখতে খারাপ হয়ে যায় কিন্তু এই সকল সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে নিম পাতার উপকারিতা অনেক বেশি।

ত্বককে সুস্থ হেলদি দাগ হীন রাখতে নিম পাতার ফেসপ্যাক ক্লিনজার এমনকি নাইট ক্রিম বাড়িতে তৈরি করে ব্যবহার করা যায়। তাহলে ত্বকের ব্রণের দাগ দূর হয়ে যাবে। ত্বকের ব্রনের দাগ দূর করার জন্য তিনটি উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

ব্রনের দাগ দূর করতে নিম পাতার ফেসপ্যাক

প্রথমে নিমপাতা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে তারপর নিমপাতা বেটে নিতে হবে এর সাথে ১ কাচা হলুদ ও বেটে নিতে হবে। দুই চামচ নিমপাতা বাটা হাফ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা এবং এক চামচ গরুর দুধ নিয়ে একসাথে মিশ্রিত করে ফেসপ্যাকটি তৈরি করে নিতে হবে। ফেচপ্যক্টি মুখে দুই হাত দিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে এবং ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ব্রনের দাগ দূর করতে নিম পাতার টোনার

ত্বকের ব্রণের দাগ দূর করার জন্য নিম পাতার টোনারের ব্যবহার করে অনেক সুফল পাওয়া যায়। নিমপাতার টোনার তৈরি করতে হলে প্রথমে কিছু ফ্রেশ নিম পাতা ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তারপরে নিম পাতা গুলোকে একটি পাত্রে করে সেদ্ধ করে নিতে হবে। নিমপাতা গুলো যখন সেদ্ধ হবে তখন পানির কালার টা কিছুটা হলদে ভাব হবে।

আরও পড়ুনঃ খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা

এই পানিগুলোকে ঠান্ডা করে রাতে ঘুমানোর পূর্বে অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠে তুলো দিয়ে মুখে সুন্দর করে মেসেজ করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে যার ফলে ত্বকে ব্রন সৃষ্টি হয় না, ত্বক সুন্দর উজ্জ্বল ও ময়লা মুক্ত থাকে।

নিম পাতার নাইট ক্রিম

ত্বকে যখন চুলকানি হয় ব্রণ হয় ফুসরি বের হয় তখন যদি নিম পাতার নাইট ক্রিম ব্যবহার করা হয় তাহলে ত্বকের এ সকল সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়। নিম পাতার নাইট ক্রিম তৈরি করতে প্রথমে পরিমাণ মতো নিমপাতা ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ব্লেন্ডারে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। তারপর পেস্ট থেকে পানি গুলো বের করে নিয়ে তার সাথে এক চামচ, ক্যাপসু্‌ল, এবং চালের গুড়া মিশিয়ে একত্রিত পেশ করে নাইট ক্রিমটি তৈরি করা নেন।

তারপরে রাতে ঘুমানোর পূর্বে নাইট ক্রিমটি মুখে পাতলা প্রলেপ করে দেন এবং সকালে নিমপাতার টোনার দিয়ে মুখ পরিষ্কার কর। তাহলে ত্বকের বিভিন্ন ডার্ক সার্কেল ব্রণের দাগ রোদে পরা কালচে দাগ ইত্যাদি সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাবে। পাশাপাশি ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ফর্সা এবং দাগ হীন।

তৈলাক্ত ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার

ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকে নিম পাতার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা উচিত। কারণ তৈলাক্ত ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে যার ফলে সঠিকভাবে নিম পাতার ব্যবহার না জানলে ত্বকে কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আমাদের যাদের ত্বক প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত তাদের ক্ষেত্রে নিম পাতা দিয়ে তৈরি একটি স্পেশাল ফেসপ্যাক রয়েছে যার ফলে ত্বক থেকে তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে এবং তাকে ব্রণ হবে না। তৈলাক্ত ত্বকে তৈরির জন্য প্রথমে ছয় থেকে সাতটি নিম পাতা শুকিয়ে নিতে হবে তারপরে গুঁড়ো করে নিতে হবে।


শুকনো গুঁড়ো করা নিমপাতা ২ চা চামচ নিয়ে তার মধ্যে সামান্য পরিমাণ পানি, গোলাপ জল, এবং তার সাথে যদি একটু মসুরের ডাল মিশিয়ে একসাথে ফেস প্যাক তৈরি করে মুখে দেয়া হয় তাহলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যায়। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে মসুরের ডালের পানিও খুব উপকারী।

