কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-প্রতিদিন কতটুকু ছোলা খাওয়া উচিত

খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতাকাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা প্রতিদিন কতটুকু ছোলা খাওয়া উচিত এগুলো আমরা সকলেই জানতে আগ্রহী তাহলে চলুন আর দেরি না করে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-প্রতিদিন কতটুকু ছোলা খাওয়া উচিত

সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে কি উপকার হয় কাঁচা ছোলা খাওয়ার ফলে কি ওজন কমে এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আজকের পোস্টটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি তাই পুরো পোস্টে মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

ছোলা হলো একটি প্রোটিন ফাইবার ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। তাই ছোলা আমরা যেভাবেই খায় না কেন এটা আমাদের শরীরের কোন না কোন উপকার করবে। আমাদের দেশে অনেকেই রয়েছেন যারা সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেয়ে থাকেন। কাঁচা ছোলা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে যে সকল উপকার হয় সেগুলো হল,

  • ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ কাঁচা ছোলা তে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট ফসফরাস আমাদের শরীরের স্তন ক্যান্সার কোলন ক্যান্সার ফুসফুসের ক্যান্সার রেক্টাল ক্যান্সার দূর করে। আমরা যদি প্রতিদিন সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে আমাদের শরীর বিভিন্ন রকমের ক্যান্সারের প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকবে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেঃ কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম রক্তনালীকে প্রসারিত করে যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • চুলকে সুস্থ রাখতেঃ ছোলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন এ ভিটামিন বি জিঙ্ক ম্যাঙ্গানিংজ  খনিজ উপাদান যেগুলো আমাদের চুলের গোঁড়া শক্ত করে এবং চুল ভেঙে যাওয়া দূর করে।
  • চর্বি কমাতেঃ ছোলা হলো একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এতে রয়েছে শর্করা ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন এবং খুব কম মাত্রার ফ্যাট। ছোলাতে খুব কম মাত্রার ফ্যাট থাকার কারণে এটি আমাদের অতিরিক্ত চর্বি কমায়।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ ১০০ গ্রাম ছোলাতে রয়েছে ৬৫ গ্রাম কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যার ফলে রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • ওজন কমাতেঃ খালি পেটে ভেজানো ছোলা খেলে এটা আমাদের শরীরে অত্যাধিক মাত্রায় এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার সরবরাহ করে যার কারণে অধিক সময় আমাদের পাকস্থল পরিপূর্ণ থাকে। পাকস্থলী পরিপূর্ণ থাকার কারণে ক্ষুধা কম লাগে এবং আমাদের ওজন কমতে থাকে।
  • রক্তশূন্যতা দূর করতেঃ কাঁচা ছোলাতে অধিক পরিমাণ আয়রন উপস্থিত থাকে। প্রতিদিন সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং রক্তশূন্যতা দূর হয়।
  • হিমোগ্লোবিনের বৃদ্ধি করতেঃ কাঁচা ছোলাতে অধিক পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট ফাইবার এবং আয়রন উপস্থিত যেগুলো রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • প্রোটিন সরবরাহ করেঃ আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যারা নিরামিষ তাই তাদের শরীরে প্রোটিনের সরবরাহ করা অধিক প্রয়োজন। তাই প্রতিদিন সকালে যদি কাঁচা ছোলা খায় তবে তাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হবে।

সকালে কাঁচা ছোলা খালি পেটে খাওয়ার কারণে উপরোক্ত উপকারগুলো আমরা পেয়ে থাকি। তাই আমরা যদি চাই যে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং বিভিন্ন রকমের জটিল সমস্যা দূর করতে তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

সকালে খালি পেটে ছোলা খাওয়ার নিয়ম

সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শরীরে প্রোটিনের সরবরাহ হয় আইরন ঘাটতি দূর হয় হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের ত্বক উজ্জ্বল এবং সুস্থ থাকে। তবে এই সকল উপকারিতা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সকালে খালি পেটে ছোলা খেতে হবে।

