টক দই খাওয়ার উপকারিতা

ওজন কমাতে নিম পাতা রসের ব্যবহারপ্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো টক দই খাওয়ার উপকারিতা খালি পেটে টক দই খেলে কি কি উপকার হয়এ সকল বিষয় নিয়ে জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকেরএই পোস্টটিতে আমি টক দই সংক্রান্ত সকল তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করব। 
টক দই খাওয়ার উপকারিতা

আপনি যদি টক দই খাওয়ার উপকারিতা এবং টক দই সংক্রান্ত বিস্তার তথ্য জানতে চান তবে পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।

ভূমিকা

টক দই আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী কারণ টক দই আমাদের শরীর কে বিভিন্ন রকমের এনজাইম, ভিটামিন, প্রোটিন সরবরাহ করে যা আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হজম শক্তি বৃদ্ধি কর্‌ ত্বক উজ্জ্বল করে ইত্যাদি অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 টক দই খাওয়ার উপকারিতা

শরীরকে সুস্থ রাখতে টক দই এর উপকারিতা  অপরিসীম। টক দই খাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায়। আবার নিয়মিত টক দই খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ টক দইয়ের প্রচুর পরিমাণ প্রবায়োটিক রয়েছে। যা আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্রে বিপাক ক্রিয়া করতে সাহায্য করে।টক দই খাওয়ার ফলে ত্বক ভালো থাকে।
পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়মিত  টকদই খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও টক দই প্রচুর পরিমাণ প্রোবায়োটিক রয়েছে যা পেট ফোলা অথবা পেটের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে কার্যকরত। টক দই খাওয়ার ফলে দাঁত এবং মাংসপেশি হার মজবুত থাকে। নিয়মিত টক দই খেলে শরীরের ওজন কমে যায় তাই বলা যায় আমাদের শরীরের জন্য টক দই খাওয়ার উপকারিতা অতুলনীয়।

খালি পেটে টক দই খেলে কি হয়

অনেকেই মনে করে সকালে খালি পেটে দই খেলে এসিডিটির প্রবলেম হয় কিন্তু না এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা কারণ খালি পেটে দই খেলে এটা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। সকালে খালি পেটে দই খেলে এটা আমাদের অন্ত্রের জন্য অনেক উপকারী। কারণ অন্ত্রের ক্রিয়া করা ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রচুর পরিমাণ প্রোবায়োটি প্রয়োজন।
 সকালে খালি পেটে দই খেলে এতে আমাদের শরীরের ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে ওজন বৃদ্ধির পায় না। দইয়ে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম রয়েছে যা আমাদের হারকে মজবুত করে তাই আমাদের শরীরের হাড়কে মজবুত করার জন্য টক দই খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম। এছাড়াও সকালে খালি পেটে দই খেলে সারাদিন অনেক এনার্জি পাওয়া যায় শরীরে।

টক দই এ প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন বি টুয়েল ভ রয়েছে যা আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। আমরা যদি প্রতিদিন সকালে নিয়মিত টক দই খায় তবে আমাদের উচ্চ রক্ত থাকবে তাই টক দই খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।

রাতে টক দই খাওয়ার উপকারিতা

দই আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী কারণ এটা আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকমের রুম থেকে রক্ষা করে। দই খেলে মনটা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায্‌, শরীরে ভিটামিন এবং প্রোটিনের ব্যবহার করা তাই দই খাওয়ার উপকারিতা খুব বেশি। কিন্তু দুই রাতে খাওয়া সময় দইয়ের সাথে কালোজিরা অথবা চিনি মিশিয়ে  খাওয়া উছিত।
রাত্রেবেলা টক দই খেলে ঘুম ভালো হয়, পাশাপাশি হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাছাড়াও যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অনেকটা নিরাময়ের কারণ তৈরি। যাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি রয়েছে তারা যদি প্রতিরাতে টক দই খায় তবে তাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ কমেছরবি।

ওজন কমাতে টক দই এর উপকারিতা

ওজন কমানোর জন্য টক দইয়ের ভূমিকা খুব বেশি কারণ টক দই প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ভিটামিন পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম রয়েছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে।।শরীরের প্রতিটি হাড় কে মজবুত রাখ।পাশাপাশি ক্যালরি চাহিদা ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত টক দই খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমালরি। যার ফলে ও অতিরিক্ত চর্বি কমে যায়। তবে ওর শরীরের ওজন কমানোর জন্য টক দইয়ের সাথে কালোজিরা, গোলমরি্‌ দারচিনি ও মৌরি একসাথে মিশ্রিত করে খেলে ওজন কমে যায়। তাই আমরা যদি অতিরিক্ত ওজন অথবা অতিরিক্ত  চর্বি নিয়ে চিন্তিত থাকি। তবে নিশ্চিন্তে টকদই খেতে পারি তাই বলা যায় ওজন কমাতে টক দই খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম।

ওজন কমাতে টক দই কখন খেতে হয়?

