মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর উপায়

কিভাবে জন্ডিস প্রতিরোধ করা যায় জেনে নিনআমার প্রিয় পাঠক পাঠিকা আপনারা নিশ্চয় মাইগ্রেন কি , মাইগ্রেনের হলে কোথায় ব্যথা হয় কিভাবে মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ইত্যাদি সম্পর্কে জানার জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু কোথাও সঠিক তথ্য না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন ।তবে  চিন্তার কোন  কারণ  নেই আমি আজকের এই পোস্টটিতে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি ।আপনি যদি  মাইগ্রেন সম্পর্কে   বিস্তারিত জানতে চান তাহলে পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।


এই পোস্টটিতে আমি মূলত মাইগ্রেন সংক্রান্ত সকল রকমের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং কিভাবে মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ,কোণ  ওষুধ সেবন করলে ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এই পোস্টটি লেখা।

মাইগ্রেন কি

মাইগ্রেন একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ হলো মাথায় একপাশে ব্যথা। এই ব্যথা মূলত একপাশ থেকে শুরু হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পরে। এটি একটি নিউট্রাল সমস্যা। মাইগ্রেন এ আক্রান্ত ব্যক্তিরা আলো এবং শব্দের প্রতি তীব্র সংবেদনশীল হয় যার ফলে তীব্র আলো চোখে পড়ার সাথে সাথে মাথায় ব্যথা শুরু হয়ে যা।

আরও পড়ুনঃ চর্মরোগ সারাতে নিম পাতার ব্যবহার

আবার উচ্চ শব্দের ফলেও মাথার এক পাশে ব্যথা শুরু হয় এবং এই ব্যথা ক্রমশ মানে চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত হলে মূলত বমি বমি হয়, মাথা ঘোরায় ,  মাথায় প্রচন্ড রকমের যন্ত্রণা হয় , কোন কিছু ভালো লাগে ন মাথা ঝিমঝিম করে ইত্যাদি। মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকক্ষণ ধরে দীর্ঘস্থায়ী হয় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এ ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর উপায়

মাইগ্রেনের ব্যাথা মূলত মাথার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। যে সকল ওষুধ সাজেস্ট করেন সে সকল ঔষধ খেলে কিছুক্ষণ আরাম পাওয়া যায় কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আরাম পাওয়া যায় না। মূলত মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে হলে লাইফস্টাইল মেনটেন করে চলতে হবে ।

মাইগ্রেন মূলত পুরুষদের যে মহিলাদেরই বেশি হয়। এটা মূলত বংশগত কারণেও হতে পারে অথবা শরীরে সেরোটোনিম হরমোন এর ভারসাম্য নষ্ট হলেও মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়। যখন মাথাব্যথা শুরু হবে তখন একটি প্লাস্টিকের পর ব্যাগে করে বরফ নিয়ে মাথাতে নাড়াচাড়া করবেন তাহলে ব্যথার কিছুটা উপশম হবে।
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে তা অনেকক্ষণ ধরে স্থায়ী হয় এবং প্রায় ৪৮ ঘন্টা ধরেও স্থায়ী হয়। মাথা ব্যথা কমাতে যোগব্যায়াম করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে, টেনশন মুক্ত থাকতে হব্‌ এছাড়া ব্যথা শুরু হলে আদাযুক্ত চা খেতে পারেন, অথবা গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খেলে অনেকটা আরাম পাওয়া যাই ।

মাইগ্রেনে কি আদা উপকারী

যে সকল ব্যক্তি মাইগ্রেন ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্য আদা খুব উপকারী একটি উপাদান । আপনি যদি আপনার প্রতিদিনের চায়ের সাথে আদা মিশিয়ে খান তবে আপনি অনেকটা উপকৃত হবেন। এছারাও  আপনি যদি আদা এবং লবঙ্গ একসাথে মিশিয়ে চা বানিয়ে খান তবে  অনেক উপকারিত হবেন। তাছাড়াও আদা কুচি কুচি করে চিবুতে থাকলে মাথা ব্যথা অনেকটা কমে যায়।

মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কি ঘুমানো যায়

মাইগ্রেনের ব্যথা মূলত মাতা একপাশ থেকে শুরু হয় এবং চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথা প্রায় চার থেকে 72 ঘন্টা পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়। মাইগেনের ব্যাথার জন্য মূলত মানসিক চাপ পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস চালানো অফিসের ক্লান্তি ইত্যাদি প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়ার ফলে মাথাব্যথা তো এমনিতেই হয় কিন্তু যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে আরো বেশি সমস্যা হই।
যখন মাইগ্রেনের  মাথাব্যথা শুরু হয় তখন তো স্বাভাবিক ঘুম আসে না কিন্তু আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো যায়। আর এখনকার দিনে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করার ফলে মানসিকভাবে আমরা খুবই বিষন্ন। তাই আমাদেরকে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সম্পূর্ণ রকমের ডিভাইস যেমন মোবাইল ল্যাপটপ pc ইত্যাদি বন্ধ করে রাখতে হবে। 

কারণ আমরা জানি কোন কিছু আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় 0.017  থাহি হয় দীর্ঘস্থায়ী। তাই মাইগ্রেন সহ সকল প্রকার মাথাব্যথা দূর করতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে ঘুমের কোন বিকল্প নেই।

