কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় - শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি

প্রিয় পাঠক বন্ধু আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো শিশুদের জরের সাপোজিটরি এবং কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায়। তাই আপনি যদি সাপোজিটরি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তাহলে পুরো আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় - শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি

আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো সাপোজিটরি কেন দেওয়া হয়, সাপোজিটরি দেওয়ার নিয়ম সাপোজিটরি দেয়ার কতক্ষণ পর জ্বর কমে এবং কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায়।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় - শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি

.

সাপোজিটরি কি ?

সাপোজিটরি হলো একটি ওষুধ গ্রহণের অবস্থা যার মাধ্যমে কঠিন তরল অথবা বায়বীয় ঔষধ শরীরের ছিদ্র অথবা বায়ু পথের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি ব্যবস্থা।

সাপোজিটরি কেন দেওয়া হয়?

বাচ্চাদের জ্বর এর তাপমাত্রা যখন ১০১ ডিগ্রি পার হয়ে যায় তখন সাপোজিটরি ব্যবহার করা হয়। সাপোজিটরি ব্যবহার করার ফলে বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা কম থাকে। যে সকল বাচ্চাদেরকে ওষুধ খাওয়ানো সমস্যা হয় এবং ওষুধ খেয়েও জ্বর কমে না তাদেরকে সাপোজিটরি পায়ুপথ দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়।

সাপোজিটরি দেওয়ার নিয়ম 

সাপোজিটরি শুধু যে জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে ব্যবহৃত হয় তাই না সাপোজিটরের ব্যবহারের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। মেডিকেল সায়েন্সে তিন ধরনের সাপোজিটরি বা সাপোজিটর রয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের জ্বর ১০২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে হলে  রেক্টাল সাপোজিটরি ব্যবহার করা হয়।

বাচ্চাদের জ্বর নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য নাপা সাপোজিটরি ব্যবহার করা সব থেকে ভালো। প্যারাসিটামল সাপোজিটরি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সাপোজিটরি প্রধানত ৩ ধরনের। রেক্টাল সাপোজিটরি ,যোনি সাপোজিটরি,ইউরেথ্রাল সাপোজিটরি।

রেক্টাল সাপোজিটরি ব্যবহারের নিয়ম

রেক্টাল সাপোজিটরি ছোট বাচ্চাদের অথবা প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মলদ্বারে ব্যবহার করা হয়।  সাপোজিটরি ব্যবহারের জন্য প্রথমে বাচ্চাকে বিছানায় শোয়াতে হবে।বাচ্চাকে বিছানায় শোয়ানোর পরে হাত পরিষ্কার করে ফয়েল থেকে সাপোজিটরি বের করে বাচ্চার মলদ্বারে আলতো চাপ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাতে হবে ।

সাপোজিটরি কতদিন খেলে জ্বর কমে?

বাচ্চাদের জ্বর যখন ১০২° ফারেনহাইট এর ওপরে হয় তখন ডাক্তাররা প্যারাসিটামল সাপোজিটরির  পরামর্শ দেয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা যে কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় এবং সাপোজিটরি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম কি? তাহলে চলুন জেনে নেই সাপোজিটরি ব্যবহারে কতদিন বা কতক্ষন পর জ্বর কমে।

সাপোজিটরি ব্যবহার করার 30 মিনিট পর সাপোটার কাজ বা ওষুধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা যখন 104° ফারেনহাইট হবে তখন বাচ্চাকে পায়ুপথে সাপোজিটর প্রবেশ করাতে হবে। মলদ্বারের মাধ্যমে সাপোজিটর দেয়ার ফলে শরীরে তাপমাত্রার কারণে সেটি গোলের শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকে।

ডাক্তার জানিয়েছেন যে শিশুর জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পরেও যদি তাপমাত্রা না কমে তখন সাপোজিটর ব্যবহার করা উত্তম। সাপোজিটর ব্যবহারের এক থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকবে এবং জ্বর কমে যাবে। 

কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় ?

