হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে

লো প্রেসারে কি হার্ট অ্যাটাক হয় 

প্রিয় পাঠক বন্ধু আপনারা কি এই গরমে হিট স্ট্রোক  নিয়ে চিন্তিত ? এই বিষয়ে যদি আপনিও যা জানতে আগ্রহী হন তাহলে আজকেরে আর্টিকেলটি আপনার উপকারে আসবে কারণ আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করবহিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে।

হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে

বর্তমান গ্রীষ্মকালে হিটস্ট্রোক হলো একটি মারাত্মক রোগ যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে যে হিটস্ট্রোক কখন, কেন হয় এবং হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে।

হিট স্ট্রোক কী ?

হিট স্ট্রোক হলো একটি গ্রীষ্মকালীন অসুস্থতা। যখন কোন ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা ৪১° সেলসিয়াস ( ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট ) হয় তখন সেই ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যার ফলে সে ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।

হিট স্ট্রোক এর কারণ 

গ্রীষ্মকালীন সময়ে হিট স্ট্রোক একটি সাধারণ সমস্যা। হিট স্ট্রোকের প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা। যখন কোন ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা ধারণ ক্ষমতা বাহিরে চলে যায় তখন সে ব্যক্তি হিস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে যেগুলো হলো দীর্ঘক্ষন রোদে অবস্থান করা, কায়িক পরিশ্রম করা, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়া, শরীরকে হাইড্রেটেড না রাখা, বেশি আটো সাটো পোশাক পরিধান করা ইত্যাদি কারণে হিট স্ট্রোক হয়।

আরও পড়ুনঃ মাথার পেছনে ব্যথা হওয়ার কারণ

একজন সাধারন ব্যাক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন আরো কিছু কারণে যেমন বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা সাথে করে না নেওয়া, গরমকালে ক্যাফেইন জাতীয় খাবার অধিক পরিমাণে খাওয়া , খাদ্য তালিকায় অধিক পরিমাণ তেল চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অ্যালকোহল জাতীয় মদ্যপান করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়াও গরমকালে কালো পোশাক পরিধান করলে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পাশাপাশি শরীরের গ্লুকোজ ফ্রুটসের পরিমাণ কমে গেলে হিট স্ট্রোক হয়। তাই হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে সেগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন। 

হিট স্ট্রোক কখন ও কেন হয় ?

হিট স্ট্রোক কখন এবং কেন হয় এটা আমাদের জানা প্রয়োজন কারণ যদি আমরা হিট স্ট্রোক কখন এবং কেন হয় জেনে থাকি  তাহলে হিট স্ট্রোক সম্পর্কে অবলম্বন করতে পারব। হেট স্ট্রোক বা হাইপোথারমিয়া এমন একটি রোগ যেখানে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে,হার্টে রক্তক্ষরণ হয় যার কারণে ব্রেন স্ট্রোক হতে পারে।

যেহেতু দিনের মধ্যেক্ষণ অর্থাৎ দুপুর 12 টার পর থেকে ৩ টা পর্যন্ত রোদের তাপ বেশি থাকে অর্থাৎ দুপুরবেলায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি। দুপুরে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে রোদের তাপ মস্তিষ্কের নার্ভের উপর চাপ ফেলে এবং রক্তক্ষরণ হয়। তাই হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা দুপুরবেলা সবথেকে বেশি।

আরও পড়ুনঃ হাত এবং পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া কেন হয়

হিট স্ট্রোক কেন হয় এই প্রশ্নটি বর্তমানে সবথেকে বেশি জিজ্ঞাসা হয়ে থাকে। হিট স্ট্রোক হওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া। যখনই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় তখন শরীর থেকে ঘাম হিসেবে প্রচুর পরিমাণ পানি বের হয়ে যায় যার কারণে ডিহাইড্রেশন হয় এবং ঘামের সাথে শরীর থেকে লবণ নিষ্কাশিত হয়।

ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে লবণ এবং পানি নিশ্রিত হয় যার ফলে শরীর স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারায় যার ফলস্বরূপ হেড স্ট্রোক হচ্ছে। হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে এ প্রশ্নের উত্তর হলো শরীরকে হাইডেটেড রাখার জন্য অধিক পরিমাণ পানি পান করা।

হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ। আমি কিভাবে বুঝব যে আমার হিট স্ট্রোক হয়েছে

এই গরমের মধ্যে সাধারণভাবে আমাদের সকলের ঘাম হয় গরম লাগে কিন্তু কখন যে এই ঘামের কারণ হিট স্ট্রোক হয়ে দাঁড়াবে এটা আমরা বুঝতে পারি না। সঠিক সময়ে হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ গুলো বুঝতে না পারার কারণে হিট স্ট্রোক হয়ে আপনি আপনার বাকশক্তি ও হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তাই আমাদেরকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেসব লক্ষণগুলো যেগুলো হলে আমরা বুঝবো যে আমাদের হিট স্ট্রোক  হয়েছে,

