ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স, বানানোর নিয়ম,দাম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ল্যাকটোজেন ১ খাওয়ার ও বানানোর নিয়মপ্রিয় পাঠক বন্ধু আপনি কি ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স, ল্যাকটোজেন ২ দাম কত জানেন?  যদি না জেনে থাকেন তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই আজকের পর্বটির আলোচনার মূল বিষয় হলো ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম এবং ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম।

ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স, বানানোর নিয়ম,দাম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি আরো জানতে পারবেন ল্যাকটোজেন ২ দাম কত  ল্যাকটোজেন ২ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আপনি যদি ল্যাক্টোজেন ২ ফর্মুলা দুধ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানতে আগ্রহী থাকেন তাহলে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

পোস্ট সুচিপত্রঃ ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স - ল্যাকটোজেন ২ দাম কত

.

ভুমিকা - ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম

Nestle কোম্পানির  ল্যাকটোজেন ২  গুড়া দুধ বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য খুব উপকারী এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি খাদ্য উপাদান।  প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ল্যাকটোজেন ২  গুড়া দুধ রাখলে শিশুর স্বাস্থ্য হেলদি হয় এবং মাংসপেশীর গঠন দৈহিক গঠন দীর্ঘ হয়। তাই আপনার শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিনের  খাদ্য তালিকায় ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম মেনে খাওয়াতে হবে।

আপনি যদি ল্যাকটোজেন ২খাওয়ার নিয়ম ল্যাকটোজেন ২বানানোর নিয়ম না জেনে থাকেন তাহলে আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি জানতে পারবেন ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম,ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম,ল্যাকটোজেন ২ দাম কত।

ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স

একটি শিশু জন্মের পরে তার প্রধান খাদ্য হলো মায়ের বুকের শাল দুধ বা গাজা দুধ। মায়ের বুকের দুধের কোন বিকল্প নেই কিন্তু তবুও বাচ্চাকে জীবিত রাখার জন্য তার জন্য প্রয়োজন ফর্মুলেটর দুধ।  বাচ্চার জন্মের প্রথম থেকে ছয় মাস পর্যন্ত তার জন্য রয়েছে আলাদা ল্যাকটোজেন 1 ফর্মুলেটর দুধ।

যখন আপনার বাচ্চার বয়স ৬ মাস পার হয়ে যাবে তখন আপনার বাচ্চাকে আর ল্যাকটোজেন ১ দুধ খাওয়ানো যাবে না কারণ ল্যাকটোজেন ১ দুধ শুধুমাত্র ৬মাস পর্যন্তই শিশুকে খাওয়ানো কার্যকরী। ৬ মাসের পরবর্তীতে আর ল্যাকটোজেন ১ দুধের কোন কার্যকারিতা শিশুর শরীরে লাগে না।

বাচ্চার বয়স ৬ মাস পার হলে তার প্রয়োজন অধিক পরিমাণ পুষ্টি, অধিক পরিমাণ ভিটামিন, অধিক পরিমাণ খনিজ উপাদান। ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স হলো বাচ্চার ৬ - ১২ মাস পর্যন্ত। আশা করছি আপনি জেনে গেছেন যে ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার বয়স কত কোন সময় থেকে আপনি আপনার বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ানো শুরু করতে পারবেন।

ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম

বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম।  যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ল্যাকটোজেন ২ খাওয়াতে না পারেন তাহলে আপনার বাচ্চার শরীরের পুষ্টির অভাব দেখা দিবে।  বাচ্চা শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি না থাকলে রক্তশূন্যতা ডায়রিয়া পাতলা পায়খানা জন্ডিস জনিত রোগ হবে।

সাধারণভাবেই বাচ্চার বয়স যখন 6 মাস হবে তখন বাচ্চার খিদে অধিক পরিমাণ বেড়ে যাবে সেই অনুযায়ী বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ দুধ খাওয়ার পরিমাণও বাড়াতে হবে। বাচ্চা ৬ মাস পরে অন্যান্য খাবার যেমন খিচুড়ি,মুরগীর কলিজা, ডিম সেদ্ধ খাওয়ানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ দিয়ে থাকে এতে বাচ্চাড় শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। আপনার বাচ্চা যদি ৬ মাস পার হওয়ার পরে তোলা খাবার খায় এবং ল্যাকটোজেন ২ দুধ খাওয়াতে চান তাহলে দিনে ৮-১০ বার বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ দুধ খাওয়াবেন।

এখানে আরেকটি কথা,বাচ্চার বয়স ৬ মাস পার হওয়ার পরে বাচ্চার খিদে কিন্তু বেড়ে যায় তাই আপনি যদি ৮-১০ বার খাওয়ানোর পরেও দেখেন যে আপনার বাচ্চার খিদা লাগছে তবে অবশ্যই আপনার বাচ্চাকে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে এবং চেষ্টা করবেন নিজের বুকের দুধ খাওয়ানোর। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে বাচ্চার শরীরে অ্যান্টি বডি উৎপন্ন হবেএবং ইমিউনিটি সিস্টেম স্ট্রং হবে।

ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম

ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম জানা। আপনি যদি সঠিক নিয়মে ল্যাকটোজেন ২ বানাটে না পারেন তাহলে আপনার বাচ্চা শরীরে ল্যাকটোজেন দুধের কোন পুষ্টিগুণ কাজে লাগবে না। তাই ল্যাকটোজেন ২ দুধ বানানোর পূর্বে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম।

ল্যাক্টোজেন ২ দুধ বানানোর জন্য প্রথমেই আপনাকে আপনার হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে কারণ আপনার হাতের কোন জীবাণু যদি বাচ্চার পেটে প্রবেশ করে তাহলে বাচ্চার বদহজম, পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা জনিত সমস্যা দেখা দিবে তাই সর্বপ্রথম আপনি আপনার হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিবেন।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের জ্বরের সাপোজিটরি দেওয়ার নিয়ম

বাচ্চার জন্য ল্যাকটোজেন ২ গুড়া দুধের ফর্মুলা দুধ তৈরি করার জন্য  প্রথমে পরিষ্কার পানি ৭ থেকে ৮ মিনিট ফুটিয়ে নিবেন। ফুটন্ত পানি ঠান্ডা করে তার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ গুড়া দুধ মিশিয়ে ভালোভাবে ফর্মুলেটেড দুধ তৈরি করে নিবেন এবং ফিডারে করে আপনার বাচ্চাকে খাওয়াবেন আপনি চাইলে চামচে করেও খাওয়াতে পারেন।

বাচ্চার জন্য ফর্মুলা দুধ তৈরি করার সময় সব সময় খেয়াল রাখবেন যে ৩০ মিলিটার পানির জন্য ১ চামচ গুঁড়া দুধ ব্যবহার করা।  অর্থাৎ আপনি যদি ৯০মিলি লিটার পানির গুড়া দুধ তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে তিন চামচ গুঁড়া দুধ দিয়ে দুধ তৈরি করে নিতে হবে।

ল্যাকটোজেন ২ ফলোআপ ফর্মুলা দুধ কখনোই গরম পানিতে অথবা ঠান্ডা পানিতে তৈরি করবেন না এতে দুধের উপকারী উপাদান গুলো নষ্ট হয়ে যায়। ল্যাকটোজেন ২ এর উপকারী উপাদান গ্লাস এবং ফসফেট গরম পানিতে গলে যায় তাই গরম পানিতে কখনোই ল্যাকটোজেন ২ দুধ তৈরি করা যাবে না।

ল্যাকটোজেন ২ দাম কত - Lactogen 2 price in Bangladesh

অনেকেই রয়েছেন যারা জানে না ল্যাকটোজেন ২ দাম কত। ল্যাকটোজেন ২ হলো নেস্টলে কোম্পানির ফর্মুলেটেড দুধ। বাজারে অনেক দোকানে ল্যাকটোজেন ২ এর দাম 20-30 টাকা কম বেশি হতে পারে কিন্তু অরিজিনালল্যাকটোজেন ২ দাম কত চলুন জেনে নিই,

  • ল্যাকটোজেন ২ - ৩৫০ গ্রাম - ৬৭০ টাকা
  • ল্যাকটোজেন ২ - ৪০০ গ্রাম - ৮৫০ টাকা
  • ল্যাকটোজেন ২ - ১৮০০ গ্রাম - ৪৩২০ টাকা
  • ল্যাকটোজেন ২ - ১৩০০ গ্রাম - ২৮৯০ টাকা

ল্যাকটোজেন ২ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ল্যাকটোজেন ২ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রায় নেই বললেই চলে কারণ এখন পর্যন্ত কোন শিশুর শরীরে ল্যাকটোজেন 2 এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি বলে জানা গেছে। তবে আপনি যদি আপনার সন্তানকে সঠিক নিয়ম মেনে ল্যাকটোজেন ২ না খাওয়ান তাহলে অবশ্যই বাচ্চার স্বাস্থ্যে ল্যাকটোজেন ২ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিবে।

তবুও যদি আপনার বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ ফর্মুলাতে দুধ খাওয়ানোর পরে পাতলা পায়খানা বা পেট ব্যথা কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা দেখা দেয় তবে অতিসত্বর ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে দুধ খাওয়ান। চেষ্টা করবেন আপনার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর তাহলে এই সকল সমস্যা হবে না।

লেখক এর শেষ কথা - ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম ও ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম।

আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনার অবশ্যই জানতে পারলেন ল্যাকটোজেন ২ দাম কত, ল্যাকটোজেন ২ খাওয়ার নিয়ম, ল্যাকটোজেন ২ বানানোর নিয়ম। আপনিও উপরোক্ত নিয়ম মেনে আপনার বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন ২ খাওয়াবেন। আপনার বাচ্চার জন্য যে কোন রকমের দুধ খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন কারণ ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া কখনোই শিশুদের ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানতে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url