কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালাপোড়া করেপ্রিয় পাঠক বন্ধু আপনি কি জানেন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়? যদি আপনি না জেনে থাকেন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় তাহলে আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় এবং রাতে ঘুম না হলে কি করনীয়।

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

আজকেরে আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ঘুম কম হলে কি হয় কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম বেশি হয় এবং কি খেলে ঘুম কম হয়। আপনি যদি অনিদ্রা জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আজকের দিন মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন কারণ আজকে আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে জানাবো রাতে ঘুম না হলে করণীয়।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়,কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

.

ভুমিকা - কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

টাইটেল দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে আজকের আলোচনার বিষয় হলো কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়। শুধু ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় এমন নয় আমাদের খাদ্য তালিকা এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আমরা প্রতিনিয়ত খাই যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে আজকে আমরা জানব যে কি খেলে ঘুম কম হয়।

বিশ্বের প্রায় ৬০% মানুষ এর সমস্যা হলো অনিদ্রা। আমরা প্রায় সকলেই রাতে দেরি করে ঘুমাই কিন্তু আমরা কখনই ভেবে দেখি না যে অনিদ্রা বা রাতে দেরি করে ঘুমানো আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়াকে মেডিকেল সাইন্স ভাষায় ইনসোমিয়া বলা হয়।এই ইনসোমিয়া পরবর্তীতে ক্রনিক ফুসফুস ক্যান্সার এবং ক্রনিক লিভার ড্যামেজ এর কারণ হতে পারে।

মানুষের প্রকৃত বন্ধু হলো তার শরীর অর্থাৎ আপনি যদি আপনার শরীরকে সুস্থ না রাখতে পারেন তাহলে আপনি কখনোই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন না। শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং ভালো রাখার জন্য আমাদেরকে জানতে হবে যে শরীরের কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায় এবং রাতে ঘুম না হলে করণীয় কি।

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। আমার সারাদিনে যে সকল কাজ করি সবকল কাজের প্রেসার পড়ে আমাদের মস্তিষ্কের ওপর এবং প্রচুর পরিমাণ নিউরোট্রক্সিন ক্ষরণ হয়। এই যে সারাদিন এত চিন্তাভাবনা কাজের কারণে নিউটক্সিন খরচ হয় এগুলো তো পুষিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। যদি আপনি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুমান তখন আপনার মস্তিষ্ক নতুন করে নিউরোট্রক্সিন সংগ্রহ করা শুরু করে।

আপনি যদি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা না ঘুমান তাহলে আপনার মস্তিষ্কে নিউরোটক্সিনের সংকট দেখা দিবে এর ফলস্বরূপ আপনার মাথাব্যথা,ক্রনিক কিডনি ড্যামেজ, ইনসোমিয়া, ক্রনিক ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়ার জন্য আমাদেরকে জানতে হবে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়।

আরও পড়ুনঃ  কোন ভিটামিনের অভাবে পুরুষাঙ্গে জ্বালাপোড়া হয় 

মানব শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে হলে শরীরে খাদ্যের ছয়টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা লাগবে যদি কোন কারণে আপনার শরীরে কোন একটি উপাদান কম হয় তখন আপনার শরীরে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দিবে। রাতে ঘুম কম হওয়ার জন্য আমাদের শরীরের ভিটামিন দায়ী। এখন আমাদেরকে জানতে হবে যে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় এবং সেই ভিটামিন জনিত খাবার খেতে হবে যেন আমাদের রাতে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম হয়।

এখন অনেক সাধারণ মানুষই জানে না যে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়। মানব শরীরের যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি৬ পাইরেমিডিয়ান এর অভাব দেখা দেয় তখন রাতে ঘুম কম হয়। ভিটামিন ডি মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন এবং সেরেটোনেন হরমোন মিশ্রণ কে উদ্দীপ্ত করে এর ফলে মাথার নার্ভ শীতল হয় এবং প্রশান্তির ঘুম হয়।

ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বেশ হয় মস্তিষ্কের নার্ভে নিউরোট্রক্সিন নামক হরমোন উৎপাদন করে এবং এই হরমোন রাতে ঘুমানোর জন্য মাথার নাড়কে উদ্দীপিত করে । আপনার শরীরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বীজ হয় না থাকে তাহলে আপনার রাতে ঘুম কম হবে।প্রিয় পাঠক বন্ধু আমার ব্যক্তিগত অভিমত থেকে বলছি শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য যেমন খাবার প্রয়োজন ঠিক তেমনি পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম খুবই প্রয়োজন তাই আপনি যেই কাজেই ব্যস্ত থাকেন না কেন দিনে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাবেন তাহলে আপনি সুস্থ থাকবেন।

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম বেশি হয়

মানব শরীরের কাজ করার সিস্টেমকে স্বাভাবিক রাখার জন্য যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ঘুম শরীরের কাজ করার সিস্টেমের জন্য খুব ক্ষতিকর। অনেকে ভাবেন যে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম বেশি হয় কিন্তু না ভিটামিনের অভাবে কখনোই শরীরে ঘুম বেশি হয় না। আপনার তখনই ঘুম বেশি হবে যখন আপনার শরীর দুর্বল, পুষ্টির অভাব এবং ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাবে।

আপনারও যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও ঘুম পায়, শরীরের বেশিরভাগ সময়ই চোখে ঘুম লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার শরীর অনেক দুর্বল তার জন্য আপনাকে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। শরীরের কাজ করার সিস্টেমকে সুস্থ রাখার জন্য আপনাকে খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন খাদ্যের ছয়টি উপাদান উপস্থিত রাখা লাগবে।