ত্বককে পরিষ্কার রাখতে নিম পাতার উপকারিতা তো অনেক বেশি কারণ নিমপাতাতে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্যাকটেরিয়া থাকে। আমাদের ত্বকের উপস্থিত থাকা সকল ক্ষতি করে জীবাণুকে ধ্বংস করতে নিম পাতায় উপস্থিত খুবই উপকারী। যার ফলে আমাদের ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং যেকোন রকম সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা করতে আমরা সকলেই চাই। ত্বককে উজ্জল ফরসা করতে হলে প্রয়োজন ত্বকের যত্ন নেওয়া। কিন্তু ইদানিংরা ব্যস্ত থাকি তাই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাইট ক্রিম ইউজ করি যার ফলে আমাদের ত্বক তাৎক্ষণিক উজ্জ্বল আকর্ষণীয় ফর্সা হয় কিন্তু আমাদের স্কিনের ড্যামেজ হতে থাকে।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ত্বক উজ্জ্বলকারী ক্রিমের মধ্যে ক্ষতিকর অ্যাসিড, প্যারাবেন এবং বিভিন্ন অ্যাসিড থাকে যেগুলো আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে। কিন্তু ঘরোয়া ভাবে যদি আমরা ত্বকের যত্ন নিই তাহলে আমাদের ত্বক নষ্ট হবার ত্বকের ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই থাকে না।

তাই সকলেরই উচিত ঘরোয়া ভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া। আর ত্বকের যত্নের নিম পাতার উপকারিতা এটাতো নতুন নয় সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। এমন কি গ্রাম্য ভাষায় প্রবাদ রয়েছে যে, যার বাড়িতে নিমগাছ আছে তার বাড়িতে স্বয়ং একটি ডাক্তার বিরাজমান। তাই নিম পাতার সঠিক ব্যবহার দিয়ে আমরা আমাদের ত্বককে ফর্সা করতে পারি।

নিমপাতা দিয়ে ত্বক ফর্সা হওয়ার উপায় তো অনেক রয়েছে তবে সঠিকভাবে সঠিক নিয়মে নিয়ম পাতা ব্যবহার না করতে পারলে ত্বকের অনেক ক্ষতি হয়। নিমপাতা দিয়ে সঠিকভাবে ত্বক ফর্সা হওয়ার জন্য কয়েকটি টিপস আলোচনা করা হলো,

  • নিম পাতার নাইট ক্রিম বাসায় তৈরি করে ব্যবহার করলেন ত্বক ওঠে উজ্জক, ফর্সা, এবং ত্বকের বিভিন্ন দাগ, রোদে পোড়া ভাব, রাত জাগলে চোখের নিচের ফোলা ভা, এগুলো দূর হয়ে যায়।
  • বাড়িতে নিমপাতা দিয়ে নিমপাতার ক্লিনজার তৈরি করে মুখ পরিষ্কার করলে মুখের তৈলাক্ত ভাব কমে যায় যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে তেল মুক্ত।
  • নিম পাতার টোনার তৈরি করলে এবং প্রতি রাতে যদি তুলো দিয়ে অথবা কটন দিয়ে মুখের ভালোভাবে লাগানো যায় তাহলে মুখ শুষ্ক ভাব কমে যায়।
  • ত্বককে ফর্সা করতে নিমপাতা বেটে মুখে দিলে মুখ ফর্সা হয়। তাই ত্বকের যত্নে নিমকারী তার উপকারিতা এত বেশি যা বলে ফুরানো যাবে না

নিম পাতা বেটে মুখে দিলে কি হয়

নিম পাতার উপকারিতা ত্বকের যত্নে তো খুবই উপকারী কিন্তু কাঁচা নিমপাতা মুখে দিলেন মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলো ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ কাঁচা নিম পাতাতে প্রচুর পরিমাণ এনটিঅক্সিডেন্ট থাকে যা মানুষের ত্বকে অবস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জীবা এগুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সুন্দর উজ্জ্বল এবং ফর্সা।

