কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়-শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়

কিসমিস খাওয়ার ৩০টি উপকারিতা ও কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়মপ্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো কিসমিস খেলে কি ফর্সা হওয়া যায় শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়  এই সকল বিষয় নিয়ে হয়তো জানার চেষ্টা করছেন কিন্তু সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই আজকের আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদের সেই সকল তথ্য জানানোর চেষ্টা করব।

কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়-শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়

সকালে খালি পেটে শুকনো কিসমিস খেলে কি উপকার হয় কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি উপকার হয় এবং প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

সকালে খালি পেটে শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়?

কিসমিস ড্রাই ফুট হিসেবে আমরা বেশি খেয়ে থাকি। কিসমিসের রয়েছে অধিক পরিমাণ ফাইবার যেগুলো আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। আমরা অনেকেরই সকালে খালি পেটে ভিজিয়ে কিসমিস খায় আবার খালি পেটে শুকনা কিসমিস খেয়ে থাকি। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন যে সকালে খালি পেটে শুকনো কিসমিস খেলে কি কি উপকার হয়?

আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী অবস্থায় কিসমিস খেলে কি কি উপকার হয় বিস্তারিত জানুন

তাহলে চলুন আপনাদের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা শুরু করি, কিসমিসের যেহেতু অধিক পরিমাণ ফাইবার ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম বোরন ম্যাগনেসিয়াম আন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য বিদ্যামান এছাড়াও রয়েছে অধিক পরিমাণ ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে শুকনো কিসমিস খেলে এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এছাড়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে যদি শুকনো কিসমিস খাওয়া হয় তবে এটি হার্টকে সুস্থ রাখে পাশাপাশি লিভারের বিভিন্ন রকমের স্পট বা দাগ বা সিরোসিস জনিত সমস্যা থেকেও লিভারকে মুক্ত রাখে। শুকনো কিসমিস রয়েছে অধিক পরিমাণ লৌহ উপাদান যেটির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রক্তের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতার দূর হয়।

আরও পড়ুনঃ খালি পেটে পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে শুকনো কিসমিস খেলে এটা আমাদের দীর্ঘক্ষন পরিপূর্ণ রাখে যার কারণে খিদে কম লাগে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিসমিসে উপস্থিত কোলাজেন শরীরের অতিরিক্ত মেদ চর্বি ঝরিয়ে দেয় যার কারণে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তাই প্রতিদিন সকালে শুকনো কিসমিস খেলে আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন রকমের রোগ দূরে থাকবে এবং রক্তশূন্যতা কোষ্ঠকাঠিন্য হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আমরা যদি চাই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তাহলে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে শুকনো কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়

আমরা সকলেই জানি যে কিসমিস শুধু রান্নার কাজে খাবারের স্বাদ এবং মান বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটা যে আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে পাশাপাশি আমাদের রূপচর্চাতেও কিসমিসের রয়েছে শতভাগ অবদান। আমরা সকলেই চাই আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে আর ত্বককে উজ্জ্বল এবং আকর্ষণ করার জন্য আমরা কত রকমের দামি দামি ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ইউজ করি।

কিন্তু দেখা যায় যে আমাদের ত্বক সুন্দর উজ্জ্বল হওয়ার চাইতে আরো বেশি খারাপ হয়ে যায় যেমন চেহারার লাবণ্যতা খুঁজেই পায় না। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন কিসমিস খাই তবে আমাদের ত্বক ফর্সা এবং সুন্দর হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেই কিসমিস কিভাবে খেলে ত্বক ফর্সা হবে?

প্রথমে কিসমিস সুন্দর করে পরিষ্কার করে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম কিসমিস আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং পরের দিন সকাল বেলা যখন কিসমিস গুলো ভিজিয়ে পানি শোষণ করে ফুলে থাকবে তখন কিসমিস এবং মধু একসাথে খেতে হবে। ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়ার কারণে কিচমচে উপস্থিত এন্টি মাইক্রোবিয়াল এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ধ্বংস হওয়া কোষ সতেজ করেন।