আমরা সকলেই জানি যে ছোট বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা যখন অধিক পরিমাণ বেড়ে যায় তখন সাপোজিটর ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা এটা জানি না যে কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটর দেয়া যায়? তাহলে চলুন জেনে নেই সাপোজিটর ব্যবহার করার সঠিক সময় এবং কত সময় পর পর ব্যবহার করা যায়।

সাপোজিটর হলো একটি ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কঠিন অথবা তরল ঔষধ মলদ্বারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। সাপোজিটর জিলেটিন নামক পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকায় এটি যখন মলদ্বারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয় তখন শরীরের তাপমাত্রায় এটি গলে যায়। 

সাপোজিটর ব্যবহার করার ৫ ঘন্টা পর যদি জ্বর না কমে তাহলে আপনি দ্বিতীয়বার সাপোজিটর ব্যবহার করতে পারবেন। একদিনে সর্বোচ্চ ৩টি সাপোজিটের ব্যবহার করা নিরাপদ। সাপোজিটর ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পর দেয়া যায়।

শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরির নাম

ছোট বাচ্চাদের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যে সকল সাপোজিটরি ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন তার মধ্যে কয়েকটি সাপোজিটরের নাম হলো,

  • প্যারাসিটামল 250  mg
  • প্যারাসিটামল 500 mg
  • নাপা 500 mg ,500 mg
  • এক্সেল 120 mg, 250 mg
  • এক্সপা  120 mg, 250 mg
  • মম ডল 250 mg
  • ফাস্ট  150 mg , 250 mg 

সাপোজিটরি দেওয়ার পর জ্বর না কমলে করণীয় 

সাপোজিটর দেওয়ার পর যদি বাচ্চার শরীরে তাপমাত্রা না কমে তাহলে তো ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। এছাড়াও সাপোজিটর দেয়ার পর যদি শরীরে তাপমাত্রা না কমে তাহলে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেই সাপোটার দেওয়ার পর জ্বর না কমলে করণীয় কি,

  • কুসুম কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে বাচ্চার শরীর মুছে দেওয়া।
  • কপালে জলপট্টি দেওয়া।
  • বাচ্চাকে যেন গরম না লাগে সেই দিকে খেয়াল রাখা।
  • বাচ্চা যেই ঘরে অবস্থান করবে সেই ঘরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভবত ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে রাখা।
  • বাচ্চাকে জ্বরের সিরাপ খাওয়াতে হবে।
  • বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা যাবে না।

  • শিশুকে তরল খাবার খাওয়ানো কোনমতেই শক্ত খাবার খাওয়ানো যাবে না।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের যদি জ্বরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে বরফের স্যাক দেওয়া অথবা বরফের পানি দিয়ে শরীরকে ঠান্ডা করা।

সাপোজিটরি ব্যবহারের পরেও যদি শরীরের তাপমাত্রা না কমে তাহলে উপরে বর্ণিত কাজগুলো করবেন এবং দ্রুত  ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধ সেবন করবেন। তবে হ্যাঁ সাপোজিটরি শুধু এখানে বর্ণিত আছে বলে আপনি আপনার সন্তানের জন্য ব্যবহার করবেন তেমনটা নয় ডাক্তারের পরামর্শ মতেই সাপোজিটর ব্যবহার করবেন।

সাপোজিটরি ব্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাপোজিটরি ব্যবহারে তেমন কোন ক্ষতিকর দিক এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি তবে যদি কোন ক্ষেত্রে বাচ্চাদেরকে সাপোজিটরি দেওয়ার পরে বমি হয় অথবা চুলকানি, এলার্জির মত উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ সেবন করবেন।

শেষ কথা। কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় - শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি

প্রিয় পাঠক বন্ধু আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায় এবং শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি নাম, সাপোজিটরি কিভাবে কাজ করে,সাপোজিটরি ব্যবহারের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url