নিম পাতার ফেস প্যাক

ত্বককে উজ্জ্বল ফর্সা কোমল এবং সকল রকমের জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করতে নিম পাতার ফেসপ্যাক রয়েছে অনেকগুলো। নিম পাতার ফেসপ্যাক ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকেও ত্বকের রক্ষা করে। কারণ নিম পাতাতে এমন সব ওষুধ গুনাগুন রয়েছে যেগুলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণের হাত থেকেও ত্বকের রক্ষা করে।

নিম পাতার ক্লিনজার

আমরা যেমন ত্বককে পরিষ্কার করতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করি ঠিক তেমনি নিম পাতার ক্লিনজার দিয়ে আমাদের ত্বকে খুব সুন্দর করে পরিষ্কার করা যায়। আর এই নিম পাতায় ক্লিনজার তৈরি করতে নিমপাতা একটি পরিষ্কার পাত্রে দুই কাপ পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। 

নিম পাতা সেদ্ধ হওয়ার ফলে পানিগুলো ঝেড়ে নিয়ে ঠান্ডা করে একটি বোতলে করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতিদিন ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে মুখের সকল রকমের তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা হবে তাই ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা অনেকগুলো।

নিম পাতার টোনার

নিম পাতার টোনার ব্যবহারের ফলে ত্বক সতেজ থাকে। তাই আমরা যদি আমাদের ত্বকের সতেজ রাখতে চাই তাহলে নিয়মিত নিম পাতার টোনার ব্যবহার করতে পারি। নিম পাতার টোনার ব্যবহার করতে নিমপাতা সেদ্ধ করে নিম পাতার পানির সাথে মধু এবং গোলাপ জল মিশিয়ে স্ক্রাব করে মুখে লাগাতে হবে।

ফেসপ্যাক

নিম পাতার ফেসপ্যাক বানানোর জন্য প্রথমে কয়েকটি নিমপাতা ঠান্ডা পানিতে পরিষ্কার করে পাটাতে পিষে নিতে হবে। তারপর ২ চামচ নিমপাতা বাটা ১ চা চামচ হলুদ ১ চা চামচ গোলাপ জল এবং একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল একসাথে করে ক্রাফ করে ফেসপ্যাক তৈরি করে নিতে হবে।

উপরে উক্ত ফেসপ্যাক গুলো যদি নিয়মিত মুখে ব্যবহার করা হয় তাহলে খুব দ্রুতই আপনার ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা হবে এবং আপনি নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন যে নিমপাতা ব্যবহার করার ফলে আপনার তো কতটা হেলদি এবং স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।

ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা

আমাদের শরীরের যে কোন অঙ্গের থেকে মুখের ত্বক খুব বেশি নরম এবং নাজুক যার ফলে মুখের ত্বক শরীরে ত্বকের চেয়ে অনেকটা পাতলা হয়। আর মুখের ত্বকের জন্য বেশি ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দিয়ে আক্রান্ত বেশি হয়। এজন্য তোকে ত্বককে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিম পাতার উপকারিতা অপরিসীম।

নিম পাতার উপকারিতা গুলো ,

  • নিম পাতা দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগালে ত্বকের যাবতীয় ব্রণের সমস্যা যেমন ব্রনের দাগ, ব্রনের দাগ উঠে যাওয়ার ফলে গর্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে দ্রুত রক্ষা পাওয়া যায়।
  • নিম পাতার টোনার তৈরি করে ত্বকে লাগালে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যায়।

  • নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগালে ত্বকের তৈলাক্ত পাশাপাশি ত্বকের ডার্ক সার্কেলস কমে যাক।
  • নিম পাতা সাথে কাঁচা হলুদ মিশে ত্বকে লাগালে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হয়ে যায়।
  • নিম পাতার সাথে যদি গোলাপ জল এবং গ্লিসারিন একসাথে করে ফেসপ্যাক বানিয়ে তোকে লাগানো যায় তবে ত্বকের শুষ্ক রুক্ষতা ভাব কমে যায় যার ফলে তক হয়ে ওঠে সফট এবং উজ্জ্বল।
  • নিমপাতা এবং মসুরের ডাল একসাথে পেস্ট বানিয়ে তোকে লাগালে ত্বক ও ফর্সা হয়ে যায়।
  • নিম পাতা এবং গরুর দুধ একসাথে পেস্ট করে ঘাড়ে লাগালে ঘাড়ের দাগ উঠে যায়।
  • নিম পাতার সাথে যদি লেবুর রস চালের গুড়া এগুলো একসাথে করে একটি ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে লাগানো যায় তবে মুখের কালচে কালচে দাগ, ফুসকুড়ি দাগ এলার্জিজনিত সমস্যা থেকে খুব দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দিলে কি হয়