আরও পড়ুনঃ ত্বকের যত্নে নিম পাতার ২০টি উপকারিতা

এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের গভীরে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক জনিত সংক্রমণকে ধ্বংস করে। কিসমিসে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ ত্বককে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও কিসমিস ভিজিয়ে রাখা পানি গুলো যদি মধু এবং লেবু মিশ্রিত করে খাওয়া হয় তবে ত্বকের উজ্জ্বলতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে একটাই কথা বলব যে কিসমিস খেলে ত্বক ফর্সা হয় যদি একটু সতর্কতার সাথে খাওয়া হয় যেমন কিসমিস খাওয়ার সময় অবশ্যই সাথে মধু এবং লেবু খেতে হবে কারণ লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক এসিড ত্বকের জন্য খুব খুব খুবই উপকারী এটা ত্বকের বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং ত্বকের গভীরে  পুষ্টি সরবরাহ করে।

কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি উপকার হয়?

কিসমিস অধিক ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার এবং এতে উচ্চ ক্যালোরি ফুল হিসেবে পরিচিত। এই অধিক ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবারটি যদি ভিজিয়ে খাওয়া হয় তবে ব্যাপক রকমের উপকার পাওয়া যায় যেগুলো আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। তাহলে চলুন জেনে নেই কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি কি উপকার হয়,
  • রক্তশূন্যতা দূর করতেঃ রাতে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস সকালে খাওয়ার কারণে কিসমিসে উপস্থিত আয়রন এবং অধিক পরিমাণ লৌহ শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতেঃ রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় তখন শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় কিন্তু যদি প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়া হয় তবে কিসমিসে উপস্থিত  লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ অধিক পরিমাণ ফাইবার তো রয়েছে কিন্তু সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার কারণে এটি প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে যেতে পাকস্থলীতে গিয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন বি ভিটামিন সি রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের প্রকোপ থেকে রক্ষা করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের উচ্চ চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  হার্ট সুস্থ রাখতেঃ কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে যার কারণে হার্টের সঠিক মত রক্ত সরবরাহ হয় যার কারণে হার্ট সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক থাকে।
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেঃ কিসমিস উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকের নিয়ন্ত্রণে রাখে যার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে যার কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • শরীরে লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেঃ আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে যে ধরনের তরকারি রান্না করে খায় তার মাধ্যমে আমাদের শরীরে অধিক পরিমাণ সোডিয়াম জমা হয় কিন্তু কিসমিস আমাদের শরীরের সোডিয়ামকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরকে শক্তি যোগাতেঃ শরীরের শক্তি বা এনার্জি যোগাতে কিশমিশে উপস্থিত ক্যালসিয়াম শর্করা গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ খুব উপকারী।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কিসমিস উপস্থিত এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • কোলেস্টেরল কমাতেঃ কিসমিসের দ্রবণীয় ফাইবার লিভারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায়।
  • চোখের সমস্যা দূর করতেঃ কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট চোখের সানি পড়া চোখে ঝাপসা দেখা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • অনিদ্রা দূর করতেঃ ভেজানো কিসমিসে উপস্থিত ব্রণ অনিদ্রা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • ত্বকের যত্নেঃ কিস মিসে উপস্থিত ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিংক ক্যারোটিয়ান ত্বককে পুষ্টি যোগায় যার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং রোদে পরা ভাব থেকে মুক্ত থাকে।

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ কিসমিস ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধি করতেঃ রাতে ভিজে রাখা কিসমিস সকালে খালি পেটে খেলে যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়।

উপরে বর্ণিত উপকার গুলো থেকে আপনার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে আমাদের শরীরে কিসমিসের উপকারিতা কতটা বেশি এবং প্রয়োজন। তাই আমাদেরকে আমাদের খাদ্য তালিকায় দ্রুত কিসমিস যোগ করতে হবে।

শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়

শুকনো কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো,

  • কিসমিসে অধিক পরিমাণ ফাইবার উপস্থিত থাকা এটা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া দ্রুত হতে ত্বরান্বিত করে।
  • শুকনো কিসমিসে অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম হাড়ের ভঙ্গুলো তা দূর করে এবং হারকে মজবুত করে।
  • এছাড়াও কিসমিসের অধিক পরিমাণ বোরন রয়েছে যেগুলো অস্টিওপরেসিস রোগকে প্রতিরোধ করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম খুব উপকারী আর কিসমিসে অধিক পরিমাণ পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে।
  • চোখের যত্নেও কিসমিসের ভূমিকা অপরিসীম কারণ কিসমিস অধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত যেটা চোখের ছানি পড়া এবং দৃষ্টিশক্তির হ্রাসজনিত সমস্যা দূর করে।
  • এছাড়াও কারো চোখের যদি কম দেখে এবং অন্ধত্ব জনিত সমস্যা থাকে তারাও কিসমিস খেলে দ্রুত উপকার পেতে পারবেন।
  • কোষের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ এর হাত থেকে রক্ষা করতে কিসমিস খুব উপকারী কারণ কিসমিস অধিক পরিমাণ ফাইবার উপস্থিত যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • রক্তে যদি অধিক পরিমাণ টক্সিক পদার্থ উপস্থিত থাকে তাহলে শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় কিন্তু কিসমিস রক্তের টক্সিক পদার্থ ধ্বংস করে।
  • কাটা ছেঁড়া বা ঘা সারাতে কিসমিস খুব উপকারী কারণ কিসমিসে উপস্থিত পলিফেনালস এন্টি ব্যাকটেরিয়াল দ্রুত ঘা সারাতে ভূমিকা রাখে।
  • কেউ যদি তার ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন যে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাহলে অবশ্যই কিসমিস খেতে পারেন কারণ কিসমিসে উপস্থিত গ্লুকোজ এবং ফ্রূক্টজ শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে শরীরকে হেলদি করে তোলে।
  • কিসমিসে উপস্থিত ক্যালসিয়াম দাঁতকে মজবুত করে এবং তাদের এনামেলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • যে সকল ব্যক্তি অনিদ্রা জনিত সমস্যার সাথে ভুগছেন তারা যদি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে তাদের অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে।
  •  কিসমিসে উপস্থিত এন্টি কোলেস্টেরল উপাদান রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কে কমায়।
  • কিসমিসে উপস্থিত আয়রন এবং লোহা উপাদান রক্তের অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করে এবং রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  • কিসমিসে উপস্থিত গ্লুকোজ এবং ফ্রূক্টজ শরীরকে দ্রুত শক্তি এবং এনার্জি সরবরাহ করে।

 কিসমিস খেলে কি মোটা হয়

আমরা অনেকেই আমাদের দুর্বল শরীরকে একটু স্বাস্থ্যবান করার জন্য কত কিছুই না করে থাকি। কিন্তু শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে না যার ফলে আমরা হতাশায় ভুগি। কিন্তু যদি প্রতিদিন কিসমিস খাওয়া যায় তবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করা যায়। কিসমিস হচ্ছে অধিক ক্যালোরি সম্পন্ন একটি ড্রাইভ রোড নামে পরিচিত। 100 গ্রাম কিসমিসের প্রায় ২৮৮ থেকে ২৯২ ক্যালরি পাওয়া যায়।

কিসমিস যদি ভিজিয়ে রেখে খাওয়া হয় তবে কিসমিসে ক্যালরির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খেলে এতে আমাদের পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকে এবং শরীরে ভিটামিন, আইরন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম,বরণ, ফসফরাস, সালফার, জিংক এর মত প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের সরবরাহ করে। 

নিয়মিত প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খেলে এটি আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ওজন বৃদ্ধি করে। এছাড়াও ভিজে রাখা কিসমিস নিয়মিত খেলে হার্ট এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে পাশাপাশি যদি মেদ চর্বি থাকে সেটাও ঝরিয়ে দেয়।

তাই অবশেষে বলবো যে শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি করতে এবং স্থূলতার হ্রাস করতে কিসমিসের কোন বিকল্প নেই তবে হ্যাঁ কিসমিচের সাথে যদি কাজুবাদাম এবং খেজুর খাওয়া হয় তাহলে খুব দ্রুতই শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাবে এবং শরীরের স্বাভাবিক ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে তাই আপনারা যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চান তারা এখনই খাদ্য তালিকায় কিসমিস এবং খেজুর কাজুবাদাম যুক্ত করুন।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