শরীরের ওজন কমানোর জন্য টক দই তো উপকারি তার সাথে যদি মৌরি ,গোলমরিচ ,কালোজিরা খাওয়া যায় তাহলে দ্রুত ওজন কমে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যারা শুধু টক দই খেতে পারি না তাই অনেকে চিনি মিশিয়ে খান কিন্তু শরীরের ওজন কমানোর জন্য চিনির চেয়েও মধুবেশি উপকারী। তাই আপনি যদি ওজন কমাতে চান তবে টক দইয়ের সাথে মধু মিশিয়ে খান দ্রুত ফলাফল পাবেন।
 ওজন কমানোর জন্য টক দই মূলত সকাল বেলা খাওয়ায় বেশি উপকারী এছাড়া অনেকে রাতেও খেয়ে থাকেন কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, সকালে টক দই খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের  পাকস্থলীর  যে সংকল বিপাক ক্রিয়ায় যে সকল enzyme রয়েছে তারা তাদের  ক্রিয়ায় খুব দ্রুত সক্রিয় হয় যার ফলে শরীরের ওজন অথবা স্থূলতা দ্রুত হ্রাস পায়।

টক দই খেলে কি গ্যাস হয়

টক দই আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী কারণে বিভিন্ন রকমের প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়া্‌ ক্যালসিয়াম,  পটাশিয়াম, ভিটামিন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এছাড়াও সবথেকে প্রয়োজনীয় উপাদান হলো প্রো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক যা শরীরের এসিডিটি থেকে রেহাই দেয়।
আমরা যখন টক দই খাই তখন আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণ প্রবায়োটিক নামক এনজাইম প্রবেশ করে।

যার ফলে আমাদের পাকস্থলীর সকল রকমের গ্যাস্ট্রিক জাতীয় সমস্যা থেকে খুব দ্রুত আরাম পাওয়া যায় কারণ প্রোবায়োটিক আমাদের শরীরের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের শরীরের কে সুস্থ রাখতে এবং গ্যাস্ট্রইক সংক্রান্ত সকল জাতীয় রোগ থেকে দূরে থাকতে টক দই খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

টক দই খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে?

অনেকেই মনে করেন যে টক দইয়ের প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট থাকে যার ফলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এই ধারণাটি ভুল কারণ টক দই এ ২৭৫ গ্রাম ক্যালোরি পাওয়া যায় যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। এছাড়াও টক দইয়ের সাথে যদি আমার কাজুবাদাম খায় তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটা কমে যায়।

রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ ভুল খাদ্য অভ্যাসের কারণেই বেড়ে যায় তাই আমরা যদি আমাদের খাবার দিকে একটু নজর দি তাহলে খুব সহজেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। টক দই এ প্রচুর পরিমাণ ল্যাক্টিক অ্যাসিড রয়েছে যা আমাদের পরিপাকের জন্য উপকারী। টক দই খেলে উচ্চ কোলেস্টেরল থেকে কমে যাবে তাই সুস্থ মানুষের উচিত অন্তত প্রতিদিন ২৭৫ ক্যালোরি খাওয়া তাহলে আমাদের হার্ট সুস্থ থাকবে।

প্রতিদিন কতটুকু টক দই খাওয়া উচিত?

টক দই আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী তাই আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় টক দই রাখা ভালো। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টক দই শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম টক দই খেতে পারবে। অতিরিক্ত টক দই শরীরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়ামের সরবরাহ করে যার ফলে সুস্থতায় অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও টক দই কখনো গরম করে খাওয়া উচিত নয় কারণ গরম টক দইয়ে কোন রকমে প্রোটিন থাকে না আর টক দই এ প্রচুর পরিমাণ লাক্‌টিক রয়েছে যা গরম করার ফলে তার গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায় আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সকল প্রকার রোগ থেকে দূরে রাখতে টক দই খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

টক দই খাওয়ার অপকারিতা 

টক দই খাওয়ার যখন এতগুলো উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি এর কিছু অপকারিতা রয়েছে। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যাদের ঠান্ডা লাগলে শ্বাসকষ্ট জ্বর সর্দি কাশি বা সাইনাস জাতীয় বিভিন্ন রকমের সমস্যা হয় তাই তাদের জন্য শীতকালে টক দই খাওয়া খুব একটা লাভজনক না।

 আবার যাদের ল্যাকটোজের সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত ৩০০ অথবা তার বেশি পরিমাণ দই খায় তবে তাদের সমস্যা দেখা দেয় তবে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মত দই খাওয়াই ভাল। আমার অনেকে ফ্রিজ থেকে বের করে ঠান্ডা দই খায় যার ফলে তাদের কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাই দই খাওয়ার ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকায় ভালো।

লেখক এর মান্তব্য

উপরোক্ত পোস্টটিতে আমি দই খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।  আপনি যদি আমার এই পোস্টটি পড়ে উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই নিয়মিত ওয়েব সাইটে ভিজিট করবেন।পাশাপাশি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। আপনার যদি কোন কিছু জানা থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই কমেন্টস বক্সে জানাবেন এবং পরবর্তী পোস্ট পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url