আরও পড়ুনঃ গরম পানিতে মধু খাওয়ার ফলে কি কি উপকার হয়

সকালে খালি পেটে ছোলা খাওয়ার জন্য আগের দিন রাতে এক বাটি পরিষ্কার পানিতে কিছু ছোলা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকাল বেলা ছোলার পানি গুলো বদলে নতুন পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে। আপনি যদি এভাবে প্রতিদিন খালি পেটে ছোলা খান তবে আপনার যৌন শক্তি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মেটাবলিজম ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

জিম করার পর কাঁচা ছোলা খেলে কি হয়

আমরা আমাদের শরীরকে পিঠ রাখার জন্য ব্যায়াম বা জিম করে থাকে। ব্যায়াম বা জিম করার পরে আমাদের শরীর অনেক ক্লান্ত থাকে এবং শরীর থেকে অধিক পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। ঘাম হিসেবে শরীর থেকে অধিক পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে শরীর অনেকটা দুর্বল এবং ক্লান্ত হয়ে যায়।

শরীরের এই দুর্বলতা বা ক্লান্তি তাৎক্ষণিক দূর করার জন্য প্রয়োজন এমন কিছু খাবার, যে খাবার খেলে দ্রুত শরীরে এনার্জি চলে আসবে। তাই শরীরকে তাৎক্ষণিক দ্রুত এনার্জিটিক করে তোলার জন্য কাঁচা ছোলার কোন বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ কচি ডাবের পানি খাওয়ার সকল উপকারিতা

জিম করার পরে কাঁচা ছোলা খেলে আমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর হয় পাশাপাশি অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের হওয়ার কারণে  পানির যে ঘাটতি হয় ছোলা সে পানির ঘাটতি পূরণ করে। ছোলাতে অধিক পরিমাণ ফাইবার এবং পটাশিয়াম থাকার কারণে রক্তের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ছোলাতে উপস্থিত সালফার শরীরের জ্বালাপোড়া অথবা হাত-পা জলা দূর করে।

ছোলাতে রয়েছে অধিক পরিমাণ প্রোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফাইবার যেগুলো আমাদের  পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ রাখে। আমাদের পাকস্থল দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ থাকার কারণে ক্ষুধা কম লাগে এবং বিভিন্ন ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বিরত রাখে। জিম করার পরে শরীরে দ্রুত ক্যালসিয়ামের সরবরাহ করার জন্য ছোলা খুব উত্তম তাই জিম করার পরে শরীরকে সক্রিয় করে তোলার জন্য ছোলা খাওয়া উপকারী।

কাঁচা ছোলা খেলে কি মোটা হওয়া যায়

ছোলা হলো একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। ছোলা খেলে আমাদের শরীরের প্রোটিন এর অভাব দূর হয়। অনেকেই রয়েছেন যাদের শরীর দুর্বল তারা যদি নিয়মিত কাঁচা ছোলা খান তবে তাদের শরীর দুর্বলতা দূর হবে এবং তাদের শরীর এর দৈহিক বৃদ্ধি ভালো হবে। এখন প্রশ্ন হল অনেকের ধারণা যে কাঁচা ছোলা খেলে মোটা হয়ে যায়?

আরও পড়ুনঃ খালি পেটে গরম পানিতে লেবু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

না বন্ধুরা কাঁচা ছোলা খেলে মোটা হয় না কারণ কাঁচা ছোলাতে খুব কম পরিমাণ ফ্যাট রয়েছে। অল্প পরিমাণ ফ্যাট থাকার কারণে এটি আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যাদের শরীর দুর্বল  রোগা তাদের শরীর কে সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাঁচা ছোলা খাওয়া উত্তম। নিয়মিত কাঁচা ছোলা খেলে হাত-পা জ্বালাপোড়া করা থেকে আরাম পাবে এবং হার্ট সুস্থ থাকবে।

কাঁচা ছোলা খেলে কি ওজন কমে

যখনই শরীরে অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরল ফ্যাট মেদ বেড়ে যায় তখন  শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে বিভিন্ন রকমের রোগ যেমন হার্ট অ্যাটক স্ট্রোক উচ্চ রক্তচাপ এরকম খুব জটিল সমস্যা দেখা দেয় তাই আমাদেরকে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা অনেকেই বিভিন্ন রকমের ডায়েট চার্ট মেন্টেন করে থাকি কিন্তু অবশেষে দেখা যায় তবুও আমাদের শরীরের ওজন বাড়তেই থাকে। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন সকালে কাঁচা ছোলা খাই তাহলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমতে থাকবে। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে কাঁচা ছোলা আমাদের শরীরের ওজন কমায়?

