রুপচর্চায় বেসনের উপকারিতা-মুখে বেসন মাখার অপকারিতা

ত্বকের যত্নে নিমপাতার ১৫ টি উপকারিতারূপচর্চায় বেসনের উপকারিতা মুখে বেসন মাখলে কি কি অপকারিতা হয় এই সকল বিষয় নিয়ে হয়তো আপনারা জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। কারণ আজকের এই পোস্টটিতে আমি রূপচর্চায় বেসনের উপকারিতা এবং অপকারিতার সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রুপচর্চায় বেসনের উপকারিতা-মুখে বেসন মাখার অপকারিতা

রূপচর্চায় বেসনের কোন কোন ফেসপ্যাক সবথেকে বেশি কার্যকরী কিভাবে রূপচর্চা করলে ত্বক উজ্জ্বল এবং সতেজ থাকবে এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

 ত্বকে বেসন লাগালে কি হয়?

আমাদের ত্বককে সুরক্ষিত রাখার জন্য বেসন হল একটি নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক  উপটান। বেসন খাবারের মাধ্যমে খেলে যেমন আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী ঠিক তেমনি ত্বককে সতেজ এবং মৃতকোষকে পুনরায় জীবিত করতে করতে বেসন খুব উপকারী।

আরোও পড়ুনঃ রূপচর্চায় দুধ ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার

ত্বকে বেসন লাগালে যে উপকারগুলো হয়,

  • ত্বকের PH এর মান বজায় রাখতে বেসন এর ফেসপ্যাক খুব উপকারী।
  • আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তবে আপনি নির্দ্বিধায় বেসন এবং মধু একসাথে মিশ্রিত করে ত্বকে লাগাতে পারেন এবং আপনি নিজেই এর ফলাফল বুঝতে পারবেন।
  • ত্বকের রোদে পরা ভাব দূর করতে, ব্রনের দাগ দূর করতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের আঁচিল থেকে মুক্তি পেতে বেসন লাগানো খুবই সহায়ক।
  •   স্কিনকে পরিষ্কার রাখতে স্ক্রাব খুব উপকারী। ক্রাব করলে ত্বকের ময়লা কেটে যায় এবং ত্বক পরিষ্কার হয়।
  • অনেক সময় আমাদের ত্বকের উপকারী কোষগুলো মৃত হয়ে যায় তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায় এজন্য বেসন দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা হয় তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
  • আমাদের মধ্যে অনেকেরই তকে এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে যার কারণে কোনো রকমের ফেসওয়াস খাপ খায় না তারা যদি প্রতিদিন গোসলের পূর্বে বেসন দিয়ে স্ক্রাব করে নেন তাহলে ফেসওয়াশ এর কাজ হয়ে যাবে।
  • ত্বককে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে ক্লিনজারের প্রয়োজনীয়তা তো আমরা সকলেই জানি। ক্লিনজার এর পরিবর্তে বেসন দিয়ে ত্বক ক্লিনিং করা যায় এবং এটা করলে ত্বকের কোন ক্ষতি হয় না। 

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বেসন

ত্বক তৈলাক্ত হলে যে কত রকমের সমস্যা হয় সেটা তো আমরা শুধু মেয়েরাই জানি। কত ভালো করে মেকাপ করে তবুও মুখে মেকআপ থাকে না ঘেমে তেল তেলে হয়ে যায়, মেকআপ করলে মেকআপ মুখে বসে না মনে হয় যে মেকআপ ফেটে যাচ্ছে এই সকল সমস্যা হয় তৈলাক্ত ত্বকের জন্য। আমরা কত চেষ্টা করি মুখের  তৈলাক্ততা  কমানোর জন্য কিন্তু অবশেষে যে ব্যর্থ হয়।

এদিকে মুখের তৈলাক্ততা কমানোর উপকরণ যে ঘরেই রয়েছে সে বিষয়ে আমরা কেউ অবগতই নই। হ্যাঁ বন্ধুরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবারের সাথে সম্পর্কিত উপাদান হলো বেসন। যদি আমরা ত্বকে  বেসন ব্যবহার করে তাহলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে সাথে ত্বক হয়ে উঠবে নরম  সফট এবং উজ্জল।
সুন্দর তৈলাক্ত বিহীন ত্বক আমরা তো সকলেই চাই কিন্তু তার জন্য যে একটু পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম বলতে আমরা সকলেই ত্বকের যত্নে অনেক রকমের ফেসিয়াল ফেসওয়াশ ইউজ করে থাকি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের রূপচর্চার তালিকায় বেসনের ফেসপ্যাক রাখি তবে খুব সহজেই ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে পারব।

