জন্ডিসের কারন- লক্ষন - প্রতিকার ও করনীয়

বিলিরুবিনের মাত্রা কত হলে জন্ডিস হয়জন্ডিস রোগের কারণ লক্ষণ প্রতিকার এবং জন্ডিস রোগ হলে কি কি করনীয় এই সকল বিষয় নিয়ে হয়তো আপনি জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য অনেক উপকারী হবে। কারণ আজকের এই পোস্টটিতে আমি জন্ডিস রোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

জন্ডিসের কারন- লক্ষন - প্রতিকার ও করনীয়

জন্ডিস হলে কিভাবে বুঝব জন্ডিস হলে কি কি সমস্যা হয় জন্ডিস এর মূল কারণ কি এ সকল বিষয় নিয়ে  এই পোস্টটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল

ভূমিকা

জন্ডিস রোগটি হয় হেপাটাইটিস সি ভাইরাস এবং দূষিত পানি খাওয়ার ফলে। জন্ডিস রোগটি হলো মুলত রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। যখন রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ 1.2mg/dL অতিক্রম করে তখন মানব শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় যেমন বমি বমি ভাব ,ক্ষুধামন্দা ,ওজন  কমে যাওয়া  ইত্যাদি।

রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কি কি সমস্যা দেখা দেয়, কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায, জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি পেতে করণীয় ও প্রতিকার এ সকল বিষয় নিয়ে নিচে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো তাই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

জন্ডিস হলে কিভাবে বুঝব?

রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জন্ডিস হয়।আমরা কিভাবে বুঝব যে আমাদের জন্ডিস হয়েছে ? জন্ডিস হওয়ার পূর্বে কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেমন, জন্ডিস হলে ক্ষুধা মন্দা হয়, খাওয়ার অরুচি হয়, খুব অল্পতেই ক্লান্তি ভাব চলে আসে, শরীরের ওজন কমতে থাকে, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।

 প্রস্রাবের রং হলুদ হয়, হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, জ্বর আসলে শরীরের ঠান্ডা অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ গুলো যদি আপনার মাঝেদেখা দেয় তাহলে বুঝবেন যে আপনার জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি কিভাবে বুঝবেন যে আপনার জন্ডিস হয়েছে তার জন্য রক্তের বিলিরুবেন টেস্ট করে নিশ্চিত হবেন।

জন্ডিস হলে কি কি সমস্যা হয়

রক্তে বিলিরুবিন এর মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস হয়। বিলিরুবিন এর মাত্রা বেড়ে গেলে লিভারের অনেক ক্ষতি হয় কারণ বিলিরুবিয়ান সরাসরি লিভারকে গিয়ে আক্রমণ করে। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে খাবারের সঠিকভাবে হজম হয় না, শরীর কাজ করার শক্তি পায় না এরকম আরো অনেক সমস্যা দেখা দেয়।

  • জন্ডিস এ আক্রান্ত হলে চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় যার ফলে চোখ জ্বালাপোড়া করে।
  • প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায় যে যেখান থেকে পরবর্তীতে প্রস্রাবের ইনফেকশন হয়।
  • জন্ডিসের আক্রান্ত হলে তলপেটে ব্যথা হয় লিভারে প্রদাহ হয়।
  • জন্ডিসের আক্রান্ত হলে খাওয়ার রুচি  আসে না, খাবার খেতে ইচ্ছা করে না খাবার ভালোভাবে হজম হয় না যার ফলে পেটের সমস্যা লেগে থাকে।
  • খাবার সমস্যা হজম না হওয়ার ফলে পেট ফুলে যায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।
  • শরীরের ওজন কমে যায়।
  • জন্ডিস হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় যার ফলে একটু হাঁটাচলা করলে ক্লান্তি ভাব চলে আসে।
  • জন্ডিস হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে তখন শরীর নানার রকমের জটিলতায় ভোগে।