কি খেলে ঘুম বেশি হয়

যে সকল ব্যক্তিদের অনিদ্রা ইনসোমিয়া রয়েছে তারা প্রায় সময় জানতে চাই যে কি খেলে ঘুম বেশি হয়। আপনাদেরকে আগেই বলে রাখি অনিদ্রা বা রাতে ঘুম না হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে যেমন দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন, রাত জাগে মুভি দেখা মে সিরিজ দেখা। তাই রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর জন্য এই সকল অভ্যাসে আপনাকে পরিত্রান করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে

এখন আলোচনার বিষয় হলো কি খেলে ঘুম বেশি হয়। অনেকের অভ্যেস রয়েছে রাতে চা কফি খাওয়ার কিন্তু রাতের বেলা চা কফি খাওয়ার কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। চা এবং কফিতে উপস্থিত ক্যাফেইন মস্তিষ্কের নিউরটক্সিন এবং মেলাটনিন এর ক্ষরণ বন্ধ করে দিতে ভূমিকা রাখে তার জন্য আপনার রাতে ঘুম হয় ।

রাতে ঘুম বেশি হওয়ার জন্য আপনাদেরকে রাতের খাবার খুব তাড়াতাড়ি খেতে হবে এবং সন্ধ্যাবেলায় কলা, অ্যাপেল টক দই, খেজুর, কিসমিস, মাশরুম, দুধ, ডিম, স্ট্রবেরি, চিনা বাদাম, কাঠবাদাম খেতে হবে। যে সকল খাবারে ভিটামিন বি৬ এর উপস্থিতি বেশি যেমন টমেটো, মাল্টা, স্ট্রবেরি, পালং শাক ইত্যাদি খেলে ঘুম বেশি হয়।

কি খেলে ঘুম কম হয় - কি খেলে ঘুম আসে না

আমরা সকলেই জানতে চাই যে কি খেলে ঘুম কম হয় কিন্তু আমরা যে আমাদের খাদ্য তালিকায় নিজেরাই এমন খাবার রেখেছি যেগুলো খেলে ঘুম কম হয়। এখন নিশ্চয়ই আপনি ভাবছেন যে আমরা কি খাই যেগুলো খাওয়ার কারণে ঘুম কম হয়। তাহলে চলুন এখন জেনে নেই কি খেলে ঘুম কম হয়।

কি খেলে ঘুম কম হয়ঃ চা,কফি, মিষ্টি জাতীয় খাবার, অধিক তেল চর্বি জাতীয় খাবার, অ্যালকোহল,ফাস্টফুড, ধূমপান, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার নিয়ম গরুর মাংস খাসির মাংস খেলে শরীর ওজন বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত ওজন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার প্রধান কারণ।

ভালো ঘুমের জন্য কি করা উচিত 

আমাদের শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং হেলদি রাখার জন্য প্রয়োজন ভালো ঘুম এবং এই ভালো ঘুমের জন্য আমাদেরকে কিছু পরিশ্রম করা লাগবে। দেখবেন যে সকল ব্যক্তির সারাদিন মাঠে কাজ করে রিক্সা চালায় তাদের কিন্তু রাতে ঘুমের কোন সমস্যা হয় না কারণ তারা অনেক পরিশ্রম করে তাদের শরীরে ঘুমের প্রয়োজন তাদের মস্তিষ্কে অক্সিটক্সিন, মেলাটোনেন, সেরাটনিন এবং নিউরোটক্সিন ক্ষরণ।

তাই ভালো ঘুমের জন্য আমাদেরকে কাইফ পরিশ্রম করতে হবে। রাতে ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার রাত আটটার আগেই খেয়ে নিতে হবে যেন খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। রাতে ভালো ঘুমের জন্য অন্ধকার রুমে ঘুমাতে হবে যে রুমে কোন রকমের আলো থাকবে না।

রাতে ভালো ঘুমের জন্য ল্যাপটপ মোবাইল ডেক্সটপ বিছানা থেকে দূরে রাখতে হবে যেন মস্তিষ্কে কোনো রকমের ব্যাঘাত না ঘটে। ভালো ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য পানি পান করতে হবে রাতে ঘুমানোর পূর্বে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ঘুমাতে হবে।

রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেললে নার্ভের চাপ পড়ে যার ফলস্বরূপ মাথার পেছনে ব্যথা হয় মাইগ্রেনের ব্যথা হয় এবং রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে। দীর্ঘদিন যাবত অনিদ্রা ইনসোমিয়াতে ভুগলে কিডনি লিভার ফুসফুস ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে এবং পাকস্থলীতে এক ধরনের ক্ষতিকর হরমোন সঞ্চয় হতে থাকে যেটা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরে গেছেন যে ভালো ঘুমের জন্য কি করা উচিত। আপনি যদি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চান তাহলে অবশ্যই আট ঘণ্টা ঘুমাবেন। ঘুমানোর জন্য সঠিক সময় হল রাত দশটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত।

লেখক এর শেষ কথা - কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

প্রিয় পাঠক বন্ধু আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর জন্য কি করা উচিত এবং কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম বেশি হয় বিস্তারিত জানিয়েছি এই বিষয় সম্পর্কে। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

আপনি যদি অনিদ্রা মানসিক চাপ ডিপ্রেশন ইনসোমিয়া তে ভোগে ন তাহলে অবশ্যই আজকের দিকনির্দেশনা গুলো মেনে চলবেন এবং প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। নিজের শরীরকে স্বাভাবিক এবং সুস্থ রাখার দায়িত্ব একমাত্র নিজের তাই নিজেই নিজেকে সুস্থ রাখুন। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য জানতে নিয়মিত আমার স্বাগতম বিডি ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্বাগতম বিডিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url