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমানোর জন্য আমাদেরকে প্রথমে ২-৩ চা চামচ বেসন ১ চা চামচ মধু ১  চামচ গরুর কাঁচা দুধ এবং সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে একসাথে ফেটে নিতে হবে। যখন ভালো করে ফ্যাটা হয়ে যাবে তখন পাতলা  করে মুখে স্তর দিতে হবে। ত্বকের পাতলা স্তরে যখন হালকা শুকনো হয়ে যাবে যেমন প্রায় ২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে অথবা তোয়ালে দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

যদি এভাবে আমরা রেগুলার ৭ থেকে ৮ দিন ব্যবহার করি তাহলে আমাদের ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে। তবে বন্ধুরা মনে রাখবেন যে বেসন এর ফেসপ্যাক ব্যবহারের পরে  তকে কোন রকমের সাবান  ব্যবহার করা থেকে  বিরত থাকতে হবে নয়তো ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

বেসন দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

আমাদের কিচেনে উপস্থিত বেসন শুধু যে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় তা নয় এটা আমাদের রূপচর্চাতেও খুবই ব্যবহিত একটি উপাদান। বেসন হল একটি প্রাকৃতিক উপাদান এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ এনটিঅক্সিডেন্ট রয়েছে আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করে। এখন আমরা অনেকেই মনে করি যে  বেসন দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়?

আরোও পড়ুনঃ খালি পেটে নিম পাতা খেলে আমাদের কি কি উপকার হয়

তো বন্ধুরা আমি বলব যে বেসন দিয়ে সত্যি ফর্সা হওয়া যায়। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক বেসন দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়। ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানোর  অনেক কারণ  রয়েছে রোদে পোড়া ভাব, মুখে ব্রণের দাগ, বয়সের ছাপ পড়া, চোখের নিচে কালো দাগ পড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণে আমাদের ত্বক অপেক্ষা কৃত অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে বেসন দিয়ে মুখ ফর্সা করা যায়,

  • ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতেঃ আমরা যখন স্কুল-কলেজ কলেজে যাই তড় সূর্যের  তাপের কারণে  ত্বকে কাল যে ভাব তৈরি হয় যেটাকে আমরা বলি রোদে পরা ভাব তৈরি, আমার যখন অনেকে রান্না করেন তখন দীর্ঘক্ষণ  চুলার কাছে থাকার কারণে ত্বকের উজ্জলতা হারিয়ে যায়। তাহলে এই সকল সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে বেসনের ফেসপ্যাক খুবই উপকারী  এবং ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল এবং ফর্সা।
  • ব্রণের দাগ দূর করতেঃ মুখে ব্রণের দাগ থাকার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। আর সে উজ্জ্বলতা ফিরে আনার জন্য যদি প্রতিদিন ৪ চা চামচ বেসন ২ চা চামচ নিম পাতা বাটা এবং এক চা চামচ মধু একসাথে পেস্ট করে যদি মুখে লাগাই তাহলে ব্রণের দাগ আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
  • ত্বকের শুষ্কতা দূর করতেঃ বেসনে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আর্দ্র কোমল নরম এবং তুলতুলে।

উপরোক্ত উপায় গুলো যদি আমরা অবলম্বন করে ত্বকের যত্ন নি তবে অবশ্যই আমাদের ত্বক আগের শেড থেকে দুই থেকে তিন সেড ফর্সা হবে। আর এটা শুধু  মুখের কথা নয় এটা আমি নিজেও ব্যবহার করে ফলাফল পেয়েছি তা আপনারা যদি এরকম সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে চান তাহলে অবশ্যই ওপরের ট্রিকসগুলো ফলো করবেন।

মুখে বেসন ব্যবহারের নিয়ম 

আমরা মুখে বেসন যেকোনো সময়ই ব্যবহার করতে পারে তবে যদি প্রতিদিন গোসলের পূর্বে বেসন দিয়ে স্ক্রাব করে নিন তবে মুখের ময়লা কেটে যায় এবং ত্বক হয়ে উঠে পরিষ্কার। আমরা আমাদের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন ক্লিনজার ব্যবহার করে থাকি কিন্তু ক্লিনজারের পরিবর্তে বেসন ব্যবহার করতে চাইলে গোসলের পূর্বে করায় ভালো।


আবার আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যারা সন্ধ্যা বেলায় রূপচর্চায় ব্যস্ত থাকেন। তবে তাদের জন্য বলছি সন্ধ্যাবেলায় মুখে বেসন লাগালেও কোন ক্ষতি নেই। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য সন্ধ্যাবেলাতেও মুখে ভীষণ ব্যবহার করা উপকারী। মুখে বেসন ব্যবহার করলে মুখের অবাঞ্ছিত লোম উঠে যায় যার ফলে আমাদের ত্বক হয়ে ওঠে কয়েক শেড উজ্জ্বল।


