নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

চুলের যত্নের নিম পাতার ৫ টি উপকারিতানিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা, খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার হয় সকল বিষয় না হয়তো আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনাকে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এই পোস্টটিতে আমি নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা নিম পাতা খাওয়ার হলে যে সকল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ভূমিকা

আমরা সকলে আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত যে কিভাবে সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর জীবন কাটাব। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন কাটাতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস । সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে নিম পাতার উপকারিতা রয়েছে। নিম পাতাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি, অ্যাসিটিক অ্যাসিড এন্টিফাঙ্গাল আরো অনেক উপকারী উপাদান যা আমাদের শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখে।

প্রতিদিন নিয়মিত নিমপাতা খেলে বিভিন্ন রোগ বালাই শরীর থেকে দূরে থাকবে কারণ নিমপাতা কে বলা হয় সকল ঔষধের কান্ডারী। নিমপাতাতে উপস্থিত কোলাজেন যেমন শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি কমিয়ে দেয় ঠিক তেমনি শরীরেকে যোগায় পুষ্টি। পাকস্থলের অন্ত্রে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে নিম পাতা খুব উপকারি।

খালি পেটে নিমপাতা খাওয়ার উপকারিতা

নিমপাতা শরীর জন্য খুব উপকারী। প্রায.৫০০০ বছর পূর্বে আয়ুর্বেদরা নিমপাতা কে মহা ঔষধে বলে দাবি করেছিলেন। নিম ডালের নিম গাছের এমন কোন অংশ নেই যেটা উপকারী নয়। ডিমের ডাল থেকে শুরু করে গাছে ছাল, পাতা, ফুল, নিমের ফল সবকিছু কোন না কোন ভাবে মানব শরীরের উপকারে আসে। তাই সুস্থ সুন্দর   জীবন যাপন করতে নিম পাতা খাওয়ার কোন বিকল্প নেই।
খালি পেটে নিমপাতা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘসময়ের রোগ বালাই দূর হয়ে যায়। খালি পেটে প্রতিদিন  ২-৩ টি নিম পাতা খেলে যে সকল উপকার হয় সেগুলো  হলো,

  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিমপাতা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে কোন রকমের ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
  • আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের সাথে সুরের মধ্যে অনেক রকমের বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করে যেগুলো শরীর থেকে নিষ্কাশন করার জন্য নিম পাতা কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
  • অনেকের গ্যাসের সমস্যা থাকে বিভিন্ন রকমের ওষুধ খেয়েও ভালো হয় না যার ফলে পাকস্থলের বিভিন্ন রকমের ঘা বা আলসার হয়। নিম পাতাতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট ও কোলাজেন পেটের গ্যাসের সমস্যা থেকে  স্থায়ীভাবে উপশম ঘটায়।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে নিম পাতার উপকারিতা তো বলে শেষ করা যাবে না কারণ নিম পাতাতে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে এবং ত্বককে বিভিন্ন ছত্রাকের সংক্রমনের থেকে রক্ষা করে।
  • খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার ফলে এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

খালি পেটে নিম পাতর রস খেলে কি হয়

খালি পেটে নিমপাতার রস খায় তাহলে রক্তের অক্ষের বিভিন্ন টক্সিক উপাদান যেমন ইনিম পাতার রস এর উপকারিতা সবথেকে বেশি রক্তে। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে উরিয়া ইউরিক অ্যাসিড নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
যে সকল ব্যক্তি ডায়াবেটিসের ভুগছেন তারা যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত নিম পাতার রস খান তাহলে রক্তের সুগারের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তের সুগারের পরিমাণ কমে গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মেডিসিন খেয়ে রক্ত সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান এর মাধ্যমে রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সুফলম।


যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে নিম পাতার রস খুব উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার ফলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং রক্ত সঞ্চালন ভালোভাবে ঘটে যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন ঘাড়ের রগ টেনে ধরা, মাথা ঘুরান্‌ মাথা চারপাশে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা থেকে উপশম মেলে।
নিম পাতার রসের গুনাগুন এর মধ্যে চুলকানির সমস্যা একটি অপরিহার্য। নিম পাতার রসে মিট্টিগেটন, পলিফেনাল, এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে যার ফলে নিম পাতার রস খেলে শরীরের এলার্জি বা চুলকানি জাতীয় সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

