গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা-গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার অপকারিতা

গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়ার ১০ টি উপকারিতাগর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা-গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার অপকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে জেনে থাকা খুবই প্রয়োজন আর  আমি আজকে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে জানতে চান মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা-গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার  অপকারিতা
 গর্ভাবস্থায় মা এবং শিশুর পুষ্টির জন্য ডাবের পানি খুবই উপকারী তাই গর্ভাবস্থায়  কতটুকু পানি   খাওয়া  উচিত কিভাবে খাওয়া উচিত এ সকল বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত তথ্য জেনে থাকা জরুরী।

ভূমিকা

গর্ভ অবস্থায় মা এবং শিশুর জন্য সেই সকল খাবারের সরবরাহ করা উচিত যে খাবারে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি ,ক্যালরি,  ভিটামিন ,ক্যালসিয়াম রয়েছে। আর ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়া্‌ম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ওমেগা 3, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন সি এর ছাড়া আরো অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। 

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানির উপকারিতা

গর্ভ অবস্থায় ডাবের পানি পানের উপকারিতা অনেক বেশি। কারণ গর্ব অবস্থায় মা এবং গর্ভে শিশুর দুজন এরই অনেক পুষ্টি প্রয়োজন। ডাবের পানিতে মূলত ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ওমেগা থ্রি, ফাইবার ইত্যাদি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে যার শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।
গর্ভ অবস্থায় মা এবং শিশু দুজনেরই প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি প্রয়োজন আর ডাবের পানিতে অধিক পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে। তাই বলা যায় গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম। গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খেলে যে সকল উপকার পাওয়া যায় নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলোঃ
  • কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেঃ গর্ভকালীন সময়ে প্রতিটি মায়েরই  কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয় ।এই সমস্যাটি হয় মূলত প্রোজেস্টেরন হরমোন এবং আয়রনের ঘাটতির কারণে। কিন্তু ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ আইরন এবং ফাইবার থাকার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
  • পানি শূন্যতা কমাতেঃ গর্ভাবস্থায় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি বের হয়ে যায় যার ফলে শরীর ডিহাইড্রেশন হয়ে যায় এ সময় ডাবের পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে  সুরক্ষিত রাখে।
  • বদহজম বুক জ্বালা পোড়া কমায়ঃ গর্ভাবস্থায় যদি প্রতিদিন 1 গ্লাস ডাবের পানি খাওয়া যায় তবে বুক জ্বালাপোড়া এসিডিটির সমস্যা বদহজম এ সকল সমস্যা থেকে খুব সহজে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেঃ গর্ভাবস্থায় অনেক গর্ভবতী মহিলাদের প্রেশার বেড়ে যায় যার ফলে মা এবং শিশুর দুজনের স্বাস্থ্য হানির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই সময় যদি ডাবের পানি নিয়মিত খাওয়ানো যায় তবে মা এবং শিশু দুজনেই উচ্চ রক্তচাপ থেকে সুরক্ষিত থাকে কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম রয়েছে।
  • শিশুর মানসিক বিকাশ সাধনেঃ গর্ভাবস্থা অবস্থায় শিশুর মানসিক বিকাশের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিকিৎসকরা গর্ভবতী মহিলাকে নিয়মিত ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার ম্যাগনেসিয়াম ওমেগা থ্রি রয়েছে যা শিশুর স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ক্লান্তি ভাব দূর করতেঃ গর্ভাবস্থায় মায়ের খুব অল্পতেই ক্লান্ত ভাব চলে আসে। আর এই ক্লান্তি ভাব থেকে খুব সহজে পরিত্রাণ পেতে ডাবের পানি পান উত্তম। কারণ ডাবের পানি পান করার ফলে শরীরে গ্লুকোজ পরিমাণ বেড়ে যায় যার ফলে শরীর কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি কখন খাওয়া উচিত?

ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে গর্ভকালীন সময়ে গর্ভধারণের তৃতীয় মাস থেকে ডাবের পানি খাওয়া উচিত। কারণ এই সময় থেকে মা এবং শিশুর অধিক পরিমান পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা থাকে। যার ফলে তৃতীয় মাসের পর থেকে ডাবের পানি খাওয়ার ফলে মা এবং শিশু দুজনে সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে।
 প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ডাবের পানি খাওয়ার ফলে গর্ভধারিনী মা এবং শিশু দুজনে ই সুস্থ থাকবে পাশাপাশি বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া কর্‌ কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যা থেকে পরিত্রান পাবে। তাই বলা যায় গর্ভাবস্থায় মা এবং শিশু দুজনের সুস্থ স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অতুলনীয়।

কচি ডাবের পানির উপকারিতা

কচি ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পসফরাস জিংক আইরন ফাইবার ওমেগা থ্রি এসিড এবং প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় শিশুর বুদ্ধি বিকাশে, মানসিক বিকাশ চাদনে সাধনে ব্যাপক ভূমিকা পালন কর, এছাড়াও গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের ক্লান্তি ভাগ দূর করতে ডাবের পানি খুবই উপকারী।