ত্বককে উজ্জ্বল ফর্সা এবং বিভিন্ন দাগ যেমন ব্রণের দাগ রোদে পরা দাগ ফাইন লাইন বলিরেখা এই সকল দাগ দূর করতে বেসন ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। কারণ বেসনে কোন রকমের এসিড উপস্থিত থাকে না যার কারণে আমাদের ত্বকের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।বেসন একটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং এতে শুধু উপকারী উপাদানে রয়েছে যদি আমরা সঠিকভাবে মুখে বেসন ব্যবহার করতে পারে তবে আমরা সকলে উপকৃত হব হতে পা্রব।


তাহলে বন্ধুরা আপনারা যারা ভাবছিলেন যে কখন মুখে বেসন মাখলে ভালো হবে তাদের জন্য বলছি আপনারা যে কোন সময় মুখে বেসন ব্যবহার করতে পারবেন তবে আপনাদের সুবিধার্থে গোসলের পূর্বে বেসন ব্যবহার করলে মুখের তৈলাক্ততা ভাব দূর হয় এবং ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল হয়।

রুপচর্চায় বেসনের উপকারিতা

ত্বকের যত্নে বেসনের উপকারিতা তো আমরা সকলেই জানি তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক যে রূপচর্চায় বেসন ব্যবহার করলে কি কি সমস্যা থেকে আমাদের ত্বককে আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি,

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি যে আমাদের মুখ তেল তেল করছে তবে কোন চিন্তা ছাড়াই বেসন দিয়ে স্ক্রাব করে মুখ ধুয়ে ফেলুন তবে মুখের  তেল তেলে ভাব তা দূর হয়ে যাবে।
  • ত্বক শুষ্ক রুক্ষ হয়ে গেলে বেসনের পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের শুষ্ক ভাব কেটে যায় এবং ত্বক হয়ে উঠে আদ্র।
  • ত্বকের পিএইচ এর মান বজায় রাখতে বেসন ব্যবহার করা খুব উপকারী কারণ এতে কোন রকম অ্যাসিড নেই।
  • ব্রনের দাগ দূর করতে বেসন ব্যবহার খুব উপকারী।বেসন ব্যবহার করলে ত্বকের ব্রনের দাগ দূর হয়।
  • আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের মুখে মেছতার দাগ রয়েছে তারা যদি নিয়মিত বেসন এবং মধু একসাথে মিশ্রিত করে ত্বক  লাগান তবে তাদের ত্বকে মেছতা দূর হবে।
  • ত্বকের মৃত কোষ কে পুনরায় জীবিত করতে বেসনের এন্টিঅক্সিডেন্ট খুব উপকারী।
  • রোদে পোড়া ভাব দূর করতে চোখের নিচ দিয়ে কালো দাগ এ সকল সমস্যা দূর করতে বেসন খুব উপকারী।
  • মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে ক্লিনজার ব্যবহারের পরিবর্তে বেসন ব্যবহার করলে খুবই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
  • ত্বকে বেসন ব্যবহার করলে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
  • আমরা অনেকেই ত্বককে ফর্সা করার জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাইট ক্রিম ইউজ করি যার কারনে পরবর্তীতে আমাদের স্কিন ক্যান্সারের সম্ভাবনা রয়েছে।  তাই বেসন ব্যবহারের ফলে আমরা আমাদের স্কিনকে ক্যান্সার থেকেও দূরে রাখতে পারবো।

বেসন ও মধুর ফেসপ্যাক

ত্বকের বিভিন্ন মেছতা বা কালো দাগ দূর করতে বেসন ও মধুর ফেসপ্যাকটি খুব সফল জনক। তাহলে চলুন জেনে নেই বেসন ও মধুর ফেসপ্যাক কিভাবে তৈরি করবেন,

প্রস্তুত প্রণালীঃ একটি পরিষ্কার কাপ বা বাটিতে ৩-৪ চা চামচ বেসন ১ চা চামচ মধু এবং মালটা বা কমলার খোসা বেটে ১ চা চামচ একসাথে ভালোভাবে পেস্ট করে ত্বক লাগালে ত্বকের  কালো দাগজনিত সকল সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে। তবে একটি কথা মনে রাখবেন যে সকল ব্যক্তির ত্বকে অধিক পরিমাণ মেছতা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে নিয়মিত এই ফেস প্যাকটিএকটি ব্যবহার করলে দ্রুত আপনার ত্বকের বিভিন্ন কালো দাগ দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

বেসন ও লেবুর ফেসপ্যাক

ত্বককে বিভিন্ন ছত্রাক জনিত সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে লেবু এবং বেসনের ফেসপ্যাক খুব উপকারী। কারণ বেসনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি একত্রে হয়ে ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যার দূর করে।