নিম পাতার গুড়া খেলে কি হয়

নিম পাতা গুড়া করে খেলে আমাদের হজম শক্তির যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সারাদিন অফিসে কাজ করে যখন শরীরে ক্লান্তি চলে আসে তখন যদি নিম পাতার গুড়া গরম পানির সাথে মিশে খাওয়া যায় তাহলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যায় পাশাপাশি যদি কারো প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া অথবা গোপন অঙ্গের কোথাও চুলকানি হয় তাহলে নিম পাতার গুড়া খেলে দ্রুত উপশম হয়।


শীতকালে ছোট বাচ্চাদের কাশি জ্বর হয় বাচ্চারা নিমের পাতা চিবিয়ে খেতে পারে না কারণ মিমের পাতা তেতো। কিন্তু নিমের পাতা যদি গুড়ো করে মধু অথবা চীনের সাথে মিশে খাওয়া যায় তাহলে গলা খুসখুসে কাশি জ্বর এ সকল সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যায়।

নিম পাতার গুনাগুন তো অনেক বেশি যেমন দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে নিমপাতার ডাল  উপকারী।  যদি নিম পাতার গুঁড়ো  ব্রাশ দিয়ে দাঁতের গোড়াই দেওয়া হয়  তাহলে দাঁতের গোড়ার ব্যথা সেরে যায়।
ত্বকের যত্নে এবং চুলের যত্নেও নিমপাতা কার্যকরী। নিম পাতা গুঁড়ো করে এক চা চামচ নিমপাতা এবং এক চা চামচ মধু সামান্য পরিমাণ পানি এবং সাথে গোলাপ জল ব্যবহার করে যদি ত্বকে লাগানো যায় তাহলে ত্বকের বিভিন্ন বলিরেখা ডার্ক সার্কেল, ব্রণের দাগ, মেছতা এগুলো উঠে যায় এবং ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল এবং ফর্সা।
ত্বকের যত্নে যেমন নিম পাতা উপকারে ঠিক তেমনি এলার্জি বা চুলকানিতে নিমপাতা বা নিম পাতার গুড়া খুব উপকারী। যাদের অ্যালার্জি বা চুলকানির জন্য শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘা ক্ষত ফুসকুড়ি হয় তারা যদি নিমের গুঁড়ো বা নিম এর ফলের গুড়ো খায় তাহলে চুলকানি ব্যানার্জি ভালো হয়ে যায়

নিম পাতার বড়ি খাওয়ার উপকারিতা 

নিম পাতা হচ্ছে একটি ঔষধি সম্পন্ন পাতা। এই নিম পাতা আপনি যেভাবে সেবন করবেন সেভাবে এটি আপনার শরীরের কোন না কোন উপকার করবে কারণ এতে ওষুধিগুণ সম্পন্ন অনেক উপাদান রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা নিম পাতার বড়ি খান। নিম পাতার বড়ি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে।