  • অধিক পরিমাণ ঘাম হওয়া
  • রোদে প্রচন্ড পরিমাণ মাথাব্যথা করা 
  • রোদে যাওয়ার ফলে দ্রুত হৃদস্পন্দন
  •  অল্পতে ক্লান্ত অনুভব করা
  • শরীরের এনার্জি হারিয়ে ফেলা
  • কথায় জড়তা ভাব প্রকাশ
  • ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় চুলকানি এলার্জি
  • অধিক পরিমাণ তৃষ্ণা পাওয়া
  • ডিহাইড্রেশন
  •  ৩,৪ বার বমি হওয়া
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কম হওয়া এবং প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া
  • রক্তচাপ কমে যাওয়া
  • হাত পা জ্বালাপোড়া করা, হাত পায়ের খিঁচুনি ওঠা
  • কপাল যন্ত্রণা করা, ব্যথা করা
  • মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া
  • দ্রুত প্রেসার বৃদ্ধি পাওয়া
  • মাথার পেছনে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • নিঃশ্বাস দ্রুত হওয়া এবং চলার মত সামর্থ্য হারিয়ে ফেলা
  • মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা তুলতে না পারা

উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলো যখনই আপনার মধ্যে প্রকাশ পাবে আপনি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন কারণ হিট স্ট্রোক অবহেলা করার বিষয় নয়। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে চিকিৎসা শুরু করবেন এবং হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে 

হিট স্ট্রোক এমন একটি রোগ যে রোগের উপশম একমাত্র সতর্কতায় সম্ভব। কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে তাই নিজে সতর্কতা অবলম্বন করলেই হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

যেহেতু নিজেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তাই আপনারা সকলে গুগলে খোঁজাখুঁজি করেছেন যে, হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে। হিট স্ট্রোক থেকে আপনি নিজে এবং আপনার পরিবারের সকলকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখবেন তার জন্য চলুন জেনে নি হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে ,

পানিঃ হেট স্ট্রোক থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য অধিক পরিমাণ পানি পান করতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করার কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং আপনি নিজেও সুরক্ষিত থাকবেন।

ওরস্যালাইনঃ হেট স্ট্রোকে যেহেতু শরীর থেকে অধিক পরিমাণ পানি নির্গত হয় এবং এই পানির সাথে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায় তাই লবণের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ওর স্যালাইন খেতে হবে।

পোশাক পরিধান এর সতর্কতাঃ হিট স্ট্রোক ঠেকাতে বেশি টাইট জামা কাপড় পরা যাবে না যতটা সম্ভব ঢিলেঢালা এবং সাদা রংয়ের পোশাক পরিধান করবেন।

ছাতা,টুপি সঙ্গে নেওয়াঃ ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই সঙ্গে ছাতার টুপি নিয়ে বেরোবেন যেন আপনি আপনার মা থাকে রোদের তাপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

ক্যাফেইন যুক্ত খাবার পরিহারঃ এই গরমে ক্যাফেনযুক্ত খাবার যেমন চা কফি ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ চা কফি খেলে দ্রুত ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পেতে পারে।

উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার পরিহারঃ হ্যাঁ বন্ধুরা এই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে উপশম পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার খাদ্য তালিকা দেখে উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস, পনির এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে নয়তো আপনার রক্তের চাপ বৃদ্ধি পাবে।

হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে এগুলো অবলম্বনের সাথে আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করার, ঘর থেকে বাইরে বেরোলে অথবা কাজের ক্ষেত্রে বাইরে বেরোলে সাথে অবশ্যই পানি রাখবেন যখনই মনে হবে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিবেন।

এছাড়াও যদি সামর্থ্য হয় ডাবের পানি খাবেন খোলামেলা বাতাসযুক্ত পরিবেশে অবস্থান করবেন এবং খাবার তালিকা তালিকায় শাকসবজি যুক্ত করবেন। আপনি যদি একটু সতর্কতা অবলম্বন করে লাইফস্টাইল চেঞ্জ করেন তাহলে খুব সহজেই হিট স্ট্রোপ থেকে আপনি সুরক্ষা পাবেন।

হিট স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

যখন আপনার পরিচিত কোন ব্যক্তির হিট স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সকল রোগের সমাধান পাওয়ার কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা রয়েছে।

 ঠিক সেরকম হিট স্ট্রোক  রোগের ও কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা রয়েছে। তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নেই হিট স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো,

  • রোগীকে দ্রুত খোলামেলা ঠান্ডা পরিবেশে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • রোগের শরীর অতিরিক্ত তাপ কমানোর জন্য ঠান্ডা পানি অথবা কাপড় ভিজিয়ে মুছতে হবে।
  • অধিক পরিমাণ পানি পান করাতে হবে।
  • শরীরের তাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনে বড় দিতে হবে।
  • ডাবের পানি গ্লুকোজ খাওয়াতে হবে।
  • রোগীর গরম যেন না লাগে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে
  • দ্রুত রোগীদের খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
  • যদি তবুও শরীরের তাপমাত্রা না কমে তাহলে পায়ের তালুতে, ঘাড়ে, বগলে বরফ দিয়ে দিতে হবে।
  • রোগী যদি অধিক পরিমাণ পোষাক পড়ে থাকেন তাহলে তার পোশাক কমিয়ে দিতে হবে।
  • রোগীর হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কিনা সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • হিট স্ট্রোক যেহেতু মাথায় বেশি গরম লাগে তাই মাথাতে পানি দিয়ে দিতে হবে।
  • রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

উপরে বর্ণিত প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো একজন হিট স্ট্রোক রোগীকে দেওয়ার পরে যদি তার অবস্থার কোন উন্নতি না হয় তাহলে তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। 

শেষ কথা। হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে 

আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে হিট স্ট্রোক ঠেকাতে কিসের সমাহার ঘটে  এবং হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো কি ? কিভাবে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করবেন এবং কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি।

আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদেরকে শেয়ার করে দিবেন এবং তাদেরকেও এই গরমে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য সহায়তা করবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url