উপরে বর্ণিত সমস্যা গুলো একজন জন্ডিসের আক্রান্ত ব্যক্তি অনুভব করতে পারবেন কারণ জন্ডিস আক্রান্ত হলে লিভার  দিন দিন ড্যামেজ হতে থাকে। লেভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার ফলে আপনার জীবনী শক্তি কমতে থাকে।

জন্ডিস রোগের কারন

জন্ডিস হল এমন একটি রোগ যেখানে রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ বেড়ে গেলে জন্ডিস রোগের উপসর্গ গুলো দেখা দেয়। জন্ডিস রোগের আরেকটি কারণ হলো হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস রোগটি হেপাটাইটিস এ বি সি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস সি হলো নীরব ঘাতক । নিচেজন্ডিস রোগের কয়েকটি কারণ আলোচনা করা হলো,

  • রক্তে হিমোগ্লোবিনের অধিক পরিমাণ ভাঙ্গনের ফলে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। এই বিলিরুবিন জন্ডিস রোগের প্রধান কারণ।
  • হেপাটাইটিস সি,এ ,ই ভাইরাসের কারণে জন্ডিস হয়ে থাকে।
  • দীর্ঘদিন যাবত অ্যালকোহল মদ সিগারেট খাবার ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার কারণে জন্ডিস আক্রান্ত হয়।
  • ম্যালেরিয়া ,গলব্লাডারের প্রদাহ , পিত্তথলির সংক্রমণ ইত্যাদি রোগের কারণেও জন্ডিস হতে পারে।
  • কিডনি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ডিস হতে পারে।
  • অধিক তেল মসলাযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন যাবত খাওয়ার ফলে জন্ডিস রোগ হয়।
  • লিভার ক্যান্সার হওয়ার কারণেও জন্ডিস রোগ হয়।
  • অগ্নাশয়ের টিউমার, পিত্তথলিতে টিউমার গলব্লাডারের প্রদাহ ইত্যাদি রোগের কারণেও জন্ডিস রোগ হয়।
  • সিকেল সেল অ্যানিমিয়া হল  একটি জিন ঘটিত রোগ যেখানে লাল রক্ত কণিকা ভেঙে অর্ধচন্দ্রাকৃতির হয়ে যায়।ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

জন্ডিস  রোগ এর লক্ষণ 

জন্ডিস রোগের লক্ষণগুলো হলো,

  • চোখের সাদা অংশ চোখ হলদে ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  • প্রস্রাবের রং হলুদ হওয়া।
  • তলপেটে ব্যথা হওয়া মাথাব্যথা হওয়া।
  • খাওয়ায় অরুচি ভাব আশা ক্ষুধা মন্দা।
  • হঠাৎ ওজন হ্রাস পাওয়া।
  • রাতে জ্বর আসা এবং জ্বর আসলে শরীররে কাপুনি হওয়া।
  • শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
  • অল্পতেই ক্লান্তি ভাব চলে আসে এবং কোন কাজ করতে না পারা।
  • জন্ডিসে আক্রান্ত হলে নাক দিয়ে পানি বের হয়, সব সময় সর্দি লেগে থাকা, এবং কার্যক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।

জন্ডিস রোগ থেকে উপশম পেতে অতিসত্বর ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং ডাক্তারের বলা মত চলতে হবে ওষুধ নিতে হবে। পাশাপাশি জন্ডিস রোগের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যায় ভ্যাকসিন নিতে হবে। তবুও যেকোনো রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিকার খুব প্রয়োজন।


জন্ডিস রোগের প্রতিকার

রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ বেড়ে গেলে জন্ডিস রোগ হয়। তাই জন্ডিস রোগের প্রতিকার হিসেবে আমাদেরকে সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেগুলো করলে রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক জন্ডিস রোগের প্রতিকার গুলো কি কি,