  • নিম পাতার বড়ি খাওয়ার ফলে এটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং ফ্যাট কমায়  ফলে অতিরিক্ত ওজন কমতে থাকে।
  • নিম পাতার বড়িতে উপস্থিত এসি এসিটিক অ্যাসিড পেটের পাকস্থলীতে উপস্থিত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে ফলে আমাদের এসিডের সমস্যা কমে যায়
  • নিম পাতার বড়ি নিয়মিত খাওয়ার ফলে রক্তে উপস্থিত বিভিন্ন টক্সিক পদার্থ গুলো বের করে দেয়। যার ফলে আমাদের রক্ত কোন ভাইরাস বা জীবাণু থাকে না।
  • নিম পাতার বড়ি খাওয়ার ফলে এলার্জি বা চুলকানি জাতীয় সমস্যা দূর হয়।
  • অনেক সময় আমাদের শরীর বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক দিয়ে সংক্রমিত হয়। নিম পাতাতে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিফাঙ্গাল এই সকল জীবানুকে ধ্বংস করে।
  • আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নিম পাতার ভিটামিন ও ওমেগা থ্রি খুবই উপকারী।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিম পাতা খুবই উপকারী। তাই প্রতি রাতে যদি নিমপাতার একটি বড়ি খাওয়া হয় তাহলে উচ্চ রক্তচাপ থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
  • সুগারের পরিমাণ বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা দেখা দেয় কিন্তু যদি নিম পাতার বড়ি খাওয়া হয় তাহলে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • যাদের পেটে বদহজমের সমস্যা রয়েছে অথবা পায়খানা পরিষ্কার হয় না তারা যদি নিম পাতার বড়ি খান তবে তাদের পরিষ্কার হয়ে যাবে।
  • রূপচর্চা এবং চুলের যত্নেও নিম পাতার বড়ি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। নিম পাতার বড়ি খেলে চুল এবং ত্বক সুস্থ থাকে।

নিম পাতার রস খেলে কি ওজন কমে?

শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে আমরা অনেক চিন্তিত থাকি কারণ অতিরিক্ত চর্বি শরীরকে বিভিন্ন রোগের দিকে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় তাই আমরা চেষ্টা করি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার।শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি কোলাজেন এগুলো কমাতে নিমপাতা খুব উপকারী। নিম পাতার রস খেলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গোলতে থাকে যার ফলে তার শরীরের ওজন কমে যায়।

চর্মরোগে নিম পাতার ব্যবহার

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘা, ক্ষত চুলকানি এলার্জি ফুসকুড়ি এগুলো কমাতে নিম পাতা খুব উপকারী। শরীরে তখনই চুলকানি হয় যখন রক্তে এলার্জির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চর্মরোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সকালে অন্তত এক গ্লাস নীমের পানি অথবা কাঁচা নিম পাতা খাওয়া উপকারী।

চর্মরোগ থেকে রেহাই পেতে নিম পাতার ব্যবহার অনেক ভাবেই করা হয় তবে সঠিকভাবে নিম পাতার ব্যবহার করলে চর্মরোগ থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যাবে। কাঁচা নিমপাতা বেটে শরীরের যে জায়গায় জায়গায় এলার্জি বা চুলকানি বের হয় সেখানে প্রলেপ দেওয়া। তাহলে নিম পাতার নির্যাস এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত জায়গায় জীবাণুমুক্ত করে।

চর্মরোগ বা চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে নিম পাতা এবং ঠান্ডা পানি একসাথে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে যদি গোসল করা হয় তাহলে শরীরের চামড়াতে উপস্থিত রোগ জীবাণু ধ্বংস হয়। আপনি যদি এলার্জি বা চুলকানি থেকে নিস্তার পেতে চান তাহলে অবশ্যই নিম পাতার সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করবেন।

চর্মরোগ বা চুলকানি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিমের কাঁচা পাতা চিবিয়ে খান তাহলে নিমের পাতায় উপস্থিত এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তে প্রবেশ করে রক্তের এলার্জির জনিত জীবাণুকে ধ্বংস করে।

নিমের কাঁচা পাতা এবং পানি একসাথে সিদ্ধ করে যদি পানি ঠান্ডা করে আপনি খান তাহলে আপনার পেটের আন্তরিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারবেন। এত ওষুধি গুনাগুন থাকার জন্যই নিমপাতা কে মহা ঔষধি বলে বিবেচনা করা হয়। নিম পাতায় উপস্থিত ওমেগা থ্রি ও ভিটামিন সি শরীরের ক্ষতস্থান দ্রুত সারিয়ে তোলে।

প্রতিদিন কতটুকু নিম পাতা খাওয়া উচিত?