নিম পাতা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এ কথা তো আমরা জানি তবে নিম পাতার সাথে যদি কাঁচা হলুদ তকে দেয়া যায় তাহলে ত্বকের অনেক উপকারী হয়। প্রতিদিন যদি নিয়মিত কাঁচা হলুদ এবং নিম পাতা একসাথে পেস্ট করে মুখে ত্বকে লাগানো হয় তবে ত্বকের যাবতীয় রকমের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের ত্বক অনেক হাইড্রেটেড ফলে ত্বকে অনেক র‍্যাশ বের হয় কিন্তু যদি নিম পাতাও কাঁচা হলুদ একসাথে পেস্ট করে তোকে লাগানো হয় তাহলে ত্বকের ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আদ্র এবং কোমল।

এলার্জিতে নিম পাতার ব্যবহার

এলায় যেতে নিম পাতার ব্যবহার করার ফলে খুব উপকার পাওয়া যায়। শরীরে এলার্জি মূলত হয় বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জিজনিত কারণে। নিমপাতাতে প্রচুর পরিমাণ এন্টিব্যাকটেরিয়া রয়েছে যেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে খুব সহজে। তাই যদি নিমপাতা ব্যবহার করা হয় তাহলে এলার্জি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এলার্জি থেকে রক্ষা পেতে করণীয়

  • নিম পাতা বেটে শরীরের যে সকল জায়গাতে চুলকানি হয় সে সকল জায়গাতে পুরোপুরি প্রলেপ দিলে চুলকানি কমে যায়।
  • শরীরের এলার্জি কমাতে নিমপাতা দিয়ে যদি গোসল করানো হয় তাহলে এলার্জি কমে যায়।

  • এলার্জিজনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম পেতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিমপাতা খেতে পারেন
  • নিমপাতা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্ক্রাব করলে সে সকল জায়গায় জীবাণু মরে যায় যার ফলে এলার্জি কমে যায়
  • নিম পাতা শুকিয়ে গুড়া করে প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে খেলে চুলকানি থেকে দ্রুত উপশম হয়।

চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার

চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার এর ফলে চুলকানি অনেকটা কমে যায়। চুলকানি থেকে আরাম পেতে কিভাবে নিম পাতা ব্যবহার করতে হবে সেটা জানা প্রয়োজন। চলুন জেনে নেই কিভাবে নিম পাতা ব্যবহার করলে চুলকানি থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
  • নিম পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে ওই পানি দিয়ে গোসল করলে চুলকানি কমে যায়।
  • নিম পাতা বেটে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যে বিশেষ করে যেখানে চুলকানি রয়েছে সেখানে লাগালে চুলকানি কমে যায়।
  • প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিমপাতা খাওয়ার অভ্যাস করার ফলে এলার্জি বা চুলকানি থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
  • নিম পাতার শুকনা গুড়া গরম পানির সাথে খেলে এলার্জি কমে যায়।
আপনি যদি উপরোক্ত নিয়ম মাফিক নিমপাতা ব্যবহার করেন তাহলে আপনার শরীরের যাবতীয় চুলকানি জনিত বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকে উপশম পাবেন। নিমপাতা মূলত যেমন ত্বকের যত্নে উপকারী ঠিক তেমনি শরীরের যত্ন পাশাপাশির রোগ সারাতে উপকারী। তাই আমাদের শরীরে সুস্থ রাখতে নিম পাতার উপকারিতা অতুলনীয়।

লেখক এর কথা

আপনারা হয়তো আমার এই পোস্টটি পড়ে ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা কিভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে, কিভাবে ত্বকের এলার্জিজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন

নিম পাতার উপকারিতা, চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার, এলার্জিজনিত সমস্যায় নিম পাতার ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে আপনি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর জন্য তাদের কাছে পোস্ট শেয়ার করে দিবেন। পরবর্তী পোস্ট প্রকাশ করা পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url