  • জন্ডিসের আক্রান্ত রোগীকে প্রতিদিন অন্তত দুই গ্লাস আখের গুড়ের শরবত খাওয়ান। আখের গুড় খাবার ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমতে থাকে এবং এর ফলে জন্ডিস থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যাবে।
  • জন্ডিসের আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘোল খাওয়ানো খুব উপকারী। ঘোল খাওয়ালে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং জন্ডিস এর প্রকোপ কমতে থাকে।
  • জন্ডিস এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে টাটকা ফলের শরবত বা জুস খাওয়াতে হবে। তরমুজ এবং খারবুজার  রস জন্ডিস রোগ সারাতে খুব উপকারী।
  • লেবুর রসের সাথে লবণ এবং গোলমরিচ মিশ্রিত করে খাওয়ালে জন্ডিস রোগ দ্রুত সেরে যায়।
  • জন্ডিস রোগ সারাতে পেঁয়াজ খুব উপকারী। পেঁয়াজকে কুচি কুচি করে কেটে তার সাথে গোলমরিচ বেটে রস ছেঁকে নিয়ে খাওয়ালে রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা কমতে থাকে।
  • মুলো পাতা জন্ডিস কমাতে খুব উপকারী। মুলো পাতা বেটে খাওয়ালে পেট পরিষ্কার হয় পাশাপাশি ক্ষুধা তৈরি হয় যার ফলে রোগীর খাবার রুচি হয়।
  • টমেটোর সস বা টমেটো খাওয়ানো জন্ডিসের খুবই উপকারী কারণ টমেটোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং ফলিক এসিড থাকে যেগুলো খাবার হজমে সহায়তা করে।
  • জন্ডিস রোগ সারাতে ডাবের পানি বা গ্লুকোজ খাওয়ানো খুব জরুরী। ডাবের পানি বা গ্লুকোজ খাওয়ালে জন্ডিসের আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের দুর্বলতা দূর হয়।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব তরল খাবার খাওয়াতে হবে যেমন তৈরি করে খাওয়ানো বা টমেটোর সস তৈরি করে খাওয়ানো বা ফলের রস এগুলো খাওয়ালের দ্রুত জন্ডিস থেকে উপশম পাওয়া যায়।

  জন্ডিস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

শরীরে যখন কোন রোগ বাসা বাঁধে তখন সেই রোগ সারানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই আমাদেরকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের শরীর সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকে। শরীরে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের প্রয়োজন সঠিক খাদ্য অভ্যস। জন্ডিস রোগকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় এই প্রশ্নটি আমাদের সকলের মাথায় আসে। কিন্তু কিভাবে প্রতিরোধ করব সেটা আমরা জানি না।


 জন্ডিস রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আমাদেরকে সব সময়  আলো বাতাস পণ্য গৃহে বসবাস করতে হবে।অধিক তেল যুক্ত বা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। যদি কারো ধূমপান বা মধ্যপানের অভ্যাস থাকে তাহলে সে অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে হবে। লিভারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের কাঁচা ফলমূল একজন টাটকা শাক-সবজি খেতে হবে। 

পাশাপাশি লিভারের সুস্থতা দান করার জন্য ডাবের পানি গ্লুকোজ স্যালাইন এগুলো নিয়মিত খেতে হবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। লিভার কে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ২ কিলোমিটার হাটাহাটি করবেন তবে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং অতিরিক্ত চর্বিও হতে পারবে না।

জন্ডিস হলে করনীয়

জন্ডিসের আক্রান্ত হলে আমাদের প্রথম এবং প্রধান করণীয় হল বিশ্রাম নেওয়া। জন্ডিস কোন রোগ নয়। জন্ডিস হয় রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে। সাধারণত ৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম এবং যত্নের ফলে রক্তে বিলিরুবিন এর মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই এই ৭থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বিশ্রামই হল জন্ডিস এর প্রধান ওষুধ।

এই সময়ে রোগীকে প্রচুর পরিমাণ ডাবের পানি গ্লুকোজ খাওয়াতে হবে যেন রোগী অসুস্থ না হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে এই সময়ে রোগের মুখে রুচি থাকে না তাই রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন সরবরাহ করার জন্য মাছ মাংস ডিম খাওয়াতে হবে। রোগীকে প্রয়োজনে শাকসবজির সুপ তৈরি করে খাওয়াতো হবে।