আমরা সকলেই জানি যে নিম পাতা শুয়োরের জন্য খুব উপকারী। কিন্তু এটা জানি না যে কতটুকু নিমপাতা খেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ শরীরের উপকার হবে। প্রয়োজনের অধিক কোন কিছুই যেমন ভালো না ঠিক তেমনি নিম পাতাও বেশি পরিমাণ খেলে শরীরের ক্ষতিও হতে পারে। শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন সকালে ২-৩ টি কাঁচা নিমের পাতা চিবিয়ে খাওয়া উপকারই।

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা কাঁচা নিমের পাতা খেতে পারেন না কারণ মিমের পাতা খুব তেতো। তাদের জন্য একটি পরামর্শ হলো যে আপনারা নিমের পাতার রস তৈরি করে খেতে পারেন। তবে নিমের রস ও বেশি খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস নিমের পানি খাওয়াই যথেষ্ট।

নিম পাতার উপকারিতা 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিম পাতার উপকারিতা অনেক বেশি। কম বেশি আমরা প্রায় সকলের নিম পাতার সাথে জড়িত। হয়তো দাঁত সুস্থ রাখতে নয়তো চুল অথবা ত্বকের যত্নে কোন না কোন ভাবে আমরা নিম পাতার সঙ্গে জড়...। নিম পাতা এমনই একটি গাছ যাকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই কারণ নিম পাতা হলো একদিন মহা ঔষধি সম্পন্ন গাছ। চলুন জেনে নেওয়া যাক নিম পাতার উপকারিতা গুলো,

  • নিম পাতার নির্যাস ও আমাদের শরীরের জন্য উপকারী কারণ এটি আমাদের হৃৎপিণ্ড ও হার্টকে সুস্থ রাখে।
  • দাঁত কে সুস্থ রাখতে মিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের গোড়া সুস্থ থাকে এবং দাঁতের গোড়ার ব্যাথা নির্মূল হয়।
  • অনেকের মুখে দুর্গন্ধ থাকে তারা ক্লোজআপ পেপসুডেন্ট কোলগেট ব্যবহার কিন্তু নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।
  • চুল পড়া দূর করতে, চুলের গোড়া শক্ত করতে চুলকে ঘন ও লম্বা করতে নিমপাতা খুব উপকারী।
  • শুষ্ক চুলকে আদ্র এবং নরম করতে নিম পাতার তেল চুলের জন্য খুব উপকারী।
  • ত্বকে বিভিন্ন দাগ সার্কেল মেছতা ব্রণ এগুলো থেকে দূরে রাখতে নিমপাতা পেস্ট বা ফেসপ্যাক ব্যবহার করা হয়।
  • পেটের এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকজ জনিত যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিমপাতা খুব উপকারী।

  • প্রতিদিন নিয়মিত নিম পাতার রস খেলে পেট পরিষ্কার থাকে যার সাথে সাথে পেটের ময়লা আবর্জনা মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

  • উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, এবং রক্তের  সুগারেররের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিমের ফল খুব উপকারী

  • শরীরের অতিরিক্ত ক্লান্তি, সাদা স্রাব এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিম পাতার ছাল খুব উপকারী।
  • এলার্জি চুলকানি চর্ম রোগ জাতীয় সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে নিম পাতা ব্যবহার করা হয়।
  • নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।।
  • নিয়মিত নিম পাতার রস সেবনের ফলে রক্তের টক্সিক পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলের রক্তের সংক্রমণ হয় না
  • নিম পাতায় উপস্থিত কায়েমাফ্রল, বিটা ক্যারোটি ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে উপকারী

লেখকের মন্তব্য

নিম পাতা যা আমাদের শরীরের জন্য কত উপকারী তা বলে শেষ করা যাবে না। নিম পাতা এত ঔষধি গুনাগুন যে আমরা যদি নিয়মিত নিমপাতা সেবন করে তাহলে আমাদের শরীরের প্রায় অর্ধেক রোগ সেরে যাবে। নিম পাতা খাওয়ার ফলে কি কি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কিভাবে খেতে হয় কতটুকু খাওয়া হয় এর সকল বিষয় নিয়ে আমার আজকের পোস্টটি লেখা।

আজকের এই পোস্টটিতে আমি আপনাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর চেষ্টা করেছি আশা করছি আপনারাও পোস্টে পড়ে উপকৃত হয়েছেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে নিয়মিত আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন এবং আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। পরবর্তী আর্টিকেল পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url