পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা

পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা এবং পাঙ্গাস মাছের এলার্জি আছে কি এসব বিষয় নিয়ে আপনারা হয়তো অনেক খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু সঠিকভাবে কোন কিছু জানতে পারছেন না তবে চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকে এ পোস্টটিতে পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা এবং পাঙ্গাস মাছের এলার্জি আছে কি এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


এই পোস্টটিতে আমরা  আরো আলোচনা করব পাঙ্গাস মাছের উপকারিতা ,পাঙ্গাস মাছের কত ক্যালরি আছে, পাঙ্গাস মাছ কি আমাদের জন্য ক্ষতিকর কিনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তাই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

পাঙ্গাস মাছে কি এলার্জি আছে

পাঙ্গাস একটি হাঙ্গেরিয়ো জাতীয় ক্যাটফিশ। এর মাঝে মূলত কাটা থাকে না তাইলে সকলে প্রিয়। কিন্তু পাঙ্গাস মাছ এর এলার্জি রয়েছে কারণ এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেনা। যার ফলে এটা সরাসরি ইমিউন সিস্টেম কে আক্রমণ করে। তাই বলা যায় পাঙ্গাস মাছের এলার্জি আছে।

পাঙ্গাস মাছের উপকারিতা

পাঙ্গাস মাছটি যেমন খেতে সুস্বাদু ঠিক তেমনি কাটা না থাকার ফলে বাচ্চারা মাছ খুব পছন্দ করে। আবার এটি খুব সহজেই বাড়ির আশেপাশে পুকুরেও চাষ করা যায়। পাঙ্গাস মাছের তুলনামূলকভাবে অন্য মাছ যে কোলেস্টের প্রোটিন কম থাকে। এছাড়া পাঙ্গাস মাছ আমাদের শরীরে পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস আয়রন ইত্যাদি পূরণ করে থাকে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে।

পাঙ্গাস মাছের রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আমি যা আমাদের শরীরের সঠিক দৈহিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যেমন তিন থেকে দশ বছরের বাচ্চাদের শরীরের সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড প্রয়োজন। আর পাঙ্গাস মাছের প্রচুর রয়েছে অ্যামাইনো এসিড রয়েছে, তাই বলা যায় পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম।

পাঙাশ মাছে কত ক্যালরি?

পাঙ্গাস মাছ আমাদের জন্য খুবই উপকারী কারণ এতে কপাল জিংক আয়রন ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস ইত্যাদি আমাদের শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণ করে। ১০০ গ্রাম পাঙ্গাস মাছের কালারের পরিমাণ ১৫০-১৬০। যেটা খুবই উন্নত মান।

পাঙ্গাস মাছের তেল কি ক্ষতিকর?

সকল মাছের তেল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী কারণ এটা আমাদের হাটকে সুস্থ রাখতে অনেক সাহায্য করে। পাঙ্গাস মাছ খেতে অনেক সুস্বাদু এবং অনেক তেল বা চর্বি রয়েছে তাই অনেকে মনে করে পাঙ্গাস মাছের তেল ক্ষতিকর। কিন্তু না পাঙ্গাস মাছের তেল আমাদের হাটকে সুস্থ রাখে।

কারণ পাঙ্গাশ মাছের তেলে ওমেগা থ্রি রয়েছে যা আমাদের হার্টের ব্লাড সার্কুলেশন সচল রাখে। এছাড়া পরিমাণ রয়েছে যার সকল এনজাইম কে ভেঙে শক্তি উৎপাদনের সাহায্যও করে। পাশাপাশি পাঙ্গাস মাছের ক্যালরিও খুব ভালো কারণ পাঙ্গাস মাছের ক্যালোরি ১৫০ থেকে ১৬০ এর মধ্যে।

পাঙ্গাস মাছ খেলে কি ওজন বাড়ে

সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন , যে পেটে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি কমাতে মাছের তেল খুবই উপকারী। কারণ মাছের তেলের চর্বি থাকে সেটা অসম্পৃক্ত যার ফলে সেখানে কোন রকমে টিস্যু মধ্যে চর্বি জমা হয় না। মানব শরীরে মূলত সাদা টিস্যু এবং বানানি রঙের টিস্যু রয়েছে যা চর্বি সঞ্চয় করে কিন্তু মাছের চর্বি সেখানে সঞ্জয় হয় না।

যার ফলে মাছের তেল খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন বাড়ায় না। এমনকি পেটের অতিরিক্ত মেন বা চর্বি কমাতে পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিত শরীরের সুস্থ রাখতে হলে পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। পাশাপাশি পাঙ্গাস মাছ এলার্জির পরিমাণও কম ক্যালরি পরিমাণও খুব সীমিত।

পাংগাস মাছে কি কোলেস্টেরল আছে?

পাঙ্গাস মাছের রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, অ্যামাইনো আসিড, অসম্পৃক্ত চর্বি যে আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকার করে। পাশাপাশি পাঙ্গাস মাছের কোলেস্ট্রল পরিমাণ খুবই কম আর শরীরের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকা হার্টের জন্য খুব ভালো। তাই পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা অনেকগুলো।

পাঙ্গাস মাছের প্রতি 100 গ্রাম মাছের কোলেস্টেরলের পরিমাণ 0.8 মিলিগ্রাম যা তুলনায় খুব কম। পাশাপাশি পাঙ্গাস মাছের অসম্পৃক্ত কার্বন শরীরে থাকা ক্ষতিকারক চর্বিগুলোকে ধ্বংস করে। শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি ইত্যাদি কমিয়ে ফেলে হাটকে সুস্থ রাখে শরীরের বিভিন্ন ভিটামিনের সরবরাহ করে পাঙ্গাস মাছের উপকারিতা অনেক বেশি।

পাঙ্গাস মাছের ক্ষতিকর দিক

পাঙ্গাস মাছের উপকারিতা গুলো বলে শেষ করা যাবে না কারণ এই মাছ আমাদের শরীরের জন্য এতটাই উপকারী। পাঙ্গাস মাছ খেলে আমাদের হার্টের যেমন ভালো থাকে ঠিক তেমনি মাসকিউলার বেশি গঠনে সহায়তা করে। পাঙ্গাস মাছ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, গর্ভাবস্থায় শিশুর দোহিক বৃদ্ধি ঘটায়, বুদ্ধির বিকাশ ঘটায, শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি কমিয়ে ফেলে।

পাঙ্গাস মাছের মূলত অনেক উপকারিতা রয়েছে বলতে গেলে অপকারিতা নেই বললেই চলে শুধু একটাই অপকারিতা আছে সেটা হল এলার্জি তাছাড়া পাঙ্গাস মাসে কোন রকমের ক্ষতিকর দিক নেই। তাই আপনি যদি পাঙ্গাস মাছ পছন্দ করেন তবে নির্দ্বিধায় খেতে পারেন।

লেখকের মন্তব্য

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, অতিরিক্ত মেদ চর্বি কমাতে,হাটকে সুস্থ রাখতে, শরীরের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটাতে, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল কমাতে মাছের কোন বিকল্প নেই। আমার এই পোস্টটিতে আমি মূলত পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার উপকারিতা আলোচনা করেছি।

আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনি যদি উপকৃত হন তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। পাশাপাশি আপনি আপনাদের বন্ধু-বান্ধব দের সাথে শেয়ার করে তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিবেন এবং পরবর্তী পোস্ট পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url