 এই সময় রোগীকে প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়াতে হবে কমপক্ষে হলেও দিনে  অন্তত ৮ ক্লাস পানি খাওয়াতে হবে  তাহলে পানির সাথে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। পাশাপাশি রোগের শরীরে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিনের সরবরাহ এর জন্য বাদাম কাজুবাদাম কিসমিস লেবু তরমুজ এগুলো খাওয়াতে হবে।

বিলিরুবিনের মাত্রা কত হলে জন্ডিস হয়

রক্তরসে অবস্থিত লোহিত রক্তকণিকার ভাঙ্গনের ফলে বিলিরুবিন ও বিলিভ গার্ডেন উৎপন্ন হয়। বিলিরুবেন পরবর্তীতে পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরসের সাথে পরিপাকতন্ত্রের প্রবেশ করে এবং পরিপাকতন্ত্রের পাক তন্ত্রের পরে প্রস্রাব হিসেবে দেহ থেকে নির্গত হয়। কিন্তু কোন কারনে যদি বিলিরুবিন দেহ থেকে নির্গত না হতে পারে তবে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।


রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে চোখ হলদে হয়ে যায়, প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশেষ করে ত্বকের রং পরিবর্তন হয় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, রেচনতন্ত্রের সমস্যা হয় ইত্যাদি আরো অনেক রকমের উপসর্গ দেখা দেয়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কত হলে জন্ডিস হয়,


রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা 1.2mg/dL এটা হল রক্তে বিলিরুবিনে স্বাভাবিক মাত্রা। কিন্তু কোন কারণে যদি এই বিলিরুবিনের মাত্রা 1.2 অতিক্রম করে তাহলে বুঝে নিতে হবে যে সে ব্যক্তিটি জন্ডিসে আক্রান্ত. তাহলে সে ব্যক্তিকে খুব দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 

বিলিরুবিনের পরিমাণ কমানোর উপায়   

অধিক পরিমাণ হিমোগ্লোবিন ভাঙনের ফলে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই রক্তে বিলিরুবেন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • রক্তের বিলিরুবিন এর পরিমাণ কমানোর জন্য অধিক পরিমাণ পানি পান করতে হবে।
  • রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • রক্তের বিলিরুবিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মুলা পাতা ওলেবুর রস খেতে হবে।
  • প্রতিদিন অন্তত দুই গ্লাস করে শরবত খেলে রক্তে বিলিরুবিন পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • রক্তের বিলিরুবিন  নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ খুব উপকারী। পেঁয়াজ বাটার সাথে যদি গোল মরিচ আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাওয়ানো হয় তবে দ্রুত রক্তের বিলিরুবিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
  • যেহেতু হেপাটাইটিস সি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই হেপাটাইটিসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
  • রোগীকে নিয়মিত ডাবের পানি গ্লুকোজ এবং স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
  • রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তরল খাবার খাওয়াতে হবে পাশাপাশি টাটকা শাক সবজির সুপ খাওয়াতে হবে।
  • রোগীকে আলো বাতাস পূর্ণ গৃহে বসবাস করতে হবে যেন সূর্যের আলো তার শরীরকে স্পর্শ করতে পারে সূর্যের আলোর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
  • রোগীর শরীরে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন এর সরবরাহ হয় সেজন্য রোগীকে মাছ মাংস ডিম খাওয়াতে হবে
  • লিভার কে সুরক্ষিত রাখার জন্য অধিক তেল বা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিদিন কম করে হলেও ২ কিলোমিটার হাটার  অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

উপরোক্ত কাজ গুলো যদি জন্ডিসের আক্রান্ত ব্যক্তিকে করানো হয় তবে আশা করা যায় যে ৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তার রক্তের বিলিরুবিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সে সুস্থ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে, যে ব্যক্তি একবার আক্রান্ত হয় সে কিন্তু বারবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তাই তার খাবার এবং জীবন যাপনের দিকে সতর্ক থাকতে হবে যেন দ্বিতীয়বার তাকে এই সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।
 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url