মাথার পিছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ

মাথার পেছনে ডান পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ হলো মাইগ্রেন, হেড এটাক অথবা ক্লাসটার এটাক।

মাইগ্রেন; মাইগ্রেন মূলত মাথার মাথার এক পাশ যেমন ডান পাশ থেকে ব্যথা শুরু হয়ে চারপাশে মাথার ছুড়ে পড়ে এবং রক্তের শিরায় শিরায় বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে যার ফলে কপাল ব্যথা করে এবং মনে হয় যেন মাথার রং গুলো ছিড়ে যাচ্ছে।

হেড অ্যাটাক; এটাই মূলত নরমাল মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা করা। তবে অনেক ক্ষেত্রে নরমাল মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের রোগ নিতে পারে। তাই আমাদেরকে মাথাব্যথা বিষয় অবহেলা করা চলবে না ।

সাইনাস; সাইনাস মূলত দুই প্রকার। ক্রনিক সাইনাস ও অ্যাকিউট সাইনাস। সাইনাস মূলত মাথা ব্যথা চোখের নিচে ব্যথা দিয়ে শুরু হই তাই মাথার পেছনে বা ডান পাশে ব্যথা হওয়ার হওয়ার ফলে সাইনাসে আক্রান্ত হতে পারে।

 মাইগ্রেনের ৫ টি ওষুধ

মাইগ্রেন প্রাইম সকল মানুষেরই আছে কিন্তু তারা বুঝতে না পেরে সঠিক মতো চিকিৎসা করে না যার ফলে রোগটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তবে ডাক্তারদের কথা মত ওষুধ খেলে শুধু মাইগ্রেশন সারবে না। মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সঠিক খাদ্য অভ্যাস হাইড্রেটের ঢাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম অপরিহারজ।

ডাক্তাররা অনেক ওষুধের খেতে বলেন তার মধ্যে পাঁচটি ওষুধের নাম হলো,

Beladona;Beladona মাইনের অন্যতম হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আপনি যদি হঠাৎ করে রোদে যান অথবা তীব্র আলোর সংস্পর্শে মাথাব্যথা শুরু হয় তাহলে আপনি বেলাডোনা ব্যবহার করতে পারেন।

Nux Vomica; মাইগ্রেন অথবা মাথা ব্যথা বা যেকোনো রকমের মাথা সমস্যার জন্য আপনি নিতে পারেন. এই ওষুধটি সম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ

এপি ফেগাস; এটি মাইগ্রেন ব্যথার আরেকটা উপকারে ওষুধ। এ ওষুধটি মূলত মাথাব্যথা, অতিরিক্ত মানুষের চা্‌ উচ্চ রক্ত প্রবাহ সমস্যায় ওষুধটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

Tufnil; টাফনিল ওষুধে মাথাব্যথার জন্য খুবই উপকারে আসে। তাই হঠাৎ মাথাব্যথা ময়নার ব্যাথা শুরু হলে তা আপনার ব্যবহারে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।

Anilic; এই ওষুধটি আপনার মাথা ব্যাথা সারাতে খুবই উপকারী হবে. যে কোন রকমের মাথা ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পড়বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত. আর্লিক ওষুধটি মূলত মাথা ব্যথা তবু ও মাইগ্রেন দুদিন প্রকারের হয় তাই সঠিকভাবে ডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিয়ে তবে সত্যি সেবন করা উচিত।

মাইগ্রেনের জন্য কি ম্যাগনেসিয়াম ভালো

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের খাদ্য তালিকা ও পরিবর্তন করতে হবে। মাইন্ডের জন্য যে সকল খাবার খাওয়া প্রয়োজন এবং যে সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে সেগুলো নিচে দেওয়া হল,

  • প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে। তাছাড়া টাটকা ফলমূল প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকে তাই প্রচুর পরিমাণ টাটকা ফর্মুলা  শাকসবজি খেতে হবে।
  • মাইগ্রেন মূলত পুরুষদের চেয়ে নারীদেরই বেশি হয়ে থাকে তাই প্রচুর পরিমাণ দানা জাতীয়  খেতে হবে। কারণ দানা জাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।
  • টক দই প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। তাই টক দই খেতে হবে।
  • এছাড়াও মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদা জাতীয় লবঙ্গ দেয়া চা খেতে হবে।
  • মাইরালের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য মাছ খেতে হবে। সামুদ্রিক মাছের প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে যা আমাদের শরীরকে পুষ্টি যোগান দেয়। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছের প্রোটিন রয়েছে যা সেরেটোনিন হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে ।

লেখক এর মন্তব্য

পরিশেষে একটাই কথা বলব যে মাইগ্রেন ওষুধ খেয়ে নিরাময় হও রোগ নয়। মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে সঠিক জীবন অভ্যাস তৈরি করতে হ... সুস্থ জীবন যাপন করতে হবে নিয়মিত টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে তাহলে মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আমার প্রিয় বন্ধুরা উপর উক্ত পোস্ট পেতে আমি মাইগ্রেন সংক্রান্ত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার পোস্টটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হন তবে অবশ্যই পোস্ট দিতে একটি কমেন্ট করে যাবেন এবং এই সংক্রান্ত যদি কিছু জানতে চান তবে কমেন্ট সেকশনে আপনি কমেন্ট করে জানাবেন।

যদি পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আমার ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করবেন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেবেন এবং তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানার জন্য সুযোগ করে দিবেন এবং পরবর্তী পোস্ট পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url