গর্ভাবস্থায় মা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি এক গ্লাস কচি ডাবের পানি পান করে তবে মা এবং শিশু দুজনেই পেটের সকল রকমের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবে, পাশাপাশি ডাবের পানি মূত্রের  সংক্রমণ দূর করতেও সহায়তা করে। তাই বলা যায় গর্ভাবস্থায় কচি ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি এবং মা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নতি হয়।

গর্ভাবস্থায় ডাবের শাঁস খাওয়া যাবে কি

আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে গর্ভাবস্থায় ডাবের শ্বাস খাওয়ার ফলে বাচ্চার ক্ষতি হয়, মায়ের সমস্যা হয় এগুলো মূলত ভুল ধারণা কারণ ডাবের পানির যেমন অনেক গুনাগুন রয়েছে ঠিক তেমনি ডাবের শ্বাসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে।
যা শিশুর ত্বক উজ্জ্বল হতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কোন মা যদি  ডাবের শ্বাস খায় তবে পেশাবের জ্বালাপোড়া থেকে দ্রুত আরাম পাবেন। তাই বলা যায় গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা যেমন অনেক বেশি ঠিক তেমনি ডাবের শ্বাস খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

গর্ভাবস্থায় ডাবের শাঁস খাওয়ার উপকারিতা?

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা ডাবের পানি খাওয়ার পর ডাবের শ্বাস ফেলে দেয় ভাবে এটা কোন কাজের নয় কিন্তু ডাবের শ্বাসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ উপকারী উপাদান। ১০০ গ্রাম ডাবের শ্বাসে রয়েছে 355 ক্যালোরি, এছাড়াও ফ্যাট সোডিয়াম পটাশিয়াম কার্বোহাইড্রেট প্রোটিন ক্যালসিয়াম আয়রন ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

গর্ভাবস্থায় ডাবের শ্বাস খাওয়ার ফলে শরীরে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত মেদ চর্বি এগুলো কমে যায়। আবার যদি কোন মা ডায়াবেটিস অবস্থায় গর্ভধারণ করে তবে তার শরীরের  ইনসুলিন নিয়ন্ত্রনে ডাবের শ্বাস খুবই উপকারি। কারণ ডাবের শাঁস খাওয়ার ফলে  রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

দিনে কয়টা ডাব খাওয়া উচিত?

গর্ভকালীন সময়ে মা এবং শিশুর দুজনেরই প্রচুর পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন হয়। আর যেহেতু ডাব প্রচুর পুষ্টি  সমাহার তাই দিনে অন্তত একটা ডাব খাওয়া প্রয়োজন। তবে এর মধ্যে অনেকের রয়েছে যারা দিনে দু তিনটেও ডাব খেয়ে ফেলে কিন্তু এটা উচিত নয়।

কারণ অতিরিক্ত ডাবের পানি খাওয়ার ফলে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে এবং এর ফলের গর্ভে সন্তানের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। যার ফলে বাচ্চা প্রসবের সময়  বাচ্চার প্রাণ নাসের ও সম্ভাবনা থাকে।

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানির অপকারিতা

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার  উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতা রয়েছে। গর্ভাবস্থায় যদি মা অধিক পরিমাণ ডাবের পানি পান করে তবে শিশুর রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাবে যার ফলে বাচ্চার রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণও কমে যাবে।

 পাশাপাশি গর্ভধারিনী মা যদি ঠান্ডা ডাবের পানি পান করে তবে বাচ্চার সর্দি, নিউমোনিয়া এমনকি টাইফয়েড হতে পারে যার ফলে বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। আবার অনেক গর্ভধারিনী মা রয়েছেন যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তা যদি নিয়মিত ডাবের পানি পান করে তবে তাদের ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

গর্ভকালীন সময়ে এমনিতেই শরীরের ওজন বেড়ে যায় আর যদি নিয়মিত ডাবের পানি খাওয়া চালিয়ে যায় তবে গর্ভধারিনী মায়ের ওজন ও বেড়ে যায়।কারণ ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি রয়েছে । তাই গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

ডাবের শাঁসের অপকারিতা

ডাবের শ্বাস গর্ভাবস্থায় খুবই উপকারী। ডাবের শ্বাসের সেরকম কোন অপকারিতা দিক নেই তবুও গর্ভাবস্থায় একটু সতর্ক থাকায় ভালো কারণ ডাবের চাষে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট থাকার ফলে হঠাৎ করে দ্রুত ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আবার ডায়াবেটিস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের হঠাৎ করে ইনসুলিন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এই বিষয়ে একটু সতর্ক থাকায় ভসয়ে।

লেখকের মন্তব্য

উপরের পোস্ট টিতে আমি গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা এবং গর্ভাবস্থায় ডাবের শ্বাস খাওয়া নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনি যদি এই পোস্টটি পড়ে উপকৃত হন তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।


এরকম আরো  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়  জানতে আমার ওয়েবসাইটটিভ নিয়মিত ভিজিট করবেন এবং আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। এছাড়াও পরবর্তী পোস্ট আসা পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url