তাহলে বন্ধুরা চলো জানা যাক কিভাবে কাঁচা ছোলা আমাদের শরীরের প্রয়োজন কমায়, কাঁচা ছোলাতে অধিক পরিমাণ প্রোটিন ফাইবার ভিটামিন জিংক ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম ফাইবার রয়েছে যেগুলো আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ক্ষুধা দূর করে। এছাড়াও কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফলিক অ্যাসিড শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং চর্বি ঝরিয়ে দেয়।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার নিয়ম

ছোলা রান্না করা অথবা পানিতে ভিজিয়ে উভয় ভাবে খাওয়া যায়। তবে দ্রুত আরোগ্য এবং অধিক পরিমাণ উপকার পেতে হলে কাঁচা খাওয়া ভালো। কাঁচা ছোলা খেলে আমাদের শরীরে সালফার এর সরবরাহ করে যা আমাদের শরীরের হারকে সুস্থ রাখে এবং পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে যার দরুন পায়ের রগ সুস্থ থাকে।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার নিয়ম গুলো হলো,

  • আগের দিন রাতে ভিজে রাখা কাঁচা ছোলা খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে তাহলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হজম শক্তি, রক্তস্বল্পতা, ক্যান্সার, কোলেস্টেরল এ সকল  রোগের প্রকোপ থেকে মুক্ত রাখবে।
  • ভুনা করা ছোলা ও শরীরের জন্য উপকারী কিন্তু এভাবে খেলে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।
  • কাঁচা ঝোলার সাথে যদি আখের গুড় খাওয়া হয় তাহলে আমাদের লিভারজনিত সকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
  • কাঁচা ছোলা এবং লেবুর রস একসাথে মিশ্রিত করে খেলে পাকস্থলীর প্রাচীরে জমাকৃত আসিড দূর হয় ।

কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে খেলে কি উপকার হয়?

কাঁচা ছোলা ভিজে খেলে যে সকল উপকার হয় সেগুলো হল,

  • কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরের অতিরিক্ত ফ্যট চর্বি কমাতে কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত কোলাজেন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব উপকারী।
  • শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত পানি খুব উপকারী কারণ ছোলাতে প্রায় ৮০ ভাগ পানি উপস্থিত থাকে।
  • চুলকে সুস্থ এবং ও স্বাভাবিক এবং ভেঙে যাওয়া দূর করতে কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড জিংক এবং ভিটামিন এ প্রয়োজন।
  • গর্ভবতী মায়েদের জন্য কাঁচা ছোলা খুব উপকারী কারণ কাঁচা ছোলা খাবার ফলের নবজাতক মায়ের \ বুকের অধিক দুধ গ্রহণ করতে পারে।
  • ছোলাতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট ফুসফুসের ক্যান্সার কোলন ক্যান্সার ক্যান্সার দূর করে।
  • ঝোলাতে উপস্থিত কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • ঘোলাতে উপস্থিত সালফার হাত পায়ের জ্বালাপোড়া করা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করে।
  • রক্তে বিলিরুবিন এর পরিমাণ অধিক পরিমাণ বেড়ে গেলে ছোলা খাওয়া খুব উপকারী। কারণ ছোলাতে উপস্থিত জিংক বেলিরুবিন এর মাত্রা কমায়।
  • হার্টকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে ছোলা খুব উপকারী।
  • হজম শক্তিজনিত সমস্যা দূর করতে ছোলাতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট কার্যকরী।
  • ছোলাতে অধিক পরিমাণ প্রোটিন থাকে তাই শরীরের প্রোটিনের ঘাটতি দূর করার জন্য অধিক পরিমাণ ছোলা খাওয়া প্রয়োজন।
  • যে সকল মেয়েরা রক্তশূন্যতায় বা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন তারা যদি সকালে কাঁচা ছোলা খান তবে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
  • কাঁচা ছোলা খাওয়ার ফলে পায়ের আরটারিতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় যার দরুন কারো যদি রগের সমস্যা থাকে তাহলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।
  • ছোলা ব্যথা জনিত রোগের জন্যও খুব উপকারী।
  • ছোলাতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালিকে সুস্থ রাখে এবং  রক্ত জমাট বাধা দূর করে।