কিসমিস হল সুস্বাদু এবং মুখরোচক একটি খাবার যেটি আমরা শুকনো খাবার হিসেবেই খেয়ে থাকি। কিসমিস রান্নার কাজেও ব্যবহৃত হয় যেমন পায়েশ ক্ষীর সেমাই রান্নাতে মেশালা বেটির খাবারের মান এবং স্বাদ বৃদ্ধি করে। এই কিসমিসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কপার লোহ , ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপাদান।

আরও পরুনঃ কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও কাঁচা ছোলা প্রতিদিন কতটুকু খাওয়া উচিত

এখন অনেকেরই মনে এই প্রশ্ন জাগে যে প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খেলে আমাদের শরীরের জন্য এটি ভালো হবে? পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন যে, কিসমিসে রয়েছে অধিক পরিমাণ ফাইবার যেগুলো আমাদের খাবার হজম করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে পাশাপাশি পেটকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও কিসমিসের রয়েছে অধিক পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট যেগুলো পাকস্থলীর বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

তাই আমরা যদি আমাদের পাকস্থলের ব্যাকটেরিয়া গুলোকে কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট এর মাধ্যমে ধংস করতে চায় তাহলে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস উত্তম। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন যে তার শরীর অনেক দুর্বল তবে সে তার শরীরের দুর্বলতা কমানোর জন্য এবং দ্রুত শরীরে এনার্জি ফিরে আনার জন্য ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম কিসমিস খেতে পারেন।

এছাড়া পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস খাওয়ার কারণে আমাদের হার্ট  সুস্থ থাকে। কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে যার কারণে স্ট্রোক হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ব্লক জনিত সকল জটিল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

তাহলে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে প্রতিদিন যদি 40 থেকে 50 গ্রাম কিসমিস খায় তবেই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তাই আপনার নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় কিসমিস যুক্ত করুন।

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

কিসমিস ভেজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা গুলো হল,
  • রাতে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস সকালে খাওয়ার কারণে কিসমিসে উপস্থিত আয়রন এবং অধিক পরিমাণ লৌহ শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় তখন শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয় কিন্তু যদি প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস খাওয়া হয় তবে কিসমিসে উপস্থিত  লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  • অধিক পরিমাণ ফাইবার তো রয়েছে কিন্তু সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার কারণে এটি প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে যেতে পাকস্থলীতে গিয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।
  • কিসমিসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন বি ভিটামিন সি রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের প্রকোপ থেকে রক্ষা করে।
  • কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের উচ্চ চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  কিসমিসে উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে যার কারণে হার্টের সঠিক মত রক্ত সরবরাহ হয় যার কারণে হার্ট সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক থাকে।
  • কিসমিস উপস্থিত পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহকের নিয়ন্ত্রণে রাখে যার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে যার কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে যে ধরনের তরকারি রান্না করে খায় তার মাধ্যমে আমাদের শরীরে অধিক পরিমাণ সোডিয়াম জমা হয় কিন্তু কিসমিস আমাদের শরীরের সোডিয়ামকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরের শক্তি বা এনার্জি যোগাতে কিশমিশে উপস্থিত ক্যালসিয়াম শর্করা গ্লুকোজ এবং ফ্রূকটোজ খুব উপকারী।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কিসমিস উপস্থিত এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • কিসমিসের দ্রবণীয় ফাইবার লিভারের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায়।
  • কিসমিসে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্ট চোখের সানি পড়া চোখে ঝাপসা দেখা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  •  ভেজানো কিসমিসে উপস্থিত ব্রণ অনিদ্রা জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত উপশম ঘটায়।
  • কিস মিসে উপস্থিত ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিংক ক্যারোটিয়ান ত্বককে পুষ্টি যোগায় যার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং রোদে পরা ভাব থেকে মুক্ত থাকে।
  • কিসমিস ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে ইনসুলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

লেখক এর বক্তব্য-কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়। শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়

আজকের আর্টিকেলটিতে আমি শুকনো কিসমিস খেলে ত্বক ফর্সা হয় এবং শুকনো কিসমিস খেলে আমাদের কি কি উপকার হয় এ সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। চেষ্টা করেছি আপনাদেরকে শতভাগ নির্ভুল তথ্য প্রদান করার আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

যদি আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। পরবর্তী আর্টিকেল পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন ধন্যবাদ


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url