প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে একটি পরিষ্কার কাপে ২ চা চামচ বেসন এক চা চামচ লেবুর রস সামান্য গোলাপজল নিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে ত্বকে লাগালে ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ দূর হয় এবং তক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল এবং টানটান। ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং সতেজ হলে এমনি কয়েকদিন পর দেখবেন আপনার ত্বক আগের থেকে অনেক বেশি ফর্সা হয়ে গেছে।

বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক

ত্বক ফর্সা করতে হলুদ তো খুব উপকারি এটা তো আমরা সকলেই জানি কারণ হলুদে অনেক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের ত্বককে খুব পরিষ্কার এবং পরিষ্কার করে। সেই সাথে হলুদ এবং বেসুন একসাথে মিশ্রিত করে ত্বক লাগালে ত্বক অনেক সতেজ এবং উজ্জ্বল হয়।

প্রস্তুত প্রণালীঃ কাঁচা হলুদ বাটা 2 চা চামচ বেসন ২ চা-চামচ গরুর কাঁচা দুধ ১ চা চামচ এবং ১ চামচ গোলাপ জল একসাথে নিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নিতে হবে। ভালোভাবে পেস্ট করে নেওয়া হয়ে গেলে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে হালকা ভাবে পরিষ্কার করে মুখের উপর প্রলেপ দিতে হবে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর যখন প্রলেপটে শুকনো হয়ে যাবে তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

বেসন ও কফির ফেসপ্যাক

আপনারা যদি আপনাদের ত্বককে খুব দ্রুত ফর্সা করতে চান তাহলে এই ফেসপ্যাকটি আপনার জন্য। বেসন ও কফির ফেসপ্যাক আপনাদের ত্বকে লাগালে আপনাদের ত্বক খুব দ্রুত উজ্জ্বল এবং ফর্সা হবে। কারণ কফিতে উপস্থিত উপাদান ত্বকের ভেতরে উপস্থিত মেলাটোনিন কে  দ্রুত উজ্জ্বল করতে পারে।

প্রস্তুত প্রণালীঃ ২ চা চামচ কফি পাউডার ২ চা চামচ বেসন ১ চা চামচ এলোভেরা জেল এবং মসুরের ডাল বেটে ১  চা চামচ নিয়ে সবগুলো উপাদান একত্রে ভালোভাবে পেস্ট করে নিতে হবে। এরপর আপনার মুখ পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে তোয়ালে দিয়ে হালকা করে মুছে নিতে হবে যখন মুখ শুকনো হয়ে যাবে তখন ফেসপ্যাকটি  মুখে লাগাবেন। কিছুক্ষণ পর যখন দেখবেন যে ফেসপ্যাকটি শুকিয়ে যাচ্ছে তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেবেন।

মুখে বেসন মাখার অপকারিতা

রূপচর্চায় বেসন ব্যবহার করলে যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতাও রয়েছে। মুখে অধিক পরিমাণ বেসন মাখার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়েও যেতে পারে। তাই যখনই আমরা ফেসপ্যাক ব্যবহার করব তখন আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা বেসনের সাথে এমন কোন উপাদান মিশ্রিত না করি যার কারণে আমাদের ত্বক আরো খারাপ হয়ে যায়।


মুখে অতিরিক্ত পরিমাণ বেসন মাখলে ত্বকের ভেতরে অবস্থিত কোষগুলো একসাথে জোড়া লেগে যায় যার কারণে  ভিটামিন ত্বকের ভিতরে  সরবরাহ হয়না না যার কারণে ত্বকের  উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। বেসনে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ছত্রাক জনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে কিন্তু অধিক পরিমাণ বেসন ব্যবহার করলে তাকে এন্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার কারণে তাকে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা যেমন ফুসকুড়ি চুলকানি রাস বের হতে পারে।


তাই আমাদেরকে মুখে বেসন মাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তবে হ্যাঁ একথা ঠিক যে বেসন মাখলে অপকারের চেয়ে উপকারে বেশি হয়। কিন্তু তবুও আমরা আমাদের ত্বকের সাথে তো কোন আপোষ করতে পারি না তার জন্য সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন যে কোন ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। 

লেখক এর মন্তব্য

আজকের এই পোস্টটিতে রূপচর্চায় বেসনের উপকারিতা  ও অপকারিতা এবং বেসনের বিভিন্ন ফেসপ্যাক কিভাবে তৈরি করতে হয় সে সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনারা যদি আমার এই পোস্টে পড়ে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই  কমেন্ট করে জানাবেন এবং পরবর্তী পোস্ট পাবলিশ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url