প্রতিদিন কতটুকু ছোলা খাওয়া উচিত  

ছোলা খাওয়ার ফলে শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ছোলা খাওয়ায় যথেষ্ট। কিন্তু অবশ্যই ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা অবস্থায় খালি পেটে খেতে হবে। কারণ সেদ্ধ করা ছোলা যে কাঁচা ছোড়াতে প্রোটিন এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে।

কাঁচা ছোলা খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে

কাঁচা ছোলা খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন রকমের রোগ সেরে যায়। ছোলা হল এমনই একটি প্রাকৃতিক ঔষধি গুন সম্পন্ন খাবার যেটির সেদ্ধ বা কাঁচা যে অবস্থায় খাওয়া হোক না কেন এটি আমাদের উপকার করবে। এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি দূর করে। এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন যে কাঁচা ছোলা খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়তে পারে?

এই ধারণাটি একদমই ভুল, কারণ কাঁচা ছোলাতে উপস্থিত কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে যার কারণে ডায়াবেটিস কমতে থাকে। এছাড়াও কাঁচা ছোলা খেলে রক্তের টক্সিক পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে নির্গত হয়। শরীর থেকে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে তার কার্যক্রম চালাতে পারে।

তাই আপনি যদি আপনাদের শরীরকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারজনিত সমস্যা, স্ট্রোক এই সকল জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। শরিরকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতার কোন বিকল্প নেই।

কাঁচা ছোলা খেলে কি গ্যাস হয়

কাঁচা ছোলাতে অধিক পরিমাণ আন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন ছত্রাক জনিত সংক্রমণ দূর করে। কাঁচা ছোলা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পাকস্থলীতে খাদ্যের পরিপাক দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাই কাঁচা ছোলা খেলে গ্যাস্ট্রিকের কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেয়।

তাই আপনি যদি আপনার পাকস্থলীকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে চান তবে ঘরোয়া ভাবে রাখতে পারবেন। তার জন্য শুধু আপনাকে প্রতিদিন সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার অপকারিতা

কাঁচা ছোলা খাওয়ার যেমন অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনই কিছু অপকারিতাও রয়েছে। তাই আমাদেরকে কাঁচা ছোলা খাওয়ার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে নয়তো উপকারের জায়গায় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নিই অধিক পরিমাণ কাঁচা ছোলা খেলে আমাদের শরীরের কি কি ক্ষতি হতে পারে,

  • কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছোলা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে কারণ অধিক পরিমাণ ছোলা খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
  • যদি আগে থেকে পেট ব্যথা হয় তবে কাঁচা ছোলা না খাওয়াই ভালো।
  • কাঁচা ছোলা কখনোই ভেজে খাওয়া উচিত নয় কারণ কাঁচা ছোলা ভেজে খেলে ওজন বাড়তে পারে।
  •  কৌটাজাতকরণ কাঁচা ছোলাতে অধিক পরিমাণ বটুলিজম বিষাক্ত পদার্থ থাকে। বটুলিজম সেই বিষাক্ত পদার্থ যেটি লবণ ও পানির সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকার কারণে তৈরি হয়। আমাদের দেশে অনেকেই কাঁচা ছোলা লবণ ও পানি দিয়ে ভেজে কৌটা জাত করে বিক্রি করে যার ফলে বটুলীজম নামক বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
  • অধিক পরিমাণ ছোলা খেলে পাকস্থলীতে ফেটি অ্যাসিড তৈরি হতে পারে

কোন কিছুর যদি এতগুলি উপকারিতা থাকে তবে কিছুতো অপকারিতা থাকবে তাই  উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে সতর্ক থাকতে হবে।

শেষ কথা

আজকের এই পোস্টটিতে আমি কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সংক্রান্ত সকল তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করেছি আশা করি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং পরবর্তী পোস্ট পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url